ব্রিটিশ গভর্নর-জেনারেল ও ভাইসরয়গণ (British Governors-General and Viceroys In India)

১৭৫৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৭৭২ পর্যন্ত ছজন কলকাতার গভর্নর ছিলেন। এদেরকে বলা হত ফোর্ট উইলিয়ামের গভর্নর।

ড্রেক (১৭৫৬-১৭৫৮)

তিনি সিরাজের আক্রমণে কলকাতা থেকে পালিয়ে অনুচরদের নিয়ে ফলতায় আশ্রয় গ্রহণ করেন।

রবার্ট ক্লাইভ (১৭৫৮-১৭৬০)

কলকাতার কাউন্সিলর তাঁকে গভর্নর নিয়ােগ করেন। ১৭৬০ এ তিনি ইংল্যাণ্ড ফিরে যান।

ভ্যাক্সিটার্ট (১৭৬০-১৭৬৫)

তিনি মিরজাফরকে সরিয়ে মীরকাশিমকে নবাব করেন ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে। মিরজাফরকে পুনরায় সিংহাসনে বসান ১৭৬৩ খ্রিস্টাব্দে, বক্সারের যুদ্ধ (১৭৬৪), মিরজাফরের মৃত্যু ও নজমউদ্দৌলার মসনদ লাভ ও কোম্পানির সঙ্গে সন্ধি (১৭৬৫) তাঁর সময়ে ঘটে।

রবার্ট ক্লাইভ (১৭৬৫-১৭৬৭)

১৭৬৫ খ্রিস্টাব্দে ক্লাইভের সময় নজউদ্দৌলা, শাহসুজা ও দ্বিতীয় শাহ আলমের সঙ্গে তার সন্ধি হয়। কোম্পানি বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানী লাভ করে দ্বিতীয় শাহ আলমের থেকে এবং তিনি বাংলায় দ্বৈত শাসনের প্রতিষ্ঠা করেন। লর্ড ক্রাইভ শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যা করেন।

ভেরেলেস্ট (১৭৬৭-১৭৬৯)

ছিয়াত্তরের মন্বন্তরের সূচনা তাঁর সময়ে হয়।

কার্টিয়ার (১৭৬৯-১৭৭২)

তার সময় বাংলায় চরম অরাজকতা দেখা দেয়। সিতাব রায় ও রেজা খাঁ নিজ নিজ স্বার্থ সিদ্ধিতে ব্যস্ত হন। কোম্পানি কর্তৃক নিযুক্ত আমলারা ব্যাপক হারে রাজস্ব আদায় করতে থাকেন। ১৭৭০ খ্রিস্টাব্দে কার্টিয়ারের সময় বাংলায় দূর্ভিক্ষ বা মন্বন্তর ঘটে।

ওয়ারেন হেস্টিংস (১৭৭২-১৭৭৩)

তিনি বাংলায় দ্বৈত শাসনের অবসান ঘটান। ১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে অযােধ্যার নবাবের সঙ্গে তিনি বেনারসের চুক্তি স্বাক্ষর করেন। তিনি অযােধ্যার নবাবকে কারা ও এলাহাবাদ প্রদেশ ৫০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করেন। ইনি বাংলার শেষ গভর্নর। ব্রিটিশ শাসিত ভারতে ১৩জন গভর্নর জেনারেল ছিল ১৭৭৩ থেকে ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে।

বাংলার গভর্নর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস (১৭৭৩-১৭৮৫)

১৭৭৩ খ্রিস্টাব্দে রেগুলেটিং আইন পাশ হয়। এই আইন বলে বাংলার গভর্নরকে বাংলার গভর্নর জেনারেল পদে উন্নীত করা হয়। ১৭৮১ খ্রিস্টাব্দে গভর্নর জেনারেল ইন কাউন্সিল ও সুপ্রিম কোর্টের এক্তিয়ারের মধ্যে সীমারেখা টানা হয়। ১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় সুপ্রিম কোর্ট গঠিত হয়। স্যার এলিজা ইম্পে ছিলেন তার প্রথম প্রধান বিচারপতি। ১৭৭৪ খ্রিস্টাব্দে রােহিলা যুদ্ধ সংগঠিত হয় ও রােহিলখন্ড অযােধ্যার অন্তর্ভুক্ত হয় ব্রিটিশের সাহায্যে। ১৭৭৫ খ্রিস্টাব্দে মহারাজ নন্দকুমার এর মামলা সুপ্রিম কোর্টে ওঠে এবং তাঁর ফাসি হয়। ১৭৭৫-৮২ এর মধ্যে প্রথম ইঙ্গ-মারাঠা যুদ্ধ হয় ও সবাই-এর সন্ধি হয়। ১৭৮০-৮৪ এর মধ্যে দ্বিতীয় ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধ হয়। তাঁর সময়ে ৫টি কাস্টমস হাউস গঠন করা হয় কলকাতা, হুগলি, ঢাকা, পাটনা ও মুর্শিদাবাদে। হেস্টিংস ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে গঠন করেন বাের্ড অফ রেভিনিউ। রাজস্ব ব্যবস্থার ক্ষেত্রে তিনি Trial and Error আইন চালু করেন। ১৭৭৬ খ্রিস্টাব্দে জেন্টু আইন রচিত হয়। ট্রেজারি মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতা নিয়ে যাওয়া হয়। তার নির্দেশে রবার্ট বার্কার রােহিলা নেতা হাফিজ রহমত খান এবং অযােধ্যার নবাবের মধ্যে সন্ধি হয়। ১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে উইলকিন্স সীতা ও হিতােপদেশের ইংরাজী অনুবাদ করেন এবং হ্যালহেড সাহেব সংস্কৃত ব্যাকরণ বই প্রকাশ করেন। ১৭৮০ খ্রিস্টাব্দে জেমস অগাষ্টাস হিকি ‘বেঙ্গল গেজেট’ নামে সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ করেন। এটাই ভারতবর্ষের প্রথম সাপ্তাহিক পত্রিকা। ১৭৮২ খ্রিস্টাব্দে সৈয়দ গুলাম হাসান সিয়ার-উল-মুতাক্ষরিণ’ গ্রন্থটি লেখেন। ১৭৮৪ খ্রিস্টাব্দে স্যার উইলিয়াম জোনস কলকাতায় এশিয়াটিক সােসাইটি স্থাপন করেন এবং এই বছরেই ‘ক্যালকাটা গেজেট প্রকাশিত হয়। ১৭৮১ খ্রিস্টাব্দে ক্যালকাটা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৭৭৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি চৈত সিং এর কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকা ঘুষ নেন। ১৭৮২ খ্রিস্টাব্দে অযােধ্যার নবাবের কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকা ঘুষ নেন। ১৭৮৫ খ্রিস্টাব্দে ‘মাদ্রাজ কুরিয়ার’ নামক পত্রিকা প্রকাশিত হয়। ১৭৮৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি ইংল্যান্ডে ফিরে যান। এডমান্ড বার্ক, চার্লস জেমস ফক্স, শেরিডন এবং গিলবার্ট এলিয়াট তার বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযােগ আনেন। হাউস অফ লর্ডসে তাকে ইমপিচ করা হয়। হেস্টিংস এর হয়ে সওয়াল করেন এডওয়ার্ড ল, পুমার ও ডালাস। সাতবছর বিচারের পর তিনি দোষী সাব্যস্ত হন। ১৭৮৪ খ্রিস্টাব্দে পিটের ভারত শাসন আইন প্রণয়ন হয়।

