অভিব্যক্তি

অভিব্যক্তি (Evolution)

অভিব্যক্তি (রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর)

প্রশ্ন 1. কিভাবে পৃথিবী ও পৃথিবীতে জীবনের অস্তিত্বের সম্ভাবনার সূচনা হয়?
উত্তর : সূর্য থেকে পৃথিবীর সৃষ্টি হয়েছিল প্রায় 460 কোটি বৎসর আগে। উৎপত্তির ঠিক পরেই পৃথিবী ছিল জলন্ত এক গ্যাসপিণ্ডের মতাে। কোটি কোটি বৎসর ধরে তাপ-বিকিরণের ফলে, পৃথিবী ক্রমে ঠাণ্ডা হতে থাকে এবং গ্যাসপিণ্ড ঘনীভূত হয়ে তরল অবস্থায় পরিণত হয়। ক্রমাগত এইভাবে তাপ-বিকিরণের ফলে পৃথবীর উপরিভাগ স্তরে স্তরে কঠিন হতে শুরু করে এবং জলীয় বাষ্প উপরের দিকে উঠে, মেঘ সৃষ্টি করে। মেঘ থেকে বৃষ্টিপাতের ফলে পৃথিবীতে জল ভাগের সৃষ্টি হয়। এভাবে ক্রমশ পৃথিবীর স্থলভাগ ও জলভাগ আরও ঠাণ্ডা হয়। এর পর থেকেই পৃথিবীতে জীবনের অস্তিত্বের সূচনা হয় ।
প্রশ্ন 2. জীবনের উৎপত্তি সম্পর্কে আধুনিক মতবাদ কি কি?
উত্তর :জীবনের উৎপত্তি সম্পর্কে তিনটি আধুনিক মতবাদ হল :
 (i) অ্যামাইনাে অ্যাসিড ও নিউক্লিক অ্যাসিডের উৎপত্তি: আনুমানিক 260 কোটি বৎসর আগে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রচুর পরিমাণে মিথেন, অ্যামােনিয়া, হাইড্রোজেন এবং জলীয় বাষ্প ছিল; কিন্তু, অক্সিজেন গ্যাস ছিল না। বজ্রপাত-এর ফলে এবং অতিবেগুনী রশ্মির প্রভাবে এই যৌগ পদার্থগুলি মিলিত হয়ে অ্যামাইনাে অ্যাসিড এবং নিউক্লিক অ্যাসিড তৈরি করে।
(ii) প্রােটীন অণুর উৎপত্তি : অ্যামাইনো অ্যাসিড এবং নিউক্লিক অ্যাসিড থেকে ক্রমে প্রোটীন অণুর সৃষ্টি হয়।
(iii) প্রােটীন অণুর প্রতিরূপ গঠনের ক্ষমতা অর্জন তথা জীবনের উৎপত্তি ও প্রােটীন অণুগুলি ক্রমে নিজেদের মতাে অণু গঠন করার ক্ষমতা অর্জন করে। এখানেই জীবনের সূত্রপাত বলা যায়। এই সমস্ত প্রােটিন অণু থেকে কালক্রমে সালোকসংশ্লেষকারী, স্বভােজী, এককোষী উদ্ভিদ সৃষ্টি হয়। এই উদ্ভিদের সালােকসংশ্লেষের ফলে উৎপন্ন গ্যাস বায়ুমণ্ডলে জমতে থাকে।
প্রশ্ন 3. জীবনের উৎপত্তি সম্বন্ধে আধুনিক মতবাদের সপক্ষে কি কি প্রমাণ গ্রহণযােগ্য?
উত্তর : যে কয়েকটি বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্যের ওপর নির্ভর করে আধুনিক মতবাদ জীবনের উৎপত্তি সম্বন্ধে প্রতিষ্ঠিত সেগুলি মােটামুটি হল :
(i) মিথেন, অ্যামােনিয়া, হাইড্রোজেন এবং জলীয় বাষ্পের মিশ্রণকে অতিবেগুনী রশ্মির সাহায্যে অ্যামাইনো অ্যাসিডে পরিণত করা সম্ভব হয়েছে।
(ii) মিথেন, অ্যামােনিয়া এবং জলের মিশ্রণ থেকে অতিবেগুনী রশ্মির প্রভাবে নিউক্লিক অ্যাসিড তৈরি করা হয়েছে।
(iii) টোব্যাকো মােজাইক ভাইরাস নামের ভাইরাসকে প্রােটীন এবং নিউক্লিক অ্যাসিড নামের দুটি জড় অংশে পৃথক করা গেছে। এই জড় অংশ দুটি আবার যুক্ত করলে, পুনরায় এই ভাইরাস পাওয়া যায় ।
