রাজ্য প্রশাসন ও রাজ্য-জনপালনকৃত্যক

রাজ্য প্রশাসন ও রাজ্য-জনপালনকৃত্যক

অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

১। অঙ্গরাজ্যের রাজ্যপালদের কার্যকাল কত বছর?
উত্তর : অঙ্গরাজ্যের রাজ্যপালদের কার্যকাল ৫ বছর।

২। অঙ্গরাজ্যের শাসন বিভাগীয় প্রধান কে?
উত্তর : অঙ্গরাজ্যের শাসন বিভাগীয় প্রধান হলেন রাজ্যপাল।

৩। রাজ্যপাল কাকে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে নিয়ােগ করেন ?
উত্তর : রাজ্যপাল বিধানসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বা মাের্চার নেতা বা নেত্রীকে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে নিয়ােগ করেন।

৪। রাজ্যপাল কার পরামর্শে রাজ্য আইনসভার অধিবেশন আহ্বান, স্থগিত বা আইনসভা ভেঙে দিতে পারেন?
উত্তর : মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শে রাজ্যপাল রাজ্য আইনসভার অধিবেশন আহবান, স্থগিত বা আইনসভা ভেঙে দিতে পারেন।

৫। রাজ্যপালের হাতে অর্পিত বিশেষ ক্ষমতাটির নাম কী ?
উত্তর : রাজ্যপালের হাতে অর্পিত বিশেষ ক্ষমতাটির নাম হল স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা।

৬। রাজ্য মন্ত্রীসভায় কয় ধরনের মন্ত্রী থাকেন?
উত্তর : রাজ্য মন্ত্রীসভায় তিন ধরনের মন্ত্রী থাকেন।

৭। রাজ্য মন্ত্রীসভার শীর্ষস্থানে কে অবস্থান করেন ?
উত্তর : রাজ্য মন্ত্রীসভার শীর্ষস্থানে কে অবস্থান করেন।

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন ১। রাজ্যপালকে নির্বাচিত না করে মনােনীত করার কারণ কী?
উত্তর : ভারতে কেন্দ্রের মতাে রাজ্যগুলিতেও মন্ত্রীসভাশাসিত শাসনব্যবস্থা আছে। মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রীসভাই অঙ্গরাজ্যের প্রকৃত শাসক। রাজ্যপাল নিয়মতান্ত্রিক শাসক প্রধান। তার মনােনীত হওয়াই সমীচীন। অন্যথায় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তার অকাম্য প্রতিদ্বন্দ্বিতার সৃষ্টি হবে। নির্বাচিত রাজ্যপাল। সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক দলের ক্রীড়নকে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ভারতের কেন্দ্রীভূত প্রশাসনিক কাঠামােয় রাজ্যপালকে কেন্দ্রের প্রতিনিধির ভূমিকা পালন করতে হয়। এই অবস্থায় রাজ্যপালকে নির্বাচিত করা জটিলতা সৃষ্টি এবং অর্থের অপব্যয় মাত্র।

প্রশ্ন ২। রাজ্যপাল কোন্ কোন্ ক্ষেত্রে রাজ্যবিলকে রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য পাঠাতে বাধ্য ?
উত্তর : রাজ্যপাল ইচ্ছা করলে যে-কোনাে রাজ্যবিলকে রাষ্ট্রপতির সম্মতির জন্য পাঠিয়ে দিতে পারেন। ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিগ্রহণ, হাইকোর্টের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ প্রভৃতি কয়েকটি ক্ষেত্রে রাজ্যপালকে বাধ্যতামূলকভাবে রাজ্যবিল রাষ্ট্রপতির অনুমােদনের জন্য পাঠাতে হয়।

প্রশ্ন ৩। অঙ্গরাজ্যের মন্ত্রীসভা কীভাবে গঠিত হয় ?
উত্তর : রাজ্যপাল সাধারণত বিধানসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে নিযুক্ত করেন। এবং মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে অন্যান্য মন্ত্রীদের নিযুক্ত করেন। বিধানমণ্ডলের সদস্য নন এমন কোনাে ব্যক্তি মন্ত্রী হিসাবে নিযুক্ত হলে, ছ-মাসের মধ্যে তাকে বিধানমণ্ডলের যে-কোনাে কক্ষের সদস্য হতে

প্রশ্ন ৪। রাজ্য মন্ত্রীসভায় কয় শ্রেণির মন্ত্রী থাকেন?
উত্তর : রাজ্য মন্ত্রীসভা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার মতাে তিন শ্রেণির মন্ত্রী নিয়ে গঠিত হয় ? (১) ক্যাবিনেট মন্ত্রী, (২) রাষ্ট্রমন্ত্রী (৩) উপমন্ত্রী, ক্ষেত্রবিশেষে একজন উপমুখ্যমন্ত্রী থাকেন।