লর্ড কর্নওয়ালিশ (১৭৮৬-১৭৯৩)

১৭৯০-৯২ খ্রিস্টাব্দে তৃতীয় মহীশূর যুদ্ধ হয় ও শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধি হয়। ১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দে ‘বম্বে হেরাল্ড’ ও ১৭৯০ খ্রিস্টাব্দে বম্বে কুরিয়ার’ পত্রিকা প্রকাশিত হয়। ১৭৯২ খ্রিস্টাব্দে জোনাথন ডানকান বারানসী সংস্কৃত কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে বাংলা ও বিহারে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তিত হয়। তিনি ভারতবর্ষে পুলিশি ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে কর্নওয়ালিশ কোড’ নামক আইনবিধি রচিত হয়। তিনি ভারতে সিভিল সার্ভিসের সূচনা করেন। কালেক্টরের সংখ্যা কমিয়ে ৩৬ থেকে ২৩ করা হয়। বাণিজ্য বাের্ডের সদস্য সংখ্যা কমিয়ে ১১ থেকে ৫ করা হয়।

স্যার জন শাের (১৭৯৩-১৭৯৮)

চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তনের সময় তিনি ছিলেন বাের্ড অফ রেভিনিউর প্রেসিডেন্ট। কিন্তু তার গভর্নর জেনারেল কার্যকালে কোন উল্লেখযােগ্য ঘটনা নেই।

লর্ড ওয়েলেসলি (১৭৯৮-১৮০৫)

১৭৯৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি অধীনতামূক মিত্রতা নীতি প্রবর্তন করেন এবং হায়দরাবাদের নিজাম প্রথম এই নীতি নেন। ১৭৯৯ খ্রিস্টাব্দে চতুর্থ মহীশূর যুদ্ধ হয় এবং মহীশূর রাজ্য অধীনতামূলক মিত্রতা নীতি গ্রহণ করে। তাঞ্জোর (১৭৯৯), অযােধ্যার নবাব (১৮০১), সিন্ধিয়া (১৮০৪), ভোঁসলে (১৮০৩), পেশােয়া (১৮০২) এই নীতি গ্রহণ করে। ১৮০২ খ্রিস্টাব্দে দ্বিতীয় বাজিরাও এর সঙ্গে বেসিনের চুক্তি এবং দ্বিতীয় ইঙ্গ-মারাঠা যুদ্ধ হয়। ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে তিনি ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ স্থাপন করেন। ১৮০১ খ্রিস্টাব্দে রামরাম বসু ‘প্রতাপাদিত্য চরিত্র’ রচনা করেন। ১৮০৩ খ্রিস্টাব্দে রাজা রামমােহন রায় ‘তুহুত-উল-মুহাহিদিন’ রচনা করেন।

জর্জ বার্লো (১৮০৫-১৮০৭)

১৮০৭ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে দাস ব্যাবসা নিষিদ্ধ করেন। ১৮০৬ খ্রিস্টাব্দে ভেলােরে সিপাহী বিদ্রোহ হয় দেওয়ান ভেলু থেম্পুর নেতৃত্বে। ভেলু থেম্পুকে গুলি করে মারার পর তাকে আবার প্রকাশ্যে ফাসি দেওয়া হয়।

লর্ড প্রথম মিন্টো (১৮০৭-১৮১৩)

১৮০৯ খ্রিস্টাব্দে রঞ্জিত সিংহের সঙ্গে তিনি অমৃতসরের সন্ধি করেন। ১৮১২ খ্রিস্টাব্দে উইলিয়াম কেরি বাংলায় ইতিহাস মালা’ রচনা করেন। ১৮১৩ খ্রিস্টাব্দে তার সময় চার্টার আইন পাশ হয়।

লর্ড হেস্টিংস বা আর্ল অফ ময়রা (১৮১৩-১৮২৩)