   এই তথ্যগুলির ভিত্তিতে অনুমান করা হয় যে, সম্ভবতঃ সুদুর অতীতের কোনও স্বাধীনজীবী ভাইরাসই জড় ও জীবের মধ্যে সংযােগকারী পদার্থ।
প্রশ্ন 4. উদ্ভিদ রাজ্যে কিভাবে অভিব্যক্তি ঘটেছে তার সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
উত্তর : উদ্ভিদ রাজ্যে অভিব্যক্তিগুলি হল :
(i) এককোষী উদ্ভিদ থেকে বহুকোষী উদ্ভিদের উৎপত্তি ও উ উদ-অভিব্যক্তির প্রথম পর্যায়ে সরল গঠনের স্বভোজী, এককোষী উদ্ভিদ সৃষ্টি হয়েছিল। ক্রমে এদের থেকে বহুকোষী উদ্ভিদের সৃষ্টি হয় । এইসব বহুকোষী উদ্ভিদেরও গঠন জটিলতা-বর্জিত-কতকটা বর্তমান শেওলা ও ছত্রাকদের মতো। এদের দেহ, কাও, মূল ও পত্রে ভাগ করা যায় না।
(ii) সরল-দেহী বহুকোষী উদ্ভিদ থেকে কাণ্ড, পত্র, মূল এবং সংবহন-কলাযুক্ত উদ্ভিদের আবির্ভাব ও কালক্রমে সরল-দেহী বহুকোষী উদ্ভিদ থেকে বিভিন্ন ধাপে মস এবং ফার্ন-জাতীয় উদ্ভিদদের পূর্বপুরুষদের সৃষ্টি হয় অর্থাৎ, যথাক্রমে কাণ্ড ও পত্র, এবং কাণ্ড, পত্র ও মূল এবং সংবহন-কলাযুক্ত উদ্ভিদদের উৎপত্তি হয়। অপেক্ষাকৃত জটিল গঠনের হলেও, ফার্ন-জাতীয় উদ্ভিদেরা অপুষ্পক ।
(iii) সপুষ্পক উদ্ভিদের উৎপত্তি ও ক্রমে সপুষ্পক উদ্ভিদের আবির্ভাব হয়। পাইন-জাতীয় সপুষ্পক উদ্ভিদদের বীজ হলেও, ফল হয় না অর্থাৎ, এরা ব্যক্তবীজী। গুপ্তবীজী নামের সপুষ্পক উদ্ভিদেরা আরও জটিল গঠনের। এদের বীজ ফলের মধ্যে সুরক্ষিত থাকে। গুপ্তবীজী উদ্ভিদদের অভিব্যক্তি, একবীজপত্রী এবং দ্বিবীজপত্রী এই দুটি ধারায় বয়ে চলেছে।
প্রশ্ন 5. প্রাণী রাজ্যে অভিব্যক্তির একটি সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
উত্তর : প্রাণী রাজ্যে তিনটি প্রধান অভিব্যক্তি হল : (i) এককোষী প্রাণী থেকে সরল-দেহী বহুকোষী প্রাণীর উৎপত্তিঃ প্রথম-সৃষ্ট এককোষী প্রাণী থেকে কালক্রমে বহুকোষী প্রাণী সৃষ্টি হয়। স্পঞ্জ জাতীয় বহুকোষী প্রাণীদের দেহে কোষগুলি নির্দিষ্ট কলা গঠন করে না।
(ii) কলা-যুক্ত প্রাণীর আবির্ভাব : হাইড্রো-জাতীয় প্রাণীদের অর্থাৎ একনালীদেহী প্রাণীদের দেহে প্রথম কলার আবির্ভাব হয়। কালক্রমে আবার বিভিন্ন দলের প্রাণীদের মধ্যে দৈহিক গঠনে জটিলতা দেখা দিতে থাকে। এই প্রক্রিয়ায় ধীরে ধীরে বিভিন্ন দলের অমেরুদণ্ডী প্রাণীদের উৎপত্তি হয়।
(iii) মেরুদণ্ডী প্রাণীর উৎপত্তি ও অজানা কোনও অমেরুদণ্ডী প্রাণী থেকে মেরুদণ্ডী প্রাণীদের উদ্বংশীয় জীবের সৃষ্টি হয়েছে বলে অনুমান করা হয়। মাছ-জাতীয় মেরুদণ্ডী প্রাণীদের গঠন অপেক্ষাকৃত সরল। এদের থেকে সৃষ্টি হয় উভচরদের। উভচর থেকে সরীসৃপ সৃষ্টি হয়। আদিম সরীসৃপদের থেকে দুটি ধারায় পাখি এবং স্তন্যপায়ী প্রাণীদের উদ্ভব ঘটে। অভিব্যক্তির ইতিহাসে মানুষের উৎপত্তি কোটি কোটি বছর আগেকার নয়। এটি খুবই সাম্প্রতিক ঘটনা।
প্রশ্ন 6. (i) কয়েকটি প্রধান জীবাশ্মের নাম কর। (ii) জীবাশ্মের তাৎপর্য কি?