প্রশ্ন ৫। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মন্ত্রীসভার সম্পর্ক আলােচনা করাে।
উত্তর : মুখ্যমন্ত্রীকে কেন্দ্র করেই রাজ্যের মন্ত্রীসভার উত্থানপতন সূচিত হয়। মন্ত্রীসভার অন্যান্য সদস্যগণ মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে রাজ্যপাল কর্তৃক নিযুক্ত হন এবং অপসারিতও হতে পারেন। তিনি মন্ত্রীসভার বৈঠক আহ্বান করেন, বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন এবং সভার সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাঁর কর্তৃত্ব কায়েম করেন। তিনি মন্ত্রীসভা তথা রাজ্যের শাসন বিভাগের মূল স্তম্ভ। তিনি রাজ্যপালের সঙ্গে মন্ত্রীসভার যােগাযােগ রক্ষা করেন। মুখ্যমন্ত্রীর বিরাগভাজন হয়ে মন্ত্রীসভায় টিকে থাকা কোনাে মন্ত্রীর পক্ষে সম্ভব হয় না।

প্রশ্ন ৬। রাজ্যপালের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর সম্পর্ক আলােচনা করাে।
উত্তর : সাধারণত বিধানসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকেই রাজ্যপাল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে নিযুক্ত করেন। মুখ্যমন্ত্রী হলেন রাজ্যপালের মুখ্য পরামর্শদাতা। তিনি মন্ত্রীসভার সঙ্গে রাজ্যপালের সংযােগসাধন করেন। মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শ অনুসারে রাজ্যপাল মন্ত্রীসভার কোনাে সদস্যকে অপসারণ করতে পারেন এবং বিধানসভা ভেঙে দিতেও পারেন। প্রশ্ন ৭। রাজ্যের আইনসভার সদস্য নন এমন কোনাে ব্যক্তিকে রাজ্যপাল মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে নিয়ােগ করতে পারেন কী ? উত্তর রাজ্যের আইনসভার সদস্য নন এমন কোনাে ব্যক্তিকে রাজ্যপাল মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে নিযুক্ত করতে পারেন। তবে সংশ্লিষ্ট মুখ্যমন্ত্রীকে ছ-মাসের মধ্যে রাজ্যের আইনসভার যে-কোনাে কক্ষের সদস্য হতে হবে।

প্রশ্ন ৮। রাজ্যের মন্ত্রীসভার যৌথ দায়িত্বশীলতা বলতে কী বােঝায়?
উত্তর : রাজ্য সরকারের যে-কোনাে নীতি বা কার্যক্রমের জন্য মন্ত্রীসভার সকল সদস্যই সমভাবে দায়ী। কোনাে বিশেষ মন্ত্রীর বিরুদ্ধে বিধানসভায় নিন্দাসূচক প্রস্তাব পাস হলে বা গুরুত্বপূর্ণ কোনাে সরকারি নীতি বিধানসভায় পরাজিত হলে সমগ্র মন্ত্রীগণ ক্ষমতাচ্যুত হয়।

প্রশ্ন ৯। রাজ্যপালের আইন বিষয়ক ক্ষমতা আলােচনা করাে।
উত্তর : রাজ্যপালের সম্মতি ছাড়া কোনাে রাজ্যবিল আইনে পরিণত হয় না। রাজ্য আইনসভায় পাস হওয়া বিলে তিনি সম্মতি দিতেও পারেন আবার নাও দিতে পারেন। কোনাে বিলে রাজ্যপাল সম্মতি না দিলে রাজ্য আইনসভা দ্বিতীয় বার বিলটিকে পাস করতে পারে এবং তখন রাজ্যপাল সম্মতি দিতে বাধ্য। রাজ্যপাল যে-কোনাে রাজ্যবিলকে রাষ্ট্রপতির অনুমােদনের জন্য প্রেরণ করতে পারেন।

প্রশ্ন ১০। রাজ্যপাল পদে প্রার্থী হবার যােগ্যতা কী কী?
উত্তর : রাজ্যপাল পদে নিযুক্ত হবার জন্য কোনাে ব্যক্তিকে ভারতের নাগরিক এবং ৩৫ বছরবয়স্ক হতে হয়। তিনি সরকারের অধীনে কোনাে লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত থাকতে পারেন না।

প্রশ্ন ১১। অঙ্গরাজ্যের রাজ্যপালেরা কী স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা ভােগের অধিকারী?
উত্তর : সংবিধানের ২৩৯(২) ধারা অনুযায়ী রাজ্যপাল মন্ত্রীসভার পরামর্শ ছাড়া স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়ােগ করতে পারেন। আবার ১৬৩ধারা অনুযায়ী অসমের রাজ্যপাল অসমের পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষেত্রে এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের রাজ্যপালগণ স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়ােগ করতে পারেন। অন্য রাজ্যের রাজ্যপালগণ মন্ত্রীসভার পরামর্শ অনুযায়ী চলতে বাধ্য থাকেন।