১৮২২ খ্রিস্টাব্দে তার সময় বেঙ্গল টেনান্সি অ্যাক্ট পাশ হয়। ১৮১৪-১৬ খ্রিস্টাব্দে তার সময় প্রথম গােখা যুদ্ধ হয়। ১৮১৬ খ্রিস্টাব্দে সগৌলির সন্ধি হয়। ১৮১৭-১৮ খ্রিস্টাব্দে তৃতীয় মারাঠা যুদ্ধ হয় ও পেশােয়া পদের অবলুপ্তি ঘটে। ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি বম্বে প্রেসিডেন্সি সৃষ্টি করেন। ১৮১৭-১৮ খ্রিস্টাব্দে তার সময় পিন্ডারী যুদ্ধ হয়। মাদ্রাজ প্রেসিডেন্সিতে রায়তওয়ারি ব্যবস্থা প্রবর্তিত হয় ১৮২০ খ্রিস্টাব্দে। ১৮১৫ জেনারেল গিলেসপি এবং মার্টিন ডেল কুমায়ুন অধিকারে ব্যর্থ হলেও নিকোলাস এবং গার্ডেনার কুমায়ুন দখল করেন।

লর্ড আর্মহাস্ট (১৮২৩-১৮২৮)

তাঁর সময় ১৮২৪-২৬ খ্রিস্টাব্দে প্রথম ব্ৰহ্ম যুদ্ধ হয়। ১৮২৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি ভরতপুর দখল করেন। ১৮২৪ খ্রিস্টাব্দে ব্যারাকপুরে একবার সিপাহীরা বিদ্রোহ করে।

লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক (১৮২৮-১৮৩৫)

১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ করেন। ১৮২৯-৩৫ কর্ণেল স্লিম্যানের নেতৃত্বে তিনি ঠগী দস্যুদের দমন করেন। ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে খাসীরা বিদ্রোহ করে। ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দে তিনি কাছাড় জেলা দখল করে নেন। তার সময়ে তিতুমীর বিদ্রোহ করেন। তিনি আদালতে দেশীয় ভাষা প্রচলন করেন। মেকলের মিনিট অনুসারে তিনি ইংরাজীকে শিক্ষার মাধ্যম হিসাবে ঘােষণা করেন ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে। ১৮৩২ খ্রিস্টাব্দে জয়ন্তিয়া ও ১৮৩৪ খ্রিস্টাব্দে কুর্গ দখল করেন। ১৮৩৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি আগ্রা প্রদেশ সৃষ্টি করেন। তিনি রঞ্জিৎ সিংয়ের সঙ্গে চুক্তি করেন। রাজা রামমােহন রায় ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডে যান। ১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দে চার্টার আইন অনুসারে বাংলার গভর্নর জেনারেলকে ভারতের গভর্নর জেনারেল বলে ঘােষণা করা হলে বেন্টিঙ্ক হন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল। বেন্টিঙ্ক কন্যা ভ্রণ হত্যা নিষিদ্ধ ঘােষণা করেন এবং ইনাম ভূমি উপাধির তদন্ত করেন। তিনি আঞ্চলিক সার্কিট কোর্টগুলি বিলুপ্ত করেন ও তার পরিবর্তে সদর দেওয়ানি আদালত প্রতিষ্ঠা করেন এলাহাবাদে ও সদর নিজামত আদালত প্রতিষ্ঠা করেন দিল্লীতে।তিনি মেকলেকে পাবলিক ইনসট্রাকশান কমিটির সভাপতি নিয়ােগ করেন।

চার্লস মেটকাফ (১৮৩৫-১৮৩৬)

তিনি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেন। তার সময়ে গুমশুর বিদ্রোহ ঘটে। এডুকেশন রেগুলেশান বিল তার সময়ে পাশ হয়। তাকে বলা হয় ভারতের সংবাদপত্রের মুক্তিদাতা (Liberator of Indian Press)।লর্ড অকল্যান্ড (১৮৩৬-১৮৪২) : ১৮৩৬-৪২ খ্রিস্টাব্দে তার সময় প্রথম আফগান যুদ্ধ হয়। ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে রঞ্জিৎ সিংহের মৃত্যু হয়। ১৮৩৬ খ্রিস্টাব্দে শাহ সুজা, রঞ্জিৎ সিংহ ও ইংরেজদের মধ্যে ত্রিশক্তি মৈত্রী চুক্তি ঘটে। ১৮৩৭ খ্রিস্টাব্দে উত্তরভারতে দুর্ভিক্ষ হয়। সাতারার রাজাকে তিনি সিংহাসনচ্যুত করে নির্বাসন দেন। তিনি মান্ডভি রাজ্য অধিগ্রহণ করেন; স্বত্ত্ববিলােপ নীতি এই রাজ্যে প্রথম প্রয়ােগ করা হয়।

লর্ড এলেনবরাে (১৮৪২-১৮৪৪)

তাঁর সময় প্রথম আফগান যুদ্ধ শেষ হয় এবং ১৮৪৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি সিন্ধু অধিগ্রহণ করেন। ১৮৪৩ খ্রিস্টাব্দে তার সময় গােয়ালিয়র যুদ্ধ হয়। তিনি দাস প্রথা বিলােপ করেন।

লর্ড প্রথম হার্ডিঞ্জ (১৮৪৪-১৮৪৮)

