হায়দরাবাদ – আঞ্চলিক শক্তির উত্থান (Hyderabad – Rise of regional power)

হায়দরাবাদ – আঞ্চলিক শক্তির উত্থান – আধুনিক যুগের ইতিহাস (Hyderabad – Rise of regional power)

হায়দরাবাদনিজাম-উল-মুলক আসফ ঝ (১৭২৪-১৭৪৮) : ১৭১৩ থেকে ১৭১৫ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি ছিলেন দাক্ষিণাত্যের শাসনকর্তা। তার আসল নাম ছিল চিন কিলিজ খান। সম্রাট ফারুকশিয়র তাকে ‘খান-ই-দুরান’ ও ‘নিজাম-উল-মুলক’ উপাধি দেন। ১৭২২-২৪ এর মধ্যে তিনি মহম্মদ শাহের উজীর নিযুক্ত হন। ১৭৩১ খ্রিস্টাব্দে ধাবােই-এর যুদ্ধে তিনি মারাঠাদের কাছে পরাস্ত হন। ১৭৪১ খ্রিস্টাব্দে তিনি বিদ্রোহী নাসির জঙকে পরাস্ত করেন। তিনি শাকি নামে ফার্সি ভাষায় একটি গ্রন্থ লেখেন। তিনি মুজাফফর জঙকে “হিদায় মুহীউদ্দীন খান” উপাধি দেন।

নাসির জঙ (১৭৪৮-১৭৫০) : নাসির জকে হত্যা করে ১৭৫০ খ্রিস্টাব্দে সিংহাসেন বসেন তার ভাগ্নে ও নিজাম-উ-মুলক-এর পৌত্র মুজাফফর জঙ্গ।

মুজাফফর জঙ্গ (১৭৫০-১৭৫১) : তিনি ফরাসীদের সাহায্যে সিংহাসনে বসেন। কর্ণাটকের চাঁদা সাহেব ১৭৪৯ খ্রিস্টাব্দে মুজাফফর জঙকে দিওয়ান নিযুক্ত করেন ও ‘খুদা-নওয়াজ খান বাহাদুর’ উপাধি দেন এবং কর্নাটক রাজ্য দখলের পরামর্শ দেন।

সালাবত জঙ (১৭৫১-১৭৬০) : মুজাফফর জঙের দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে ফরাসীদের সাহায্যে সালাবত জঙ সিংহাসনে বসেন। সম্রাটের নিরাপত্তার তাগিদে বুশি হায়দরাবাদে একটি বিশাল সেনাবাহিনী মােতায়েন রাখেন। ১৭৫৯ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ কর্নেল ফোর্ডের সঙ্গে সালাবত জঙ মসলিপত্তনমের সন্ধি করেন। এরপরে যথাক্রমে সিংহাসনে বসেন নিজাম আলি (১৭৬০-১৮০৩), সিকান্দার আঁ (১৮০৩-২৯), নাসির-উদ-দৌলা (১৮২৯-৫৭), আফজল-উদ-দৌলা (১৮৫৭-৬৯), মহব্রত আলি খাঁ (১৬৬৯-১৯১১) এবং শেষ সুলতান ওসমান-আলি-খা (১৯১১-১৯৪৯)।

নিজাম আলি (১৭৬০-১৮০৩) : তিনি ১৭৬৮ খ্রিস্টাব্দে হায়দরাবাদ চুক্তি করেন। দ্বিতীয় ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধে নিজাম নিরপেক্ষ থাকেন, তৃতীয় ও চতুর্থ ইঙ্গ-মহীশূর যুদ্ধে তিনি ইংরেজদের সাহায্য করেন। ১৭৯৮ খ্রিস্টাব্দে লর্ড ওয়েলেসসি এবং নিজাম আলির মধ্যেঅধীনতামুলক মিত্রতা নীতি স্বাক্ষরিত হয়। নিজাম ১৮০০ খ্রিস্টাব্দে মহীশূর রাজ্যের অধিকাংশ স্থান অর্জন করেন। ১৮৫৩ খ্রিস্টাব্দে লর্ড ডালহৌসি বেরার প্রদেশটি নিজামের কাছ থেকে কেড়ে নেন অধীনতামূলক মিত্রতা নীতির খরচ হিসাবে। ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে মহাবিদ্রোহের সময় নিজাম ব্রিটিশদের সাহায্য করেছিলেন।

রােহিলা

রােহিলারা ছিল আফগান। মুঘলরা পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধে আফগানদের পরাস্ত করে। সপ্তদশ শতকে এলাহাবাদ, দ্বারভাঙা, উড়িষ্যা ও শিলেটে তাদের রাজ্য বিস্তৃত ছিল। তাদের রাজধানী ছিল রামগঙ্গা নদীর তীরে রামপুর। প্রাথমিকভাবে একে বলা হত কাটিহার।

আহম্মদ শাহ আবদালীর ভারত আক্রমণ

আহম্মদ শাহ আবদালী চারবার ভারত আক্রমণ করেন। তিনি প্রথমবার মানপুরের যুদ্ধে মুঘলদের কাছে পরাজিত হন এবং মীর মনু তাকে পরাস্ত করেন। তার পঞ্চম বার ভারত আক্রমণের সময় মারাঠাদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে এবং পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধে মারাঠারা পরাস্ত হয়। ১৭৬৭ খ্রিস্টাব্দে আবদালির সেনাপতি জাহান খান শিখনেতা শােভা সিং ও হীরা সিং-এর কাছে পরাস্ত হন। পাতিয়ালার অমর সিং আহমেদ শাহ আবদালিকে সাহায্য করেন। আহমেদ শাহ আবদালা অমর সিংকে ‘রাজা-ই রাজান’ উপাধি দেন। ১৭৭২ খ্রিস্টাব্দে আহম্মদ শাহ আবদালী মারা যান।

জাঠ শক্তির উত্থান


শিখ শক্তির উত্থান ও পতন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

17 + 4 =