উত্তর : (i) প্রকৃতি অনুসারে কয়েক ধরনের জীবাশ্ম হল প্রস্তরীভূত জীবাশ্ম-যেমন প্রাণীর হাড়, খােলস, আঁশ প্রভৃতির, ঘােড়া ও হাতির জীবাশ্ম, কয়লা, উদ্ভিদের জীবাশ্ম। জীবদেহের অংশবিশেষের ছাপ—যেমন পাখির পালক, চতুষ্পদ প্রাণীর অগ্র ও পশ্চাদপদের ছাপ ইত্যাদির জীবাশ্ম। সংরক্ষিত সমগ্ৰী জীবদেহ (ম্যামথ নামে হাতি জাতীয় প্রাণীর সমগ্র দেহ সাইবেরিয়ার তুষারাবৃত অঞ্চলে পাওয়া গেছে, এটি একটি বশেষ ধরনের জীবাশ্ম)।
(ii) জীবাশ্ম হল অভিব্যক্তির স্বপক্ষে প্রত্যক্ষ প্রমাণ। নিচে কয়েকটি প্রাণীর অভিব্যক্তি দেওয়া হল।
(a) ডিপলেভাটিব্রন নামের জীবাশ্মীভূত প্রাণীর দৈহিক গঠন অংশত: মাছ এবং অংশতঃ উভচরের মতো বলে এর থেকে অনুমান করা হয় যে, মাছ-জাতীয় প্রাণী থেকে উভচরদের উদ্ভব ঘটেছিল।
(b) সেমুরিয়া নামক প্রাণীর জীবাশ্মে উভচর ও সরীসৃপের মিলিত বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। এর থেকে অনুমান করা হয় যে, সরীসৃপদের উদ্ভব ঘটেছিল কোনও উভচর-জাতীয় প্রাণী থেকে।
(c) অর্কিওপটেরিক্স নামের জীবাশীভূত প্রাণীর দেহে যে পালক ছিল তার প্রমাণ পাওয়া যায় তাদের জীবাশ্মের সুস্পষ্ট পালকের ছাপ থেকে । পালক একমাত্র পাখির বৈশিষ্ট্য। অতএব, আকিপ টরিক্স নিশ্চিত পাখি।
   আবার এর দেহে বেশ কয়েকটি সরীসৃপের বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। (যেমন–“লম্বা ও অস্থি-নির্মিত লেজ, দাঁত, তাপদে আঁশ দ্বারা আবৃত এবং নখর-যুক্ত তিনটি মুক্ত অঙ্গুলি ইত্যাদি। এর থেকে ধারণা করা হয় যে, কোনও সরীসৃপ-জাতীয় উদ্ৰংশীয় থেকে পাখির উদ্ভব হয়েছিল। 
প্রশ্ন 7. অভিব্যক্তি সম্পর্কে লামারকের মূল প্রতিপাদ্য বিষয়ের সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
উত্তর : লামারকের মতবাদের মূল প্রতিপাদ্য চারটি বিষয় নিচে দেওয়া হল ।
(i) অভ্যন্তরীণ প্রচেষ্টায় জীবের আয়তন-বৃদ্ধি : জীবের নিজস্ব জীবনীশক্তির প্রভাবেই জীব স্বভাবতঃ আয়তনে বৃদ্ধি পায়। এই ভাবে জীবদেহের সামগ্রিক বৃদ্ধি ও দেহের বিভিন্ন অংশও বৃদ্ধি পায়।
(ii) প্রয়ােজনের তাগিদে অঙ্গ-সৃষ্টির পরিবেশের পরিবর্তন ঘটলে, ঐ পরিবর্তিত পরিবেশ জীবদেহে প্রভাব বিস্তার করে। এর ফলে জীবের দেহে নূতন নূতন অঙ্গ অথবা অংশ সৃষ্টি হয়। এগুলি জীবকে পরিবর্তিত পরিবেশে মানিয়ে চলতে সাহায্য করে।
(iii) অঙ্গের ব্যবহার ও অব্যবস্থার কোনও অঙ্গের বৃদ্ধি ও পূর্ণতা লাভ ঐ হাঙ্গের ব্যবহারের সঙ্গে সমানুপাতিক। অর্থাৎ, কোনও অঙ্গ যদি ক্রমাগত ব্যবহৃত হতে থাকে, তবে ঐ অঞ্চ উত্তরোত্তর এবং ধীরে ধীরে সবল হতে থাকে এবং এই ভাবে শেষপর্যন্ত গঠনের দিক থেকে পূর্ণতালাভ করে। আবার অপরপক্ষে, কোনও অঙ্গ যদি ক্রমাগত এবং দীর্ঘ সময় ধরে অব্যবহৃত হয়, তবে ঐ অঙ্গ ক্রমেই দুর্বল ও আকারে ছােট হতে থাকে এবং শেষপর্যন্ত একেবারে অবলুপ্ত হয়ে যায়।
(iv) অর্জিত লক্ষণের উত্তরাধিকার : জীবের জীবন-কালে অর্জিত লক্ষণের উত্তরাধিকার হিসাবে অপত্য জীবে সঞ্চারিত হয়। অর্থাৎ, জনিতু-জীবের জীবনকালে অজিত যাবতীয় বৈশিষ্ট্য বংশপরম্পরায় প্রবাহিত হয় এবং এর ফলেই নূতন প্রজাতির উৎপত্তি হয়। এটিই অভিব্যক্তি সম্পর্কে মারক-এর প্রধান বক্তব্য। 
প্রশ্ন ৪. (i) ডারউইনের মতবাদের পরিবৃত্তি কাকে বলে? (ii) জীবের সংখ্যা বৃদ্ধি, কিরুপ হয়?