১৮৪৪ খ্রিস্টাব্দে কোলাপুরে বিদ্রোহ হয়। ১৮৪৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি ঘােষণা করেন যে পাবলিক সার্ভিসের জন্য প্রয়ােজনীয় যােগ্যতা ইংরাজি। ১৮৪৫-৪৬ খ্রিস্টাব্দে প্রথম শিখ যুদ্ধ ও ১৮৪৬ খ্রিস্টাব্দে লাহাের সন্ধি হয়। ১৮৪৫ খ্রিস্টাব্দে ডেনিশ বা দিনেমারেরা ভারতে সব বাণিজ্যকেন্দ্র ইংরেজদের বিক্রি করেন। ১৮৪৬ খ্রিস্টাব্দে খােন্দরা বিদ্রোহ করে।

লর্ড ডালহৌসি (১৮৪৮-১৮৫৬)

১৮৪৮-৪৯ খ্রিস্টাব্দে দ্বিতীয় শিখ যুদ্ধ হয় এবং তিনি পাঞ্জাব অধিগ্রহণ করেন। ১৮৫২ খ্রিস্টাব্দে দ্বিতীয় ইঙ্গ-ব্রহ্ম যুদ্ধ হয় ও তিনি নিম্ন ব্রহ্ম উপত্যকা অধিকার করেন। ১৮৫০ খ্রিস্টাব্দে সিকিম অধিগ্রহণ, ১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দে হায়দরাবাদের নিজামের সঙ্গে সন্ধির ফলে নিজাম বেরার প্রদেশ কোম্পানীকে দেয়। ‘স্বত্ববিলােপ নীতি’ অনুসারে সাতারা (১৮৪৮), জয়পুর (১৮৪৯), সম্বলপুর (১৮৪৯), বাঘাট (১৮৫০), উদয়পুর (১৮৫২), ঝাঁসি (১৮৫৩), নাগপুর (১৮৫৪) অধিগ্রহণ হয়। ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে কুশাসনের অজুহাতে অযােধ্যা দখল করা হয়। তিনি বাংলার শাসনকার্যের ভার লেফটেন্যান্ট গভর্নরের হাতে দেন। বাের্ড অফ কন্ট্রোলের সভাপতি চার্লস উড় তাঁর বিখ্যাত ‘উডের ডেসপ্যাচ’ তার সময়ে ১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশ করেন। গােলন্দাজ বাহিনীর সদর দপ্তর কোলকাতা থেকে মীরাটে নিয়ে যান। ১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দে বম্বে থেকে থানে রেলপথ, কলকাতা থেকে আগ্রা টেলিগ্রাফ লাইন, ডাক ব্যবস্থা এবং সর্বভারতীয় প্রতিযােগিতা মূলক পরীক্ষা হয় তার সময়ে। তিনি সিমলাকে ভারতের গ্রীষ্মকালীন রাজধানীতে পরিণত করেন। তার সময় বিধবা বিবাহ আইন পাশ হয়। ১৮৫৪ খ্রিস্টাব্দে পােষ্ট অফিস আইন পাশ করে ২পয়সার পােষ্টকার্ড চালু করেন। তিনি পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্ট (PWD) নামে দপ্তর প্রতিষ্ঠা করেন ও গঙ্গার খাল খনন করেন। ১৮৫৫-৫৬ খ্রিস্টাব্দে সাঁওতাল বিদ্রোহ হয়। তিনি বিধবা বিবাহ আইন পাশ করার উদ্যোগ নেন। তিনি কটকের নবাবের উপাধি বিলােপ করেন। তার সময়ে দোস্ত মহম্মদের সঙ্গে সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়।

লর্ড ক্যানিং (১৮৫৬-১৮৫৭)

১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা, বােম্বাই ও মাদ্রাজে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হয়। ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে হয় সিপাহী বিদ্রোহ। বিধবা বিবাহ আইন তার সময়ে পাশ হয়। ১৮৫৬ খ্রিস্টাব্দে পারস্যের সঙ্গে ইংরেজদের যুদ্ধ হয়। ইনি ভারতের শেষ গভর্নর জেনারেল।ডালহৌসি ১৮৫৬ এর ফেব্রুয়ারী মাসে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। বিধবা বিবাহ আইন পাশ হয় ১৮৫৬ এর ২৬শে জুলাই। সে সময়ে ক্যানিং গভর্নর জেনারেল ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে সিপাহী বিদ্রোহের পর ভারতের শাসনভার ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর কাছ থেকে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাতে যায়। ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে বেটার গভর্নমেন্ট ফর ইন্ডিয়া অ্যাক্ট অনুসারে ভাইসরয় পদের সৃষ্টি হয়। ভারতের প্রথম ভাইসরয় লর্ড ক্যানিং।

ভাইসরয় লর্ড ক্যানিং (১৮৫৮-১৮৬২)

১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দে মহারানির ঘােষণাপত্র এবং ভারত শাসন আইন পাশ হয়। ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে তার সময়ে নীল বিদ্রোহ হয়। ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দে ভারতীয় কাউন্সিল আইন পাশ হয়। ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দে ক্রিমিনাল বা ফৌজদারী আইন ও হাইকোর্ট আইন পাশ হয়। ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা, বােম্বাই ও মাদ্রাজ হাইকোর্ট প্রতিষ্ঠিত হয়। উত্তর পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয় ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দে।

লর্ড এলগিন (১৮৬২)

কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার সময়ে এম.এ. ডিগ্রি চালু হয়। তার সময়ে দোস্ত মহম্মদের মৃত্যু ঘটে। ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে এলগিনের হঠাৎ মৃত্যু ঘটে। এরপর স্যার নেপিয়ার ও ডেনিসন ভাইসরয় নিযুক্ত হন ১৮৬২-৬৪ খ্রিস্টাব্দে।

স্যার জন লরেন্স (১৮৬৪-১৮৬৯)