প্রশ্ন ১২। সংবিধানের ১৬৭ ধারা অনুযায়ী কোনাে অঙ্গরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালকে কী তথ্য জানাতে বাধ্য ?
উত্তর : মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের শাসন পরিচালনা এবং আইন সম্পর্কিত মন্ত্রীপরিষদের সকল সিদ্ধান্ত রাজ্যপালকে জানাতে বাধ্য। তা ছাড়া শাসন পরিচালনা ও আইনের প্রস্তাব সম্পর্কে রাজ্যপাল যা জানতে চান তাও মুখ্যমন্ত্রী জানাতে বাধ্য থাকেন। মন্ত্রীপরিষদে আলােচনা করা হয়নি এমন কোনাে বিষয়ে মন্ত্রী যদি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকেন তাহলে সেই বিষয়টি মন্ত্রীপরিষদের বিবেচনার জন্য পেশ করতে রাজ্যপাল নির্দেশ দিতে পারেন।

প্রশ্ন ১৩। রাজ্য আইনসভার প্রতি কক্ষের অধিবেশন কে আহ্বান করেন? কতদিন অন্তর সেই অধিবেশন আহ্বান করতে হয়?
উত্তর : রাজ্য আইনসভার প্রতি কক্ষের অধিবেশন আহ্বান করেন রাজ্যপাল। অধিবেশন এরূপভাবে আহ্বান করতে হয় যাতে এক অধিবেশন শেষ ও পরবর্তী অধিবেশন শুরুর মধ্যে ছয় মাসের বেশি সময় অতিক্রান্ত না হয়।

প্রশ্ন ১৪। ভারতীয় কৃত্যকগুলিকে কয়টি ও কী কী ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে?
উত্তর : ভারতীয় কৃত্যকগুলিকে তিনভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। যথা—১) কেন্দ্রীয় কৃত্যকসমূহ (২) রাজ্য কৃত্যকসমূহ এবং (৩) সর্বভারতীয় কৃত্যকসমূহ।

প্রশ্ন ১৫। রাজ্য জনকৃত্যক কমিশন কীভাবে গঠিত হয়, এর সভাপতি ও সদস্যদের কে নিয়ােগ করেন?
উত্তর : রাজ্য জনকৃত্যক কমিশন একজন সভাপতি ও অন্যান্য কয়েকজন সদস্য নিয়ে গঠিত হয়। কমিশনের সদস্য সংখ্যা সংবিধানে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়নি। এই সংখ্যা রাজ্যপাল মন্ত্রীপরিষদের পরামর্শক্রমে নির্ধারণ করে থাকেন। অঙ্গরাজ্যের রাজ্যপাল কমিশনের সভাপতি ও অন্যান্য সদস্যদের নিয়ােগ করেন।

প্রশ্ন ১৬। সচিবালয় বলতে কী বােঝ?
উত্তর : খ্যাতনামা ভারতীয় জনপ্রশাসনবিদ ড. মাহেশ্বরীর মতে সচিবালয় হল সরকারের স্নায়ুকেন্দ্র। যার মাধ্যমে সরকারি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও নীতি সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।

প্রশ্ন ১৭। সচিব কী কী দায়িত্ব পালন করেন?
উত্তর : সচিবরা হলেন একজন উচ্চপদস্থ স্থায়ী সরকারি কর্মচারী বা আমলা। সাধারণত একজন সচিবের ওপর একাধিক বিভাগের দায়িত্ব ন্যস্ত থাকে। অর্থাৎ সচিব হলেন মন্ত্রীর প্রধান পরামর্শদাতা যিনি রাজনৈতিক প্রধান কর্তৃক গৃহীত নীতি ও সিদ্ধান্ত সম্পাদনের জন্য দায়িত্বশীল থাকেন এবং আইনসভার কমিটির কাছে তার বিভাগকে উপস্থাপিত করেন।

প্রশ্ন ১৮। জেলা প্রশাসন বলতে কী বােঝ?
উত্তর : জেলা প্রশাসন বলতে বােঝায় জেলা হিসাবে চিহ্নিত এলাকার সরকারি কার্যের পরিচালন ব্যবস্থা।

প্রশ্ন ১৯। মহকুমাশাসক কীভাবে নিযুক্ত হন?
উত্তর : কয়েকটি ব্লক নিয়ে গঠিত হয় মহকুমা। মহকুমার প্রশাসনের প্রধান হলেন মহকুমাশাসক। ভারতীয় প্রশাসন কৃত্যকের তরুণ সদস্যদের মধ্যে থেকে মহকুমাশাসক নিযুক্ত হন। অনেক সময় রাজ্য প্রশাসন কৃত্যক বা রাজ্য জনকৃত্যকের প্রধান সদস্যদের মধ্য থেকেও মহকুমাশাসক নিযুক্ত হন।