উত্তর : (i) যৌন জননকারী জীবের ক্ষেত্রে অপত্য জীব ঐলিই জনতৃ-জীব থেকে পৃথক হয় এবং হুবহু এক হয় না। দুটি জীবের মধ্যে কিছু না কিছু পার্থক্য থাকবেই! এই পাহক বাহা, অভ্যন্তরীণ, শারীরবৃত্তীয়, ইত্যাদি যে-কোনও ধরনের হতে পারে। একই প্রজাতির অন্তর্গত বিভিন্ন জীবের মধ্যে এই পার্থক্যকে বলা হয় পরিবৃত্তি (Variation)। ডারউইনের মতে স্বাভাবিক পরিবেশে বসবাসকারী জীবের কম-বেশি পরিবৃত্তিই অভিব্যক্তির মৌলিক উপাদান।
(ii) প্রতিটি জীবের দ্রুত সংখ্যাবৃদ্ধি করার স্বাভাবিক ক্ষমতা আছে। জননে কোনও বাধা না পেলে এবং উৎপন্ন প্রতিটি অপত্য জীব বেঁচে থেকে জুনন করতে পারলে, মাত্র একটি জীব থেকে খুবই অল্প সময়ের মধ্যে অসংখ্য জীব উৎপন্ন হতে পারে। অর্থাৎ গুণোত্তর অনুপাতে জীবের সংখ্যা বৃদ্ধি হয়।
প্রশ্ন 9 (i). ডারউইনের মতবাদের জীবন সংগ্রাম বলতে কি বােঝায়?
উত্তর : স্বাভাবিক অবস্থায়, জীবের অকল্পনীয় সংখ্যায় বংশবৃদ্ধি পেতে পারে না। কিন্তু দেখা যায় যে, নানা অবস্থার মধ্যে কোনও প্রজাতির অন্তর্গত জীবদের সংখ্যা মোটামুটি একই থাকে। বেঁচে থাকার পক্ষে নানারকম বাধার জন্যই এরকম হয়। সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার প্রয়োজনে প্রতিটি জীবকে খাদ্য, আশ্রয় ইত্যাদির জন্য প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হয়। বেঁচে থাকার জন্য এই সংগ্রামকে বলা হয় জীবন-সংগ্রাম (Struggle for existence)। জীবন-সংগ্রাম আবার তিন ধরনের। যেমন—অন্তঃপ্রজাতি সংগ্রাম, আন্তঃপ্রজাতি সংগ্রাম এবং পরিবেশের সঙ্গে সংগ্রাম।
প্রশ্ন 9 (ii). অন্তঃপ্রজাতি সংগ্রাম কাকে বলে ? উদাহরণ দাও।
উত্তর : একই প্রজাতির বিভিন্ন জীবের মধ্যে যে জীবন-সংগ্রাম, তাকে বলা হয় অন্তঃপ্রজাতি সংগ্রাম (Intraspecific struggle)। সপুষ্পক উদ্ভিদ থেকে উৎপন্ন লক্ষ লক্ষ বীজেও সবগুলিই অঙ্কুরিত হতে পারে না। আবার, অঙ্কুরিত বীজ গুলি থেকে উৎপন্ন রংগাছলি স্থান এবং আলো-বাতাসের জন্য পরস্পর প্রতিযোগিতার ফলে, শেষপর্যন্ত মাত্র অল্প কয়েকটি উদ্ভিদ জননক্ষম হওয়া পর্যন্ত বেঁচে থাকে।
প্রশ্ন 9 (iii). আন্তঃপ্রজাতি সংগ্রাম ও পরিবেশের সংগ্রাম কি?
উত্তর : জীবন-সংগ্রাম যে কেবল একই প্রজাতির অন্তর্গত বিভিন্ন জীবের মধ্যে হয় তাই নয়, একই পরিবেশে বসবাসকারী অন্যান্য প্রজাতির জীবদের সঙ্গেও এই সংগ্রামে লিপ্ত হতে হয়। বিভিন্ন প্রজাতির জীবদের মধ্যে এই জীবন-সংগ্রামকে বলা হয় আন্তঃপ্রজাতি সংগ্রাম (Interspecific struggle )। শিকারজীবী প্রাণী, রোগজনক জীব ইত্যাদির আক্রমণ থেকে আত্মরক্ষার জন্য জীবকে সব সময়ে চেষ্টা চালিয়ে যেতে হয়। অনাবৃষ্টি, অতিবৃষ্টি, বন্যা, ঝড়, তুষারপাত ইত্যাদি পরিবেশের প্রতিকূল অবস্থার বিরুদ্ধেও সংগ্রাম করে বেঁচে থাকতে হয়। একে বলে পরিবেশের সঙ্গে সংগ্রাম (Environmental struggle)
প্রশ্ন 10. ডারউইনের যােগ্যতমের উদ্বর্তন ও প্রাকৃতিক নির্বাচন বলতে কি বােঝায় সংক্ষেপে আলোচনা করো।
উত্তর : যে পরিবৃত্তি জীবকে নিজের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে তাকে বলা হয় অনুকুল পরিবৃত্তি (Favourable variation)। ডারউইনের মত যে অনুকূল পরিবুভি-সম্পন্ন জীব জীবন-সংগ্রামে অধিকতর সাফল্যের সঙ্গে বিভিন্ন প্রতিকূল অবস্থার মোকাবিলা করে বেঁচে থাকতে পারে এবং উৎপন্ন বংশধরদের মধ্যে নিজের অনুকূল পরিবৃত্তিগুলি বংশপরম্পরার ধারা বজায় রাখতে পারে তাকে যােগ্যতমের উদ্বর্তন (Survival of the fittest) বলা হয়।
   দেখা গেছে বেশ কয়েক জনুর পর, পরিবৃত্তির পরিমাণ বেড়ে গিয়ে উদ্বংশীয় জীব এবং বংশধরদের মধ্যে সাদৃশ থেকে বৈসাদৃশ্যই বেশি প্রকাশ পায়। অথচ এরূপ বংশধরকে নুতন প্রজাতি রূপে ধরা হয়। সুতরাং যে সমস্ত বংশধরদের মধ্যে অনুকূল পরিবৃত্তির সৃষ্টি হয় না (কম সৃষ্টি হয়) তারা ক্রমশঃ লুপ্ত হয়ে যায়। একেই বলা হয় কতিক নির্বাচন (Natural Selection )। প্রাকৃতিক নির্বাচন সাধারণত যােগ্যতম বংশধরদের ধরে রাখে। কিন্তু অযােগ্য বংশধরদের লুপ্ত হয়ে যেতে দেয়।

অভিব্যক্তি (সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর)

প্রশ্ন 11. অভিব্যক্তি কাকে বলে?
