সুলতানি যুগের আকবর কাকে বলা হয় ও কেন বলা হয়?

QuestionsCategory: Historyসুলতানি যুগের আকবর কাকে বলা হয় ও কেন বলা হয়?
GFL eSTUDY Staff asked 3 months ago
1 Answers
GFL eSTUDY Staff answered 3 months ago

সুলতানি যুগের আকবর বলা হয় ফিরোজ শাহ তুঘলক-কে।

তিনি আকবরের মতো প্রজা হৃতৈষী ছিলেন।

  1. অভ্যন্তরীন ব্যাবসা বাণিজ্য ও শিল্পের উন্নতির জন্য ফিরোজ শাহ তুঘলক আন্ত-প্রাদেশিক শুল্ক দেন। এর ফলে সাম্রাজ্যের সর্বত্র অবাধ বাণিজ্য পরিচালনার সুযোগ হয়।
  2. কৃষির উন্নতির দিকে ও তাঁর যথেষ্ট নজর ছিলো। ফিরোজ শাহ তুঘলক বহু জায়গায় খাল খননের নীতি গ্রহণ করেন। তিনি পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ খাল খনন করেন। এ ছাড়া দেড় শতাধিক কূপ খনন করে তিনি সেচ ও পানীয় জলের সুরাহা করেন।
  3. ফিরোজ শাহ তুঘলক এক নির্ভরযোগ্য মুদ্রানীতি গ্রহণ করেন। খাঁটি সোনা ও রুপোর মুদ্রা চালু করে সরকারি মুদ্রার উপর জনসাধারণের আস্থা বৃদ্ধি করেন। তাঁর চালু করা মুদ্রা গুলি হলো “জিতল”, অর্ধ জিতল বা “আধা” এবং সিকি জিতল বা “বিখ”।
  4. ফিরোজ শাহ তুঘলক সরকারি পরিচালনাধীন ছত্রিশ’টি কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন। কারখানা গুলো দুটি ভাগে বিভক্ত ছিল : “রতিবি” ও “গয়ের রতিবি”। রতিবি গুলিতে মানুষ ও পশুর জন্য খাদ্যসামগ্রী তৈরি হতো আর গয়ের রতিবি তে তৈরি হতো পোশাক পরিচ্ছদ ও অন্যান্য সামগ্রী। “মুতাসরিফ” নামে একজন করে কর্মচারী ছিলেন এইসব প্রত্যেক কারখানায়। তাঁর হাতেই এইসব কারখানা পরিচালনার দায়িত্ব ছিলো। এগুলি থেকে সুলতানের প্রচুর আয় হত।
  5. শাসনতন্ত্র-কে ফিরোজ এক “প্রজাহিতকর মিশন” বলে গণ্য করতেন।
  6. পূর্বপুরুষ দের আমলের সমস্ত দণ্ড দান প্রথা তিনি বাতিল করেন। কোরানের নির্দেশ অনুযায়ী তিনি বিচারকার্য পরিচালনার নির্দেশ দেন। আলাউদ্দিন খলজি প্রবর্তিত সমস্ত সামরিক কর্মসূচি তিনি বাতিল করেন। যেমন….আলাউদ্দিন খলজি সাম্রাজ্যের যে স্থায়ী সেনাবাহিনী গঠন করেন, তিনি তা ভেঙ্গে দেন। ফলে পুনরায় সুলতান সেনাবাহিনীর জন্য প্রাদেশিক শাসনকর্তা ও মালিকদের উপর নির্ভরশীল হোয়ে পড়েন। আলাউদ্দিন যে ” দাগ” ও ” হুলিয়া” প্রথা প্রচলন করেন তিনি তাও বাতিল করেন। আলাউদ্দিনের আমলে বৎসরান্তে সৈনিক ও তাঁর বাহন কে সেনাবিভাগ এ যোগ্যতা নির্নায়ক পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে হতো তিনি তাও বাতিল করেন। সেনাদের বেতনের পরিবর্তে জাইগির দানের রীতি পুনঃপ্রবর্তন করেন।
  7. তিনি “দার – উল – সিফা” নামে এক চিকিৎসালয়ে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ঔষধ বিতরণের ব্যাবস্থা করেন। দুঃস্থ পরিবারের বিবাহযোগ্য মেয়েদের বিবাহে অর্থসাহায্য প্রদানের উদ্দেশ্যে সুলতান ” দেওয়ান – ই – খয়রাত ” নামে একটি দপ্তর গঠন করেন। এ ছাড়া দেশের যোগ্য ব্যক্তিদের অর্থ সাহায্য করার জন্য তিনি “দেওয়ান – ই – ইস্তিহক” নামে আরও একটি দপ্তর স্থাপন করেন। বেকার সমস্যা সমাধানের জন্য তিনি দিল্লিতে একটি কর্মসংস্থান সংস্থা ( Employment Bureau) প্রতিষ্ঠা করেন। দিল্লির কোতোয়াল কে বেকার যুবকদের একটি তালিকা প্রস্তুত করার নির্দেশ দেন।
  8. বিদ্যাচর্চা ও বিদ্বান ব্যাক্তির প্রতি ফিরোজের অনুরাগের অভাব ছিল না। তাঁর আনুকূল্যে জিয়াউদ্দিন বরনি এবং সামস্ – ই – সিরাজ যথাক্রমে “ফুতুহ – ই – জাহান্দারী” ও “তারিখ – ই – ফিরোজশাহি” গ্রন্থ দুটি রচনা করেন। তিনি নিজেও তাঁর আত্মজীবনী “ফুতুহাৎ – ই – ফিরোজ শাহি” রচনা করেন। তাঁর বিদ্যানুরাগের আর একটি প্রমাণ হিসাবে বলা যায় যে, নগরকোট অভিযানের শেষে প্রায় ৩০০ টি (মতান্তরে ১৩০০ টি) সংস্কৃত গ্রন্থ তাঁর দখলে আসে। তিনি তাঁর সভাপতি আজিজউদ্দিন খালেদ কে দিয়ে এর মধ্যে বেশ কিছু পুঁথি ফারসি ভাষায় অনুবাদ করেন। এগুলি ‘দালাল – ই – ফিরোজেশাহি ‘ নামে সংকলিত হয়।
  9. সুনির্মাতা হিসাবেও ফিরোজ শাহ তুঘলক কম কৃতিত্বের অধিকারী ছিলেন না। ফেরিস্তার মতে, ফিরোজ ৫০ টি বাঁধ, ৪০ টি মসজিদ, ৩০ টি কলেজ, ২০০ টি শহর, ১৫০ টি সেতু সহ অসংখ্য বাগিচা, বিনোদন গৃহ ইত্যাদি নির্মাণ করেন। ফিরোজ শাহ নির্মিত শহর গুলির মধ্যে অন্যতম হলো ফিরোজাবাদ, ফতেয়াবাদ, হিসার, ফিরোজপুর ইত্যাদি। আফিফ তাঁর রচনায় ফিরোজাবাদ শহরের বিশালতা ও বৈভবের ভূয়শী প্রসংশা করেছেন। বর্তমানে নিউ দিল্লির কোটলা ফিরোজ শাহ’র সেই সমৃদ্ধ নগরের অংশবিশেষ বলে চিহ্নিত হয়।
Your Answer