প্রশ্ন ২০। পশ্চিমবঙ্গে কবে থেকে ভূমিসংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে? এর ফল কী হয়েছে?
উত্তর : ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দের পর পশ্চিমবঙ্গে ব্যাপক ভূমিসংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। গ্রামীণ ভূস্বামীর পরিবর্তে মাঝারি ও প্রান্তিক চাষিরা এর ফলে উপকৃত হয়েছে। গরিব-শােষিত মানুষরাও তাদের প্রতিনিধি পাঠাতে পারছেন পঞয়েত, পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলাপরিষদে। এর ফলে গ্রাম বাংলায় গণতন্ত্রের অনুপ্রবেশ ঘটছে। গণতন্ত্র বিকশিত হচ্ছে।

প্রশ্ন ২১। রাজ্য জনকৃত্যক কমিশনের নিরপেক্ষতা রক্ষার জন্য কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে?
উত্তর : রাজ্য জনকৃত্যক কমিশনের নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতা সংরক্ষণের জন্য যে যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে সেগুলি হল—(১) সংবিধানে উল্লিখিত নির্দিষ্ট পদ্ধতি ছাড়া কমিশনের সভাপতি বা কোনাে সদস্যকে পদচ্যুত করা যায় না। (২) কমিশনের সভাপতি ও সদস্যদের বেতন ও ভাতা বাবদ ব্যয় রাজ্যের সঞ্চিত তহবিলের ওপর ধার্য ব্যয় হিসাবে বিবেচনা করা হয়। এই ব্যয় ৩২২ ধারা অনুযায়ী রাজ্য আইনসভার অনুমােদন সাপেক্ষ নয়।

প্রশ্ন ২২। ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক (B.D.O) কী কী দায়িত্ব পালন করেন?
উত্তর : বি, ডি, ও, ব্লকের উন্নয়নে উদ্যোগী ভূমিকা গ্রহণ এবং সমগ্র উন্নয়ন পরিকল্পনা রূপায়ণে প্রধান দায়িত্ব পালন করেন। উন্নয়নমূলক কাজে তাকে গ্রামসেবক, গ্রামসেবিকা এবং গ্রামস্তরের কর্মীরা। সহায়তা করেন। ব্লকের বিভিন্ন ধরনের সম্প্রসারণ আধিকারিকের কাজের সমন্বয়সাধন করা বি. ডি. ওর প্রধান কাজ। ব্লকের বিভিন্ন প্রযুক্তি বিভাগ, বিভিন্ন শ্রেণির কর্মীর কাজের তত্ত্বাবধান করা, স্বাস্থ্য ও সমবায়ের বিশেষজ্ঞ কর্মচারীদের কর্মক্ষেত্রের স্থান নির্ধারণ, অধীনস্থ কর্মীদের সম্পর্কে বাৎসরিক রিপাের্ট পেশ প্রভৃতি বি, ডি, ও,-র দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

বর্ণনামূলক প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন ১) রাজ্যপালগণ মনােনীত বা নিযুক্ত হন কেন?
উত্তর : খসড়া সংবিধানে (Draft Constitution) রাজ্যপাল নির্বাচিত করার প্রস্তাব করা হয়েছিল। কিন্তু গণপরিষদে নির্বাচিত রাজ্যপালের পদ্ধতি গৃহীত নয়। রাজ্যপালের নিযুক্তির পথে নিম্নলিখিত যুক্তিগুলি দেখানাে হয় :
(ক) ভারতের মতাে উন্নয়নশীল পশ্চাৎপদ দেশে, ব্যক্তিগত একটি পদের জন্য প্রতিটি রাজ্যে বারে বারে নির্বাচনী ব্যবস্থার ব্যয় বহন করা অযৌক্তিক।
(খ) একটি রাজ্যের সমগ্র নির্বাচকমণ্ডলীর দ্বারা প্রত্যক্ষভাবে যদি একজন রাজ্যপাল নির্বাচিত হন, তাহলে তিনি নিজেকে মুখ্যমন্ত্রী অপেক্ষা অধিক জনপ্রিয় ও ক্ষমতাধর বলে মনে করতে পারেন। কারণ একজন মুখ্যমন্ত্রী মাত্র একটি নির্বাচন কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হন। এই ব্যবস্কায় রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে সংঘাত সৃষ্টি হতে পারে।
(গ) মনে রাখা প্রয়ােজন, একজন রাজ্যপাল, সংসদীয়প্রথা অনুসারে, শুধুমাত্র সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিক প্রধান মাত্র। রাজ্য আইনসভার নিকট দায়িত্বশীল মন্ত্রীসভার হাতেই প্রকৃত শাসন ক্ষমতা ন্যস্ত থাকে।
(ঘ) রাষ্ট্রপতির দ্বারা মনােনীত বা নিযুক্ত রাজ্যপালের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারে।
(ঙ) রাজ্যপালের নির্বাচন পদ্ধতি বিচ্ছিন্নতাবাদী প্রবণতাকে উৎসাহিত করবে। একজন উচ্চাকাঙ্ক্ষী রাজ্যপাল রাজ্যের নাগরিকদের দ্বারা প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচিত হলে, তিনি রাজ্যের স্বাধীনতা ও স্বাতন্ত্রের দাবি জানাতে পারেন এবং এইভাবে কেন্দ্রের সঙ্গে সংঘাত সৃষ্টি হতে পারে। সেজন্য মনে করা হয়, দেশের সামগ্রিক সরকারি ব্যবস্থার স্থায়িত্ব, ঐক্য ও সংহতির স্বার্থে রাজ্যপালগণের মনােনয়নের ব্যবস্থা যুক্তিযুক্ত।