উত্তর : কোনও উদবংশীয় জীব থেকে যে জটিল ধারার নতুন ধরনের জীবের উদ্ভব হয় তাকে অভিব্যক্তি (Evolution) বা জীব অভিব্যক্তি (organic evolution) বলে।
প্রশ্ন 12. অভিব্যক্তি কিরূপ প্রক্রিয়া ?
উত্তর : অভিব্যক্তি একটি খুবই মন্থর গতিশীল প্রক্রিয়া। লক্ষ লক্ষ বছর ধরে আস্তে আস্তে জীবের অভিব্যক্তি ঘটে।
প্রশ্ন 13. অভিব্যক্তির মূল কথা কি?
উত্তর : অভিব্যক্তির মূল কথা হল : জটিলতা বর্জিত জীব থেকে জটিলতর এবং অনুন্নত জীব থেকে উন্নততর জীবের সৃষ্টি হওয়া।
প্রশ্ন 14. কেন এবং কোথায় প্রথমে জীবনের উৎপত্তি হয়েছিল বলে অনুমান করা হয়?
উত্তর : পরীক্ষায় জানা গেছে যে অনেক জটিলতা-বর্জিত এবং অনুন্নত ধরনের জীব সমুদ্রের জলে বাস করে। অধিকাংশ জীবের কোষে রক্তে এবং দেহের মধ্যস্থ অন্যান্য তরল পদার্থে নানারকম লবণ আছে। এই লবণগুলি সমুদ্রের জলেও পাওয়া যায়। এ সব থেকে অনুমান করা হয় যে, জীবনের উৎপত্তি হয়েছিল সমুদ্রের জলে।
প্রশ্ন 15. জীব অভিব্যক্তির দুটি অঙ্গসংস্থানগত দুটি প্রমাণের উল্লেখ কর।
উত্তর : মেরুদণ্ডী প্রাণীর অগ্ৰপদ ও পশ্চাৎ পদ গঠনের এবং হৃৎপিণ্ডের গঠনের মৌলিক সাদৃশ্য আছে। প্রথম ক্ষেত্রে উভচর থেকে মেরুদণ্ডী প্রাণীদের অগ্র ও পশ্চাদ পদে পাঁচটি করে আঙ্গুল আছে। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে সমস্ত মেরুদণ্ডী প্রাণীর হৃৎপিণ্ডে অলিন্দ ও নিলয় আছে।
প্রশ্ন 16. মানুষের লেজের ক্ষয়প্রাপ্ত অবস্থা কোনটিকে নির্দেশ করে?
উত্তর : মানুষের লেজের প্রয়ােজন না থাকায় এটি প্রায় লুপ্ত হয়ে গেছে। কেবল মেরুদণ্ডের শেষ প্রান্তে অবস্থিত অনুত্রিকাস্থির (Coccyx) সাথে যুক্ত তিন থেকে পাঁচটি কশেরুকা (Vertebra) লেজটির এই ক্ষয়প্রাপ্ত অবস্থা নির্দেশ করে।
প্রশ্ন 17. মানুষের কয়েকটি ক্ষয়প্রাপ্ত অঙ্গের নাম কর।
উত্তর : এ পর্যন্ত মানুষের প্রায় 90টি ক্ষয়প্রাপ্ত অঙ্গের গঠনের কথা জানা গেছে। যেমন অ্যাপেডিক্স, চোখের কোণের উপপল্লব, তীক্ষ্ণ শ্বদন্ত, তৃতীয় পেষক দন্ত, কর্ণছত্র নাড়ানাের পেশী, দেহের চুল, পুরুষের স্তনবৃন্ত, উদরের মণ্ডিত পেশী ইত্যাদি।
প্রশ্ন 18. কি থেকে সাপ ও তিমিদের অভিব্যক্তি ঘটেছে বলে অনুমান করা হয়?
