কর্ণাটক – আঞ্চলিক শক্তির উত্থান (Karnataka – Rise of regional power)

কর্ণাটক – আঞ্চলিক শক্তির উত্থান – আধুনিক যুগের ইতিহাস (Karnataka – Rise of regional power)

কর্ণাটক : স্বশাসিত কর্ণাটক রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করেন সাদাতুল্লা খান। কর্ণাটকের রাজধানী ছিল আর্কট। এরপর সিংহাসনে বসেন দোস্ত আলি। ১৭৪৩ খ্রিস্টাব্দে মারাঠাদের সঙ্গে সংঘর্ষে দোস্ত আলি মারা যান। এরপর নিজামের মনােনীত প্রার্থী আনােয়ারউদ্দীন কর্ণাটকের সিংহাসনে বসলে দোক্ত আলীর জামাতা চাদা সাহেব তা মানতে অস্বীকার করেন। ১৭৪৫ খ্রিস্টাব্দে ইংরেজ সেনাপতি কমােডের বানেট কয়েকটি ফরাসী জাহাজ দখল করে নিলে ইঙ্গ-ফরাসী প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হয়। পন্ডিচেরীর ফরাসী শাসনকর্তা ডুপ্লে মরিশাসের ফরাসী গভর্নর লা বুদানের কাছে কয়েকটি যুদ্ধ জাহাজ পাঠানাের আবেদন জানান।

প্রথম কর্ণাটকের যুদ্ধ (১৭৪৬-১৭৪৮) : ১৭৪৬ খ্রিস্টাব্দে ডুপ্লে মাদ্রাজ দখল করেন। ইংরেজরা কর্ণাটকের সুলতানের কাছে আবেদন জানায় ফরাসীদের হটিয়ে মাদ্রাজ পুনরায় তাদের ফিরিয়ে দেবার জন্য। ফরাসীরা নবাব আনােয়ারউদ্দীনকে মাদ্রাজ ফিরিয়ে দিতে অস্বীকার করলে ১০ হাজার নবাব বাহিনীর সঙ্গে ৯৩০ জন ফরাসী বাহিনীর সেন্ট থােম বা মাইলাপুরের যুদ্ধ হয়। ১৭৪৮ খ্রিস্টাব্দে অস্ট্রিয়ার উত্তরাধিকার সংক্রান্ত যুদ্ধের পরিমাপ্তি ঘটলে এই-লা-শ্যাপেলের সন্ধি হয় এবং ফরাসীরা মাদ্রাজ ইংরেজদের ফিরিয়ে দেয়।

দ্বিতীয় কর্ণাটকের যুদ্ধ (১৭৪৯-১৭৫৪) : ফরাসীরা হায়দরাবাদের মুজাফফর জঙ্গ ও কর্ণাটকের চাদা সাহেবকে সমর্থন করেন। অপরদিকে ইংরেজরা হায়দরাবাদের নাসির জঙ ও কর্ণাটকের আনােয়ারউদ্দিনকে সমর্থন করেন। ১৭৪৯ খ্রিস্টাব্দে অম্বরের যুদ্ধে আনােয়ারউদ্দিনকে হত্যা করে চাদা সাহেব কর্ণাটকের সিংহাসনে বসেন। আনােয়ারউদ্দিনের পুত্র ত্রিচিনােপল্লীতে আশ্রয় নেন। ১৭৫১ খ্রিস্টাব্দে মুজাফফর জঙ নিহত হলে সলাত জঙকে সিংহাসনে বসানাে হয়। কর্ণাটকের দ্বিতীয় যুদ্ধে ডুপ্লের পরাজয় হলে ভারতে ফরাসী সাম্রাজ্য বিস্তারের সম্ভাবনা চিরতরে বিলীন হয়। ১৭৫৪ খ্রিস্টাব্দে ফরাসী কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তিনি দেশে ফেরেন এবং গােদে তার স্থলাভিষিক্ত হন।

তৃতীয় কর্ণাটকের যুদ্ধ (১৭৫৮-১৭৬৩) : ১৭৫৬ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডে সপ্তবর্ষব্যাপী যুদ্ধ শুরু হলে ইংরেজ সেনাপতি ক্লাইভ ও ওয়াটসন বাংলার চন্দননগর ফরাসীদের কাছ থেকে দখল করে নেন ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দে। ১৭৫৮ খ্রিস্টাব্দে কাউন্ট লালী ফরাসী শক্তিকে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করেন। ১৭৫৮ খ্রিস্টাব্দে লালী মাদ্রাজ আক্রমণ করে ব্যর্থ হন। কর্নেল ড্রোপার ও লরেন্স মাদ্রাজকে রক্ষা করেন ফরাসীদের বিরুদ্ধে। ফরাসী নৌবহরকে ১৭৫১৯ খ্রিস্টাব্দে পরাজিত করেন ইংরেজ সেনাপতি অ্যাশে। ১৭৬০ খ্রিস্টাব্দে ২২ জানুয়ারী বন্দীবাসের যুদ্ধেইংরেজ জেনারেল স্যার আয়ারকুট কাউন্ট লালীকে পরাস্ত করেন। ১৭৬১ খ্রিস্টাব্দে পন্ডিচেরী ইংরেজরা দখল করে নেন। এরপর ফরাসী অধিকৃত জিঞ্জি ও মাহের পতন ঘটে। ১৭৬৩ খ্রিস্টাব্দে সপ্তবর্ষব্যাপী যুদ্ধের অবসান ঘটলে প্যারিসের সন্ধি স্বাক্ষরিত হয়। সন্ধির শর্তানুসারে ফরাসীরা তাদের অধিকৃত স্থানগুলি ফিরে পায় বাণিজ্যের জন্য।

জাঠ শক্তির উত্থান


শিখ শক্তির উত্থান ও পতন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

two + 9 =