প্রশ্ন ২) রাজ্যপালের আইন সংক্রান্ত ক্ষমতা বর্ণনা করাে।
উত্তর : অঙ্গরাজ্যে রাজ্যপাল আইন বিভাগের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। তিনি আইনসভার অধিবেশন আহ্বান করতে পারেন এবং স্থগিত রাখতে পারেন। আবার মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শ অনুসারে তিনি বিধানসভা ভেঙেও দিতে পারেন।
   যে-সমস্ত রাজ্যে উচ্চকক্ষ অর্থাৎ বিধান পরিষদ আছে সেখানে তিনি শিল্প, সাহিত্য, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি জগতের কৃতী মানুষদের মনােনীত করতে পারেন। তবে এদের সংখ্যা কখনও এক-ষষ্ঠাংশের বেশি হবে না। কোনাে রাজ্যের বিধানসভায় যদি ইঙ্গ-ভারতীয় সম্প্রদায়ের কোনাে প্রতিনিধি না। থাকে তবে তিনি ওই সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে দু-জনকে বিধানসভায় মনােনীত করতে পারেন।
   যে-সমস্ত রাজ্যের আইনসভা দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সেই সমস্ত রাজ্যের আইনসভার উভয় কক্ষের যৌথ অধিবেশন আহ্বান করার অধিকার রাজ্যপালের আছে। রাজ্যপালের সম্মতি ছাড়া কোনাে বিল আইনে পরিণত হয় না। অর্থবিল ছাড়া অন্য বিলের ক্ষেত্রে তিনি সম্মতি দিতেও পারেন, নাও দিতে পারেন অথবা আইনসভার কাছে পুনর্বিবেচনার জন্য ফেরত পাঠাতে পারেন। তবে আইনসভায় দ্বিতীয়বার বিলটি পাস হলে রাজ্যপাল তাতে স্বাক্ষর প্রদানে বাধ্য থাকেন। অর্থবিলের ক্ষেত্রে তিনি স্বাক্ষর দানে বাধ্য। সংবিধানের ২১৩ নং ধারা অনুসারে বিধানসভার অধিবেশন বন্ধ থাকাকালীন রাজ্যপাল অধ্যাদেশ (Ordinance) জারি করতে পারেন। এই অধ্যাদেশ আইনের ন্যায় কার্যকর হয়। পরে বিধানসভায় গৃহীত হলে সেটি আইনে পরিণত হয়। রাজ্যপাল প্রয়ােজন মনে করলে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিল যেগুলির সঙ্গে সংবিধানের ব্যাখ্যা জড়িত বা হাইকোর্টের মানমর্যাদা জড়িত সেই সমস্ত বিল রাষ্ট্রপতির বিবেচনার জন্য তার কাছে প্রেরণ করতে পারেন।