উত্তর : ময়াল সাপের এবং তিমির ক্ষয়প্রাপ্ত শ্রেণীচক্র ও পশ্চাৎ পদ থেকে অনুমান করা হয়েছে কোন চতুস্পদ সরীসৃপ থেকে সাপ জাতীয় প্রাণীদের এবং চতুষ্পদ শুন্যপায়ী প্রাণী থেকে তিমিদের অভিব্যক্তি ঘটেছে।
প্রশ্ন 19. উদ্ভিদের অভিব্যক্তির ফলে তার একটি অঙ্গ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে এরূপ একটি উদ্ভিদের উদাহরণ দিয়ে দেখাও।
উত্তর : স্ক্রোফুলেরিয়া পুষ্পের পুংস্তবকের পাঁচটি পুংকেশরের মধ্যে একটির মধ্যে দেখা গেছে সে পরাগরেণু উৎপন্ন করতে পারে না অর্থাৎ বন্ধ্যা। এর থেকে বলা যায় উদ্ভিদের উদবংশীয়দের পুষ্পে পাঁচটি সক্রিয় পুংকেশর ছিল। সম্ভবতঃ অভিব্যক্তির ফলে সমস্ত পুংকেশরের প্রয়ােজনীয়তা না থাকায় একটি পুংকেশর বন্ধ্যা পুংকেশরে পরিণত হয়েছে।
প্রশ্ন 20. জীবাশ্ম কাকে বলে?
উত্তর : পাললিক শিলার বিভিন্ন স্তরে সংরক্ষিত অতীত যুগের জীবের প্রস্তরীভূত দেহাবশেষ বা দেহের ছাপকে বা বিশেষ উপায়ে সংরক্ষিত সমগ্র জীবদেহকে জীবাশ্ম (Fossil) বলা হয়।
প্রশ্ন 21. জীবাশ্মের সবচেয়ে উল্লেখযােগ্য প্রমাণ কোনটির মধ্যে কিভাবে পাওয়া গেছে ?
উত্তর : ঘােড়ার পূর্বপুরুষ ধরা হয় ইওহিপ্পাস নামে এক প্রকার প্রাণীকে। অভিব্যক্তির বিভিন্ন ধাপে অগ্র ও পশ্চাদ পদের আঙ্গুল কমতে কমতে একটি মাত্র আঙ্গুল অবশিষ্ট থাকে, ফলে এদের দৈহিক পরিবর্তন ঘটে। যেমন দেহের উচ্চতা ও দাঁত বাড়তে থাকে ও দাঁতের গঠনে জটিলতা দেখা দেয়, ফলে খাদ্যেরও পরিবর্তন ঘটে। এর থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে কম উচ্চতার পল্লভভােজী ইওহিপ্পার থেকে বেশি উচ্চতার তৃণভােজীতে, অতি দ্রুত বর্তমান ঘোড়া ইক্কাস-এর উদ্ভব হয়েছে। এই রূপান্তরের বিভিন্ন ধাপের জীবাশ্ম পাওয়া গেছে।
প্রশ্ন 22. জীবিত জীবাশ্ম কাকে বলে? কয়েকটি উদাহরণ দাও।
উত্তর : সুদূর অতীতে যেসব জীব বেচে ছিল এবং যাদের বংশধরেরা প্রায় অপরিবতিত অবস্থায় আজও নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা করে চলেছে, অথচ যাদের সমসাময়িক অন্যান্য সব জীব বিলুপ্ত হয়ে গেছে, তাদের বলা হয় জীবিত জীবাশ্ম (Living fossils)। এদের কয়েকটি উদাহরণ হল : সিলাকান্থ নামের মাছ, স্ফেনোডন নামের সরীসৃপ, রাজ-কাঁকড়া নামের সন্ধিপদ প্রাণী, গিঙ্কো বাইলােবা নামের ব্যক্তবীজী উদ্ভিদ প্রভৃতি।
প্রশ্ন 23. অন্তর্বর্তী রূপ কি? এর তিনটি উদাহরণ দাও।
উত্তর : জীব-অভিব্যক্তির ধারায় নিকট সম্পর্কের দুই দলের জীবের মিলিত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীবাশ্মীভূত জীবকে অন্তর্বর্তী রূপ (Transitional form) বলা হয়। কোন ধারায় জীবের অভিব্যক্তি ঘটেছিল, অন্তর্বর্তী রূপ থেকে সেই সম্পর্কে ধারণা করা যায়। এর উদাহরণ হল : ডিপ লােভার্টিব্রন, সেমুরিয়া, আর্কিওপটেরিক্স প্রভৃতি।
প্রশ্ন 24. লামারুকের মতবাদ অনুসারে জিরাফের লম্বা গলার মতবাদ কিরূপ দেওয়া যায়?
উত্তর : লামাবকের মতে, জিরাফের উদৃবংশীয় ছিল হরিণের মতাে ছােট, তৃণভােজী প্রাণী। এই প্রাণী যে পরিবেশে বসবাস করত, সেই পরিবেশে তৃণ ও বীরুৎ-জাতীয় উদ্ভিদের ক্রমশঃ ঘাটতি ঘটায়, এরা অপেক্ষাকৃত উঁচু গাছের পাতা খেতে শুরু করে। উচু গাছের ডালপালার নাগাল পাওয়ার জন্য, ক্রমশঃ ঐ হরিণের মত প্রাণীর গলা ও অপদ দুটি লম্বা হয়ে বর্তমান লম্বা-গলা জিরাফের উদ্ভব হয়েছে।
প্রশ্ন 25. লামারকের পর অভিব্যক্তি সম্পর্কে নতুন মতবাদ কারা দেন?