তিনি স্কলারশিপ চালু করেন ছাত্রদের জন্য। ১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দে ভূটান যুদ্ধ হয়। ভারত ও ইউরােপীয় টেলিগ্রাফ লাইন চালু হয় ১৮৬৫ খ্রিস্টাব্দে। ১৮৬৬ খ্রিস্টাব্দে দুর্ভিক্ষ কমিশন গঠিত হয়। তার নীতিকে বলা হত প্রভুত্ব পূর্ণ নিষ্ক্রিয় নীতি বা Masterlv Inactivity Policy। ১৮৬৮ খ্রিস্টাব্দে পাঞ্জাবে প্রজাসত্ত্বআইন পাশ হয়। ১৮৬৮ খ্রিস্টাব্দে আফগানিস্তানের শের আলিকে বার্ষিক ৬ লক্ষ টাকা অনুদান দেওয়া হয়। আম্বালা থেকে দিল্লি পর্যন্ত রেল লাইন তৈরী হয়।

লর্ড মেয়াে (১৮৬৯-১৮৭২)

কাথিয়াওড়ের রাজকোট কলেজ এবং রাজস্থানের আজমীরে মেয়াে কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দে কেন্দ্রীয় প্রাদেশিক অথর্ব ব্যবস্থাকে আলাদা করেন। তার সময়ে আফগানিস্তান বাফার স্টেটে পরিণত হয়। স্ট্যাটিসটিক্যাল সার্ভে অফ ইণ্ডিয়া প্রতিষ্ঠা করেন। তার সময় কৃষি ও বাণিজ্য দফতর গড়ে ওঠে। লর্ড মেয়াের সময়ে রাজ্য রেল ব্যবস্থা শুরু হয়। লর্ড মেয়াে হলেন একমাত্র ইহুদি ভাইসরয়। ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে তাকে আন্দামানে ওয়াহাবিরা হত্যা করে। তিনিই একমাত্র ভাইসরয় যিনি ভারতে মারা যান। তার সময় ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে কুকা বিদ্রোহ শুরু হয়।

লর্ড নর্থব্রক (১৮৭২-১৮৭৬)

তার সময়ে প্রিন্স অফ ওয়েলস ১৮৭৫ খ্রিস্টাব্দে ভারতে আসেন। বরােদার গায়কোয়াড়কে বিতাড়িত করা হয়। আফগান বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে তিনি পদত্যাগ করেন।

লর্ড লিটন (১৮৭৬-১৮৮০)

১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে রয়্যাল টাইটেল অ্যাক্ট বা রাজকীয় উপাধি আইন পাশ হয়। ১৮৭৭ খ্রিস্টাব্দে দিল্লীর দরবারে মহারানি ভিক্টোরিয়াকে ভারত সম্রাজ্ঞী বা Empress of India উপাধি দেওয়া হয়। ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে নাট্যাভিনয় নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে দেশীয় সংবাদপত্র আইন, ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে অস্ত্র আইন তার সময়ে পাশ হয়। ১৮৭৮-৮০ খ্রিস্টাব্দে দ্বিতীয় ইঙ্গ-আফগান যুদ্ধ এবং ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে প্রথম দুর্ভিক্ষ কমিশন নিয়ােগ করা হয়েছিল স্যার রিচার্ড স্ট্যাসির অধীনে। তিনি বিধিবদ্ধ সিভিল সার্ভিস চালু করেন এবং সিভিল সার্ভিসের সর্বোচ্চ বয়ঃসীমা করেন ২১ থেকে ১৯। ১৮৭৯ খ্রিস্টাব্দে গন্ডমার্কের সন্ধি তাঁর সময়ে স্বাক্ষরিত হয়। ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে তাঁর সময় ‘ভারতসভা’ প্রতিষ্ঠা করেন সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জি। লর্ড লিটন এর কালকে বলা হয় উহৃল বিফলতা বা Brilliant Failure লর্ড রিপন (১৮৮০-১৮৮৪) ও তার সময় প্রথম ফ্যাক্টরি আইন পাশ হয় ১৮৮১ খ্রিস্টাব্দে। ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে তিনি দেশীয় ভাষায় সংবাদপত্র আইন রদ করেন। ১৮৮১ খ্রিস্টাব্দে প্রথম জনগণনা বা সেনসাস শুরু হয়। তখন জনসংখ্যা ছিল ২৫৪ মিলিয়ন বা ২৫.৪ কোটি। ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে তিনি স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন প্রবর্তন করেন। ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে স্যার উইলিয়াম হান্টার এর প্রতিনিধিত্বে ‘হান্টার কমিশন নিয়ােগ করেন শিক্ষাসংস্কারের জন্য। ১৮৮৩ খ্রিস্টাব্দে ‘দুর্ভিক্ষ কোড’ তার সময় রচিত হয়। তিনি মহীশুর পুনরূদ্ধার করেন। তাকে বলা হত স্থানীয় ‘স্বায়ত্তশাসনের জনক’। তিনি অর্থনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণ ব্যবস্থার প্রবর্তন করেন।

লর্ড ডাফরিন (১৮৮৪-১৮৮৮)

১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গীয় প্রজাসত্ব আইন পাশ হয়। ১৮৮৫-৮৬ খ্রিস্টাব্দে তৃতীয় ব্রহ্মাযুদ্ধ শুরু হয়। ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গীয় স্থানীয় স্বায়ত্বশাসন আইন পাশ হয়। ১৮৮৫ খ্রিস্টাব্দে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস প্রতিষ্ঠিত হয় লর্ড ডাফরিনের সময়। লর্ড ডাফরিন আধুনিক সুবিধাযুক্ত হাসপাতাল স্থাপন করেন। তিনি ‘আচিসন’ কমিটি নিয়ােগ করেন।

লর্ড ল্যান্সডাউন (১৮৮৮-১৮৯৪)