প্রশ্ন ৩) রাজ্যপালের পদমর্যাদা আলােচনা করাে।
উত্তর : রাজ্যের সাংবিধানিক এবং আলংকারিক প্রধানরূপে রাজ্যপালের পদের যথেষ্ট মর্যাদা আছে। স্বাধীনতা লাভের পর থেকে বিশেষত ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দের পরে যখন বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অকংগ্রেসি সরকার স্থাপিত হয় তখন থেকে রাজ্যপালের পদকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও সংসদীয় গণতন্ত্রের বাতি অনুসারে রাজ্যপালকে মন্ত্রীপরিষদের পরামর্শক্রমে চলতে হয়। যার অর্থ মন্ত্রীসভা হল রাজ্যের শাসন ক্ষমতার প্রকৃত অধিকারী। বাস্তবে আমরা লক্ষ করি যে সংবিধানই তাকে একজন শক্তিশালী শাসকরূপে নিজেকে প্রতিপন্ন করার যথেষ্ট সুযােগ দিয়েছে। এক্ষেত্রে স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতার গুরুত্ব অপরিসীম। সমালােচকগণ একথা বলেন যে রাজ্যপাল কেন্দ্রীয় শাসন কর্তৃপক্ষ অর্থাৎ রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি। সেই কারণে অঙ্গরাজ্যের ওপর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমরূপে রাজ্যপাল কাজ করেন।
   সাম্প্রতিককালে ঝাড়খণ্ড, বিহার এবং গােয়া প্রভৃতি রাজ্যে রাজ্যপালদের ভূমিকাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অবশ্য একটি রাজ্যে যখন সহজে সরকার গঠন করা সম্ভব হয় না তখনই নানাবিধ অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতি রাজ্যপালকে অনেক সময় রাজ্যের স্বার্থে সক্রিয় হতে বাধ্য করে।
   যারা মনে করেন রাজ্যপাল হলেন প্রকৃত শাসক তারা মুখ্যমন্ত্রী নিয়ােগ, বিধানসভা অধিবেশনের আহ্বান এবং বিধানসভা ভেঙে দেওয়া সংক্রান্ত বিগত প্রায় চার দশকে অজস্র দৃষ্টান্ত উপস্থাপিত করে প্রমাণ করতে চান যে সংবিধানে স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতার ধারা তাকে যথেষ্ট ক্ষমতার অধিকারী করেছে। এছাড়া সংবিধানে কোথাও বলা নেই যে রাজ্যপাল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রীপরিষদের পরামর্শ মেনে চলতে বাধ্য। Sri S. R. Maheswari, B. C. Mitter, প্রমুখ কয়েকজন রাজ্যপালকে প্রকৃত শাসক মনে করলেও এটা আমাদের মনে রাখা দরকার যে ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যে রাজ্যপালের শীর্ষস্থান নিছকই আনুষ্ঠানিক। ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের ওপর অনুষ্ঠিত একটি আলােচনাচক্রে তৎকালীন উপরাষ্ট্রপতি শ্রী পাঠক বলেছিলেন যে রাজ্যপাল হলেন রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান এবং সেই সূত্রে তিনি সাধারণভাবে মন্ত্রীসভার পরামর্শ মেনে চলতে বাধ্য। তবে সংবিধান নির্ধারিত বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে তিনি তার নিজস্ব অভিমত অনুসারে চলবেন। একই ভাষায় প্রখ্যাত সংবিধান বিশেষজ্ঞ শ্রীদুর্গাদাস বসু বলেছেন যে শুধুমাত্র সংবিধানে উল্লিখিত ক্ষেত্রে তিনি স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা প্রয়ােগ করতে পারেন। রাজ্যপালের মর্যাদা সংক্রান্ত এ যাবৎকালে যতগুলি মামলা হয়েছে। সবগুলিতে আদালত এই রায় দিয়েছে যে রাজ্যপাল নিছক নিয়মতান্ত্রিক প্রধান। ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে সুনীল বসু বনাম পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্য সচিবের মামলায় আদালত রায় দেয় যে মন্ত্রীসভার পরামর্শ ছাড়া রাজ্যপাল চলতে পারেন না। সরােজিনী নাইডর ভাষায় রাজ্যপাল হলেন ‘A Bird in a golden cage.
   রাজ্যের আলংকারিক প্রধান বা ‘কেন্দ্রের প্রতিনিধি’ হলেও রাজ্যস্তরে রাজ্যপাল ‘স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা’ প্রয়ােগ করে, বিশেষ পরিস্থিতিতে রাজ্য প্রশাসনের প্রকৃত প্রধান বা Real head হয়ে ওঠেন।