উত্তর : লামারকের মতবাদ প্রকাশিত হওয়ায় প্রায় 50 বছর পরে চার্লস ডারউইন ও আলফ্রেড রাসেল ওয়ালেস পৃথক পৃথকভাবে গবেষণা করে 1858 সালে অভিব্যক্তি সম্পর্কে নতুন মতবাদ দেন।
প্রশ্ন 26. ডারউইন কিভাবে ও কি কি বিষয়ের উপর গবেষণা করেন? তাঁর গবেষণার ফলশ্রুতি কি?
উত্তর : ডারউইন বীগল নামক জাহাজের নিসর্গবিদ-রূপে, প্রায় চার বৎসর দক্ষিণ আমেরিকা ও তার কাছের দ্বীপপুঞ্জে ভ্রমণ করেন। সেই সময়ে এবং পরবর্তীকালে তিনি মােট কুড়ি বছর ধরে পৃথিবীর নানাস্থানে বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ ও প্রাণীর ভৌগোলিক বিস্তারণ, স্বভাব এবং বসতির উপর গবেষণা করেন।
এই গবেষণালব্ধ ফল তিনি যে পুস্তকে করেন তার নাম প্রাকৃতিক নির্বাচনের দ্বারা প্রজাতির উদ্ভব, অথবা জীবন-যুদ্ধে সুবিধাসম্পন্ন জাতির সংরক্ষণ। এই পুস্তক প্রথম 1859 খ্রীষ্টাব্দে প্রকাশিত হয়।
প্রশ্ন 27. অভিব্যক্তির মূলভিত্তি কোন মতবাদকে বলা হয়? তার প্রতিপাদ্য বিষয়গুলি কি কি?
উত্তর : ডারউইনের মতবাদকে বলা হয় প্রাকৃতিক নির্বাচন, এটাই বর্তমান অভিব্যক্তির মূলভিত্তি।
ডারউইনের মতবাদের প্রধান প্রতিপাদ্য বিষয়গুলি হল :
(1) পরিবৃত্তি (Variation), (2) গুণােত্তর অনুপাতে জীবের সংখ্যা বৃদ্ধি, (3) জীবন সংগ্রাম [এটি তিন ধরনের (i) অন্তঃপ্রজাতি সংগ্রাম, (ii) অন্তঃপ্রজাতি সংগ্রাম এবং (iii) পরিবেশের সঙ্গে সংগ্রাম।] (4) প্রাকৃতিক নির্বাচন ও যােগ্যতমের উদ্বর্তন

অভিব্যক্তি (অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর)

প্রশ্ন 28. আনুমানিক কত বছর আগে পৃথিবীর সৃষ্টি হয়েছিল?
উত্তর : প্রায় 460 কোটি বছর আগে।
প্রশ্ন 29. অ্যামাইনাে অ্যাসিড ও নিউক্লিক অ্যাসিড থেকে কি সৃষ্টি হয়?
উত্তর : প্রােটিন অণু।
প্রশ্ন 30. জড় ও জীবের মধ্যে সংযােগকারী পদার্থ কি?
উত্তর : স্বাধীনজীবী ভাইরাস।
প্রশ্ন 31. এককোষী উদ্ভিদ কোথা থেকে সৃষ্টি হয়েছে ?
উত্তর : সমস্ত প্রােটিন অণু থেকে।
প্রশ্ন 32. জীবনের উৎপত্তি কোথায় হয়েছিল বলে অনুমান করা হয়?
উত্তর : সমুদ্রের জলে।
প্রশ্ন 33. আনুমানিক কত বছর আগে জীবনের উৎপত্তি হয়েছিল?
উত্তর : 260 কোটি বছর আগে।
প্রশ্ন 34. বর্তমান জীবজগতের অভিব্যক্তি কোথা থেকে ঘটেছে?
উত্তর : প্রথম সৃষ্ট আদিম জীব থেকে।
প্রশ্ন 35. ফার্ণ জাতীয় উদ্ভিদের কোথা থেকে সৃষ্টি হয়েছে?
উত্তর : সরলদেহী বহুকোষী উদ্ভিদ থেকে।
প্রশ্ন 36. যে উদ্ভিদের বীজ হয় কিন্তু ফল হয় না তাদের কি বলে?
উত্তর : ব্যক্তবীজী। ।
প্রশ্ন 37. গুপ্তবীজী উদ্ভিদের অভিব্যক্তির ধার কি ?
উত্তর : একবীজপত্রী ও দ্বিবীজপত্রী।
প্রশ্ন 38. কোন্ বহুকোষী প্রাণীর দেহকোষ কলা গঠন করে না?
উত্তর : স্পঞ্জজাতীয় প্রাণী।
প্রশ্ন 39. কোন প্রাণীর দেহে প্রথম কলার আবির্ভাব ঘটে ?
উত্তর : হাইড্রাজাতীয় প্রাণী।
প্রশ্ন 40. মেরুদণ্ডী প্রাণীর উদবংশীয় জীবের সৃষ্টি কোথা থেকে?