১৮৯১ খ্রিস্টাব্দে দ্বিতীয় ফ্যাক্টরী আইন পাশ হয়। সিভিল সার্ভিসকে তিনটি ভাগে ভাগ করেন। যথা ইম্পিরিয়াল, প্রভিনশিয়াল ও সাবাের্ডিনেট। ১৮৯১ খ্রিস্টাব্দে বয়ঃসম্মতি আইন (Age of consent) পাশ হয় এবং ১২ বছরের নীচে মেয়েদের বিবাহ নিষিদ্ধ হয়। ১৮৯৩ খ্রিস্টাব্দে ভারত ও আফগানিস্তানের সীমারেখা নির্ধারণের জন্য ডুরান্ড মিশনকে কাবুলে প্রেরণ করা হয়।

লর্ড দ্বিতীয় এলগিন (১৮৯৪-১৮৯৯)

১৮৯৭ খ্রিস্টাব্দে চাপের ভ্রাতৃদ্বয় ব্রিটিশ কর্মচারী র্যান্ড ও আয়াস্টকে হত্যা করেন। ১৮৯৬ খ্রিস্টাব্দে সারা ভারতে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। রাজস্থানে দুর্ভিক্ষ অনুসন্ধানের জন্য তিনি লয়াল কমিশন নিয়ােগ করেন।

লর্ড কার্জন (১৮৯৯-১৯০৫)

লর্ড কার্জন উত্তর পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ সৃষ্টি করেন ১৯০০ খ্রিস্টাব্দে। ১৯০১ খ্রিস্টাব্দে ভিক্টোরিয়ার মৃত্যু হয়। ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা কর্পোরেশান আইন পাশ হয় তার সময়। ওই বছর ভারতীয় মুদ্রা ও কারেন্সি নােট আইন পাশ হয়। ১৯০২খ্রিস্টাব্দে তিনি র্যালে কমিশন নিয়ােগ করেন। ১৯০২-০৩ খ্রিস্টাব্দে স্যার এন্ডু ফ্রেজারের নেতৃত্বে তিনি পুলিশ কমিশন নিয়ােগ করেন। ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দে ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আইন এবং প্রাচীন মনুমেন্ট সংরক্ষণ আইন পাশ হয়। তিনি দিল্লীর পুসাতে কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান গড়ে তােলেন। ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে তার সময় বাংলা বিভাজন বা বঙ্গভঙ্গ হয়। ১৯০০ খ্রিস্টাব্দে তিনি দুর্ভিক্ষ অনুসন্ধান করার জন্য ম্যাকডােনাল্ড কমিশন গঠন করেন। ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দে তিনি ইয়ং হাজবেন্ড মিশনকে তিব্বতে পাঠান।

লর্ড দ্বিতীয় মিন্টো (১৯০৫-১৯১০)

১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে তার সময়ে সুরাট কংগ্রেসের অধিবেশেন কংগ্রেসের বিভাজন হয়। তার সময় বঙ্গভঙ্গ বিরােধী আন্দোলন শুরু হয়। ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে মলে-মিন্টো সংস্কার আইন পাশ হয়। ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে ঢাকায় মুসলিম লিগ গঠিত হয় আগা খানের নেতৃত্বে। লর্ড সত্যেন্দ্র প্রসন্ন সিংহকে গভীর জেনারেলের কাউন্সিলে সদস্য নিয়ােগ করা হয়। ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় ভিক্টোরিয়া মেমােরিয়াল হলের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হয়। ১৯১০ খ্রিস্টাব্দে সংবাদপত্র আইন পাশ হয়। ওই বছর ২২ জুন পঞ্চম জর্জের রাজ্যাভিষেক হয়।

লর্ড দ্বিতীয় হার্ডিঞ্জ (১৯১০-১৯১৬)

১৯১১ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা থেকে রাজধানী দিল্লী যায়। ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে পঞ্চম জর্জ এবং কুইন মেরীর সম্মানে দিল্লী দরবার অনুষ্ঠিত হয়। ১৯১২ খ্রিস্টাব্দে তার উপর বােমা নিক্ষেপ করা হয়। ১৯১৩ খ্রিস্টাব্দে ভারতীয় ফৌজদারী আইন সংশােধিত হয়। ১৯২২ খ্রিস্টাব্দে ওয়েলিংটন কমিটি নিয়ােগ করা হয় সিভিল সার্ভিস-এর সংস্কারের জন্য। ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে কোমাগাতামারুর ঘটনা ঘটে। ওই বছর অরণ্য গবেষণা কেন্দ্র ও কলেজ সৃষ্টি হয়। ১৯১১ খ্রিস্টাব্দে বিহার ও উড়িষ্যা দুটি আলাদা রাজ্যের সৃষ্টি হয়। ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দে জার্মানিতে ভারতীয় স্বাধীনতা কমিটি গঠিত হয়। ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দে গােপালকৃষ্ণ গােখলের মৃত্যু হয় এবং মদনমােহন মালব্য হিন্দু মহাসভা গঠন করেন। ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে ‘স্যাডলার কমিশন’ নিয়ােগ করা হয়। তার সময় খােন্দ উপজাতির নরবলি প্রথা নিষিদ্ধ হয়।

লর্ড চেমসফোর্ড (১৯১৬-১৯২১)