প্রশ্ন ৪) মুখ্যমন্ত্রীর পদমর্যাদা সম্পর্কে একটি টীকা লেখাে।
উত্তর : অঙ্গরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমতা ও পদমর্যাদা বিভিন্ন উপাদানের ওপর নির্ভরশীল।
প্রথমত, মুখ্যমন্ত্রীর নিজের দলের মধ্যে তার সম্পর্কে সকলের যদি ইতিবাচক এবং প্রশংসাসূচক মনােভাব থাকে তবে তিনি সহজে কাজ করতে পারেন।
দ্বিতীয়ত, রাজ্যপাল যদি যথার্থই নিয়মতান্ত্রিক শাসন ও কর্তার ভূমিকা গ্রহণ করেন তবে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তার কোনাে দ্বন্দ্ব হয় না। আবার যদি রাজ্যপাল এবং মুখ্যমন্ত্রী একই রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী হন তাহলে কোনাে সমস্যা হয় না। আমরা এখানে সচেতনভাবে দলের পরিবর্তে দৃষ্টিভঙ্গি কথাটি ব্যবহার করছি কারণ আমরা লক্ষ করি যে রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রী একই রাজনৈতিক দলের হলেও মতপার্থক্য হতে পারে। যেমন—সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল শ্রী এস. কৃয়ান-এর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বিলাস রাও দেশমুখের মত- পার্থক্য খুবই স্পষ্ট।
তৃতীয়ত, মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত দক্ষতা ও যােগ্যতার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তে বিভিন্ন সময়ে অনেক প্রবল প্রতাপশালী মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টান্ত পাওয়া যায়। যেমন—পশ্চিমবঙ্গে ড. বি. সি. রায় ও ড, জ্যোতি বসু উত্তরপ্রদেশে শ্ৰী জি. বি. পন্থ, পাঞ্জাবে শ্রীপ্রতাপ সিং কায়রো, তামিলনাড়ুতে শ্রী আন্না দুরাই ও শ্রী রামচন্দ্ৰন, বিহারে শ্রীকৃয় সিং প্রমুখ বহু ব্যক্তির নাম উল্লেখযােগ্য। এখন প্রশ্ন হল মুখ্যমন্ত্রী সত্যিই কতটুকু প্রকৃত প্রশাসক। অনেক বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি মনে করেন যে মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষে প্রকৃত শাসক হওয়ার পথে কিছু বিধিনিষেধ অবশ্যই আছে। সংবিধানের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করলে আমরা লক্ষ করি যে সংবিধানের কয়েকটি ধারা এবং ব্যবস্থা মুখ্যমন্ত্রীর পদকে কণ্টকিত করেছে। প্রথমেই উল্লেখ করতে হয় যে রাজ্যপালের কিছু স্বেচ্ছাধীন ক্ষমতা আছে।
চতুর্থত, রাজ্যপালের রিপাের্টের ওপর ভিত্তি করে এবং অন্যসূত্র থেকে সংগৃহীত তথ্যের ওপর নির্ভর করে সংবিধানের ৩৫৬ নং ধারা অনুসারে রাষ্ট্রপতি রাজ্য সরকার ভেঙে দিতে পারেন। সর্বোপরি আইনসভায় যদি সুস্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকে এবং যদি উপদলীয় কোন্দলে শাসকদল জর্জরিত হয় তবে মুখ্যমন্ত্রী পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তিকে যথেষ্ট সমস্যায় পড়তে হয়। তবে মুখ্যমন্ত্রীর পদমর্যাদা অনেকটাই নির্ভর করে তাঁর সততা, দক্ষতা, জনপ্রিয়তা ইত্যাদি ব্যক্তিগত গুণাবলির ওপর।

প্রশ্ন ৫) রাজ্য রাষ্টকৃত্যক কমিশনের ক্ষমতা ও কার্যাবলি আলােচনা করাে।
উত্তর : রাজ্য রাষ্ট্রকৃত্যক কমিশনের ক্ষমতা ও কার্যাবলি বিশ্লেষণ করলে আমরা লক্ষ করি যে | কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রকৃত্যক কমিশনের ক্ষমতা ও কার্যাবলির সঙ্গে রাজ্য রাষ্ট্রকৃত্যক কমিশনের ক্ষমতা ও কার্যাবলির যথেষ্ট সাদৃশ্য আছে। নিম্নলিখিতভাবে আমরা কাজগুলিকে চিহ্নিত করতে পারি :
✦ অসামরিক (Civil) পদগুলিতে রাজ্যের সরকারি কর্মীদের নিয়ােগ সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় সম্পর্কে পরামর্শদান।
✦ অসামরিক পদে নিয়ােগনীতি নির্ধারণ, পদোন্নতি ও বদলির নীতি নির্ধারণ এবং এই সকল বিষয়ে যােগ্যতা বিচার করার ক্ষেত্রে কমিশন পরামর্শ প্রদান করে। । কেন্দ্রীয় এবং রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিষয়ে বিভিন্ন দলিলপত্র ও স্মারকলিপি উপস্থাপিত করা।
✦ কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকাবের অধীনে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনাে কর্মচারী আহত হলে তার জন্য ক্ষতিপূরণ সম্পর্কে সুপারিশ করা।
✦ কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে কার্য নির্বাহকালে আনীত মামলার ব্যয় নির্বাহ করার জন্য প্রয়ােজনীয় সুপারিশ করা।
✦ রাজ্য রাষ্ট্রকৃত্যক কমিশনের কার্যাবলি সম্পর্কে যখন রাজ্যপাল কিছু জানতে চাইবেন তখন তাঁকে অবহিত করা এবং পরামর্শ দেওয়া।
✦ রাজ্য রাষ্ট্রকৃত্যক কমিশনকে লর একটি বার্ষিক প্রতিবেদন পেশ করতে হয় এবং রাজ্যপাল সেই প্রতিবেদন বা বিবরণী রাজ্যের আইনসভায় পেশ করেন।
   আমরা লক্ষ করি যে সাধারণভাবে রাজ্য সরকার কমিশনের সুপারিশগুলিকে গ্রহণ করে। যদি কোনাে ক্ষেত্রে সরকার কমিশনের কোনাে সুপারিশ অগ্রাহ্য করে সেক্ষেত্রে সরকারকে তার কারণ রাজ্যের আইনসভায় জানাতে হয়। সমালােচকগণ বলেন যে বহু ক্ষেত্রে কমিশনের বিবরণ বিধানসভায় এত দেরি করে পেশ করা হয় যে সমগ্র বিষয়টি মূল্যহীন হয়ে পড়ে।