উত্তর : অজানা অমেরুদণ্ডী প্রাণী।
প্রশ্ন 41. জীব অভিব্যক্তির অঙ্গসংস্থানগত গঠনের প্রমাণ কি?
উত্তর : দেরুদণ্ডী প্রাণীর অগ্ৰপদ ও পশ্চাৎপদ।
প্রশ্ন 42. প্রজাপতি ও পাখির ডানাকে কি বলা হয় ?
উত্তর : সমবৃত্তি অঙ্গ।
প্রশ্ন 43. মানুষের বর্তমান ক্ষয়প্রাপ্ত অঙ্গের সংখ্যা কত?
উত্তর : প্রায় 90টি।
প্রশ্ন 44. মানুষের একটি লুপ্ত অঙ্গের নাম কর?
উত্তর : লেজ।
প্রশ্ন 45. মানুষের তিনটি ক্ষয়প্রাপ্ত অঙ্গের নাম কর।
উত্তর : অ্যাপেনডিক্স, উপপল্লব, অনুত্রিকাস্থি।
প্রশ্ন 46. সাপ জাতীয় প্রাণীর অভিব্যক্তি কোথা থেকে হয়েছে?
উত্তর : চতুষ্পদ সরীসৃপ থেকে।
প্রশ্ন 41. তিমির অভিব্যক্তি কোথা থেকে হয়েছে ?
উত্তর : চতুষ্পদ স্তন্যপায়ী প্রাণী থেকে।
প্রশ্ন 43. জীবাশ্ম সম্পর্কে বিজ্ঞানকে কি বলা হয়?
উত্তর : প্রত্নজীববিদ্যা।
প্রশ্ন 49. কিরূপ প্রাণী থেকে উভচর সৃষ্টি হয়েছিল ?
উত্তর : মাছজাতীয় প্রাণী থেকে।
প্রশ্ন 50. কোন্ জীবাশ্ম থেকে উভচরদের উদ্ভবের ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়?
উত্তর : ডিপ্লোভার্টিব্রন।
প্রশ্ন 51. উভচর প্রাণী → সরীসৃপ কোন প্রাণীর জীবাশ্ম থেকে বলা যায়?
উত্তর : সেযুরিয়া।
প্রশ্ন 52. স্ত্রী সূপ — পাখি উদ্ভবের প্রাণীর নাম কি?
উত্তর : আর্কিওপটেরিক।
প্রশ্ন 53. বর্তমান ঘোড়ার পূর্বপুরুষ কোন প্রাণীকে ধরা হয়?
উত্তর : ইওহিপ্পাস।
প্রশ্ন 54, মাছের জীবিত জীবাশ্ম-এর একটি উদাহরণ দাও।
উত্তর : সিলাকনাথ মাছ।
প্রশ্ন 55. একটি জীবিত জীবাশ্ম সরীসৃপের নাম কর।
উত্তর : ক্ষোনোঙন।
প্রশ্ন 56. একটি বক্তবীজী উদ্ভিদ জীবিত জীবাশ্মের নাম কর।
উত্তর : গিস্কোবাইলোবা।
প্রশ্ন 57. ‘অভিব্যক্তির বিজ্ঞানভিত্তিক মতবাদ কে কে প্রকাশ করেন ?
উত্তর : লামাক ও ডারভহন।
প্রশ্ন 38. লামারকের মতবাদ কি নামে পরিচিত?
উত্তর : অর্জিত লক্ষণের উত্তরাধিকার।
প্রশ্ন 59. লামারকের মতবাদ কোন পুস্তকে প্রকাশিত হয়?
উত্তর : ফিলজফি জুয়োলজিক।
প্রশ্ন 60. ডারউইনের মতবাদকে কি বলা হয়?
উত্তর : প্রাকৃতিক নির্বাচন।
প্রশ্ন 61. ডারউইনের মতে জীবের সংখ্যা বৃদ্ধি কি অনুপাতে হয়?
উত্তর : গুণােত্তর অনুপাতে।
প্রশ্ন 62. ডারউইনের বেঁচে থাকার সংগ্রামকে কি বলে?
উত্তর : জীবন-সংগ্রাম।
প্রশ্ন 6. ডারউইনের বিখ্যাত গ্রন্থের নাম কি?
উত্তর : অরিজিন অব স্পিসিস।
প্রশ্ন 64. প্রাকৃতিক নির্বাচন কাদের ধরে রাখে ?
উত্তর : যােগ্যতম বংশধরদের ।
প্রশ্ন 65. ডারউইনের পরবর্তী একজন জীব-বিজ্ঞানীর নাম কর।
উত্তর : হার্বাট স্পেনসার।
প্রশ্ন 66. ডারউইনের মতে জীবন-সংগ্রাম কয় প্রকার?
উত্তর : তিন প্রকার ।
প্রশ্ন 67. ডারউইনের জীবন-সংগ্রামের ধরন কি কি?
উত্তর : অন্তঃপ্রজাতি, আন্তঃপ্রজাতি ও পরিবেশের সঙ্গে সংগ্রাম।

অভিব্যক্তি (MCQ)



বংশগতি


অভিযােজন

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

eight + eight =