১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে হােমরুল লীগ গঠিত হয় বালগঙ্গাধর তিলক ও অ্যানি বেসান্তের নেতৃত্বে। ওই বছর লক্ষ্ণৌ চুক্তি হয় কংগ্রেস ও মুসলিম লিগের মধ্যে বালগঙ্গাধর তিলক-এর মধ্যস্থতায়। ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে পুনাতে প্রথম মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে ওঠে। ১৯১৫ খ্রিস্টাব্দে ভারতে গান্ধীর প্রত্যাবর্তন, ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে সবরমতি আশ্রম প্রতিষ্ঠা, ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে আমেদাবাদ ও খেদা সত্যাগ্রহ আন্দোলন হয়। ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জী ভারতীয় লিবারাল ফেডারেশন গঠন করেন। ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে মন্টেগু-চেমসফোর্ড আইন, ওই বছর জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকান্ড ও হান্টার কমিশন নিয়ােগ করা হয়। ১৯১৯-২০ খ্রিস্টাব্দে খিলাফত কমিটি গঠন ও খিলাফত আন্দোলন, ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে লাহােরে হাইকোর্ট গঠন, ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে তৃতীয় আফগান যুদ্ধ, ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, সামরিক সংস্কারের জন্য নিযুক্ত এসহার কমিটির প্রতিবেদন পেশ এবং শিরােমনি গুরুদ্বার কমিটি গঠিত হয়। ১৯২০-২২ খ্রিস্টাব্দে অসহযােগ আন্দোলন। ১৯২০ খ্রিস্টাব্দে কংগ্রেসের নাগপুর অধিবেশনে ভারতীয় কংগ্রেসের সংবিধান পরিবর্তিত হয়। ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে ভিক্টোরিয়া মেমােরিয়াল নির্মাণ সম্পন্ন হয়, ৭ই নভেম্বর প্রিন্স অফ ওয়েলেস বােম্বাই আসেন এবং প্রথম ভারতীয় হিসাবে স্যার এস. পি. সিনহাকে বিহারের লেফটন্যান্ট গভর্নর করা হয়। ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে মােপলা বিদ্রোহ হয়।

লর্ড রিডিং (১৯২১-১৯২৬)

১৯২২ খ্রিস্টাব্দে ৫ ফেব্রুয়ারি চৌরী চৌরি ঘটনা ঘটায় গান্ধীজি অসহযােগ আন্দোলন প্রত্যাহার করেন। ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে চিত্তরঞ্জন দাশ ও মতিলাল নেহেরু স্বরাজ্য দল গঠন করেন। ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উদ্যোগে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় চালু হয়। ১৯২৪ খ্রিস্টাব্দে লি কমিশন সিভিল সার্ভিস সম্পর্কে প্রতিবেদন পেশ করেন। ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে ভারতে ও ইংল্যান্ডে একসঙ্গে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে প্রথম রেল বাজেট পেশ করা হয় আলাদা ভাবে। ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে দেবদাসী প্রথা বিলুপ্ত হয় এবং উত্তর প্রদেশের কাকোরিতে ট্রেন ডাকাতি ঘটে। ওই বছর সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল প্রথম ভারতীয় হিসাবে আইন সভার সভাপতি নিযুক্ত হন। ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে কে, বি. হেজনেওয়ার-এর নেতৃত্বে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘ (RSS) প্রতিষ্ঠিত হয়, ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠিত হয় কানপুরে। ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দে ভারতীয় মুদ্রা সংস্কারের জন্য হিলটন ইয়ং কমিটি নিয়ােগ করা হয়, রাওলাট আইন বাতিল করা হয় তার সময়ে। ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে চিত্তরঞ্জন দাশের মৃত্যু হয় দার্জিলিং-এ।

লর্ড আরউইন (১৯২৬-১৯৩১)

লর্ড আরউইন খ্রীশ্চিয়ান ভাইসরয় নামে পরিচিত। ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে সাইমন কমিশনের নিয়ােগ হয়। ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে ভারতীয় রাজ্য কমিশন বাটলার কমিটি নিয়ােগ করে। ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে অল ইন্ডিয়া স্টেটস পিউপল কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে প্রথম সারা ভারত যুব কংগ্রেস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে নেহেরু রিপাের্ট পেশ করা হয় এবং মুসলিম লিগ ও হিন্দু মহাসভা এই রিপাের্ট বাতিল করে। ১৯২৬ খ্রিস্টাব্দে ইন্ডিয়ান স্কুল অফ মাইনস্ ধানবাদে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে সদানন্দ চালু করেন ফ্রি প্রেস অফ ইন্ডিয়া নিউজ এজেন্সি। ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে সাইমন কমিশন বম্বে আসে। ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে কৃষির ওপর রয়্যাল কমিশন গঠিত হয়। ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে জিন্নার চৌদ্দ দফা দাবি পেশ হয়। ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে মীরাট ষড়যন্ত্র মামলা হয়, এবং লাহাের কংগ্রেসের অধিবেশনে পূর্ণ স্বাধীনতার প্রস্তাব গৃহীত হয়। ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে ২৬ জানুয়ারী প্রথম স্বাধীনতা দিবস পালন হয়, ১২ ই মার্চ গাজি ডান্ডি অভিযান করেন এবং প্রথম গােলটেবিল বৈঠক বসে। ওই বছর চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠন হয় এবং সাইমন কমিশনের রিপাের্ট পেশ করা হয়। ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দে ভগত সিং ও বটুকেশ্বর দত্ত কেন্দ্রীয় আইনসভায় বােমা নিক্ষেপ করেন, বিবাহের ক্ষেত্রে সারদা আইন পাশ হয়। মেয়েদের বিয়ের বয়স ১৪ বছর ও ছেলেদের ১৮ বছর করা হয়। ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দে দ্বিতীয় গোলটেবিল বৈঠক হয় এবং গান্ধীজি ইংল্যান্ডে যান। ওই বছর গান্ধী-আরউইন চুক্তি হয়।

লর্ড ওয়েলিংটন (১৯৩১-১৯৩৬)