প্রশ্ন ৬) রাজ্য সচিবালয়ের গঠন আলােচনা করাে।
উত্তর : যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থার ঐতিহ্য অনুসরণ করে ভারতবর্ষে কেন্দ্রীয় সচিবালয়ের ন্যায় রাজ্যগুলির ক্ষেত্রেও অনুরূপভাবে রাজ্য সচিবালয় স্থাপনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাজ্য। সচিবালয়কে রাজ্য সরকারের প্রধান প্রশাসনিক সংস্থা বলা হয়। রাজ্যের প্রশাসনিক ক্রিয়াকলাপ এবং ঘটনাপ্রবাহ সচিবালয়ের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। রাজ্য সরকারের অধীনস্থ বিভিন্ন বিষয়ের পরিচালনা, বিভিন্ন কাজের মধ্যে সমন্বয়সাধন এবং সরকারের আর্থিক, প্রশাসনিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অন্যান্য সকল প্রকার নীতির যথাযথ প্রয়ােগের দায়িত্ব রাজ্য সচিবালয়কে পালন করতে হয়।

গঠন (Composition)
প্রখ্যাত প্রশাসন বিজ্ঞানী শ্রীরাম মাহেশ্বরী বলেছেন যে, “The expression secretariat is used to refer to the complex of departments whose heads administratively are secretaries and politically ministers.”। অর্থাৎ রাজ্য সচিবালয় বলতে সাধারণভাবে বিভিন্ন বিভাগের সমষ্টিগত ব্যবস্থাকে বােঝায় যেখানে প্রশাসনিক অর্থে বিভাগের প্রধান হলেন সচিবগণ এবং রাজনৈতিক অর্থে প্রধান হলেন মন্ত্রীগণ। আবার একজন বিভাগীয় সচিব সামগ্রিকভাবে সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন। তিনি তাই সরকারের সচিব, তিনি কোনাে বিশেষ বিভাগ বা দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীর সচিব নন। রাজ্য সরকার তথা রাজ্য সচিবালয়ে এইসব পদস্থ আধিকারিক বা সরকারি কর্মচারীকে আমরা Civil Servant (রাষ্ট্রকৃত্যক আধিকারিক) বলে থাকি। প্রচলিত ভাষায় এদের আমলা বলা হয়। রাজনৈতিক প্রধান অর্থাৎ মন্ত্রী যে-সকল নীতি নির্ধারণ করেন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, সেগুলির বাস্তবায়নের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট বিভাগ বা দপ্তরের সচিবকে পালন করতে হয়।
   রাজ্য সরকারের প্রতিটি বিভাগে যেমন একজন সচিব আছেন তেমনি আবার উপসচিব (Deputy Secretary), অধস্তন সচিব (under secretary) এবং সহকারী সচিব (Assistant Secretary) থাকেন। গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলিতে অনেকসময় প্রধান সচিব (Principal Secretary), অতিরিক্ত সচিব (Ad- ditional Secretary) এবং যুগ্মসচিব ( Joint Secretary) থাকেন। এঁরা প্রত্যেকে সরকারের কার্যকাল ব্যবস্থার (Tenure system)-এর অধীন। প্রতিটি সচিবালয়ে সকল প্রকার সচিবগণ একটি নির্দিষ্ট কার্যকালের জন্য নিযুক্ত হন। সরকারের একটি বিভাগের দপ্তর বা কার্যালয় পরিচালনার জন্য আরও কিছু বিশেষ পদাধিকারীর প্রয়ােজন হয়। এরা হলেন তত্ত্বাবধায়ক (Superintendent), সহকারী (Assistant), উর্ধ্বতন বিভাগীয় করণিক (Upper Division Clerk), নিম্নতন বিভাগীয় করণিক (Lower Division Clerk), টাইপিস্ট ও স্টেনােগ্রাফার প্রভৃতি। সাধারণত রাজ্য সচিবালয়ের অন্তর্গত বিভাগগুলির সংখ্যা ১১-৩৪ এর মধ্যে সীমাবদ্ধ। আবার এমন কিছু বিভাগ আছে যেগুলি ভারতের সকল রাজ্যের সচিবালয়ে দেখা যায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eighteen + ten =