১৯৩১ খ্রিস্টাব্দে সিন্ধুকে একটা আলাদা প্রদেশে ভাগ করা হয়, ২৪ ডিসেম্বর গান্ধী বােম্বাই আসেন। ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে র্যামজে ম্যাকডােনাল্ড সাম্প্রদায়িক রােয়েদাদ বা বাটোয়ারা নীতি ঘােষণা করেন, পুনা চুক্তি হয় গান্ধী ও আম্বেদকরের মধ্যে, গান্ধীজিকে বন্দী করা হয় এবং দেরাদুনে ভারতীয় মিলিটারী অ্যাকাডেমি প্রতিষ্ঠিত হয়, ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে তৃতীয় গােলটেবিল বৈঠক হয়। ১৯৩৩ খ্রিস্টাব্দে ভারতীয় রাজনৈতিক সংস্কারের জন্য শ্বেতপত্র (White Paper) প্রকাশ করা হয়। ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে আইন অমান্য আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়। ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে ভারতীয় নৌবাহিনী প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৩৫ খ্রিস্টাব্দে গভর্নমেন্ট অফ ইন্ডিয়া আইন পাশ হয়। ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে কংগ্রেস-সােসালিস্ট দল প্রতিষ্ঠা করেন আচার্য নরেন্দ্র দেব ও জয় প্রকাশ নারায়ণ স্বামী সহজানন্দ সরস্বতী ও এন. জি. রঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেন সারভারত কিষান সভা।

লর্ড লিনলিথগাে (১৯৩৬-১৯৪৩)

১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে কংগ্রেসিরা বিভিন্ন প্রদেশে মন্ত্রীসভা গঠন করে। ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে সুভাষচন্দ্র বসু কংগ্রেস ছেড়ে ফরওয়ার্ড ব্লক গঠন করেন। ওই বছর কংগ্রেসের মন্ত্রীসভা বিভিন্ন প্রদেশে পদত্যাগ করে। ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে আঞ্চলিক স্বশাসনদেওয়ার কথা ঘােষণা করা হয় এবং কংগ্রেস মন্ত্রীসভা ৬টি প্রদেশে পদত্যাগ করলে মুসলিম লিগ নিষ্কৃতি দিবস পালন করে। ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দে মুসলিম লিগের লাহাের অধিবেশনে পাকিস্তান প্রস্তাব গৃহীত হয়। ১৯৪১ খ্রিস্টাব্দে ১৭ জানুয়ারি সুভাষচন্দ্র দেশ ত্যাগ করেন।১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে ক্রিপস মিশন ভারতে আসেন, কংগ্রেস ক্রিপস প্রস্তাব বাতিল করে এবং ৮ আগস্ট ভারতছাড়াে আন্দোলনের প্রস্তাব পাশ হয় বােম্বাই কংগ্রেস অধিবেশনে। ১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দে সি. আর. ফলা উত্থাপিত হয়। ১৯৩৭ খ্রিস্টাব্দে গান্ধী ওয়ার্ধা এডুকেশান স্কীম চালু করেন।

লর্ড ওয়াভেল (১৯৪৩-১৯৪৭)

১৯৪৪ খ্রিস্টাব্দে সি. আর. ফর্মুলা আলােচিত হয় গান্ধী ও জিন্নার মধ্যে কিন্তু সেই আলােচনা ব্যর্থ হয়। ১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দে ওয়াভেল পরিকল্পনা ও সিমলা চুক্তিতে এটি আলােচিত হয় ও ব্যর্থ হয়। ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে রাজকীয় নৌবাহিনীর বিদ্রোহ ঘটে, INA এর সেনাদের বিচার হয় লালকেল্লায়, মন্ত্রী মিশন ভারতে আসে, ১৬ আগস্ট লিগ প্রত্যক্ষ সংগ্রামের ডাক (Direct Action day) দিলে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধে। ওই বছর ২ সেপ্টেম্বর নেহেরু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করেন। ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে ২০ ফেব্রুয়ারী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এটলি ঘােষণা করেন যে ১৯৪৮-এর জুন মাসের মধ্যে ভারতকে স্বাধীনতা দেওয়া হবে। ১৯৪৬ খ্রিস্টাব্দে ৯ ডিসেম্বর সংবিধান সভার প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় দিল্লীতে।

লর্ড মাউন্টব্যাটেন (১৯৪৭-১৯৪৮)

২৪ মার্চ ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে ভাইসরয় নিযুক্ত হন লর্ড মাউন্টব্যাটেন। ওই বছর ৩ জুন ‘মাউন্টব্যাটেন পরিকল্পনা’ ঘােষণা করা হয়। এই পরিকল্পনায় বলা হয় ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে ১৫ আগস্ট ভারতকে স্বাধীনতা দেওয়া হবে। ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে ৪ জুলাই ভারতের স্বাধীনতা বিলটি হাউস অফ কমনসে পেশ হয় ও ১৮ জুলাই বিলটি পাশ হয়। তিনি ভারতের শেষ ব্রিটিশ ভাইসরয়।

চক্রবর্তী রাজাগােপালাচারী (১৯৪৮-১৯৫০)

ইনি প্রথম ও শেষ ভারতীয় ভাইসরয়। ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দে জানুয়ারী ভারতবর্ষকে প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসাবে ঘােষণা করলে এবং ভারতের সংবিধান কার্যকর হলে ভাইসরয় পদের অবসান ঘটে। ভারতের প্রথম সেক্রেটারী অফ স্টেটস ছিলেন চার্লস উড এবং সর্বশেষ সেক্রেটারী অফ স্টেটস ছিলেন প্যাট্রিক লরেন্স।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

3 × four =