ভারতের সংবিধান সংশােধনের সংক্ষিপ্ত রূপরেখা (Constitutional Amendments at a Glance)

ভারতের সংবিধান সংশােধনের সংক্ষিপ্ত রূপরেখা (Constitutional Amendments at a Glance)

১ম সংবিধান সংশােধন (১৯৫১) :
১ম সংবিধান সংশােধন (১৯৫১) ও স্বাধীনতার অধিকারের উপর অধিকতর যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ আরােপের ক্ষমতা রাষ্ট্রকে দেওয়া হয়। পার্লামেন্ট ও অঙ্গরাজ্যের আইনসভার দুটি অধিবেশনের মধ্যে সর্বোচ্চ সময়সীমার ব্যবধান করা হয় ছয় মাস। নবম তফশিলকে যুক্ত করা হয়। ও জমিদারী ব্যবস্থার উচ্ছেদ ও ভূমি-সংস্কার আইন প্রণয়ন করা হয়।

২য় সংবিধান সংশােধন (১৯৫২) :
সংশােধনী আইনটি কার্যকর হয় ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দে। মূল সংবিধানের নিয়ম অনুসারে সাড়ে সাত লক্ষ অধিবাসী পিছু একজন করে সদস্য লােকসভায় নির্বাচিত হতে পারতেন। উক্ত সংশােধনী আইনে ‘সাড়ে সাত লক্ষ’–এই সংখ্যাটি তুলে দেওয়া হয় এবং নির্দিষ্ট করে কোনাে জনসংখ্যার উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকে।

৩য় সংবিধান সংশােধন (১৯৫৪) :
সপ্তম তফশিলের অন্তর্ভুক্ত যুগ্মতালিকার সামান্য পরিবর্তন করা হয় ও মানুষ ও পশুর খাদ্য, তুলা, পাট প্রভৃতি যুগ্মতালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।

৪র্থ সংবিধান সংশােধন (১৯৫৫) :
এই সংশােধনের মাধ্যমে ব্যক্তিগত সম্পত্তি অধিগ্রহণের ব্যাপারে রাষ্ট্রের এক্তিয়ার বৃদ্ধি পায়। রাষ্ট্র জনস্বার্থে বাধ্যতামূলকভাবে ব্যক্তিগত সম্পত্তি অধিগ্রহণের ক্ষমতা লাভ করে।

৫ম সংবিধান সংশােধন (১৯৫৫) :
সংবিধানের ৩নং ধারাটি (Article 3) পরিবর্তন করা হয় এবং রাষ্ট্রপতিকে ক্ষমতা দেওয়া হয়। রাজ্যের নাম ও সীমানার পরিবর্তনজনিত আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে। সংশ্লিষ্ট রাজ্যের মতামত প্রদানের সময়সীমাকে নির্দিষ্ট করে দিতে। উল্লেখ্য মূল সংবিধানে এবিষয়ে রাজ্যের মতামত প্রদানের নির্দিষ্ট সময়সীমার উল্লেখ ছিল না।

৬ষ্ঠ সংবিধান সংশােধন (১৯৫৬) :
আন্তঃরাজ্য বাণিজ্য তালিকার অন্তর্ভুক্ত দ্রব্যসামগ্রীর ক্রয়-বিক্রয়ের উপর কেন্দ্রীয় সরকার কর ধার্যের ক্ষমতা লাভ করে। এর ফলে সংবিধানের সপ্তম তফশিলের সংশােধন ঘটানাে হয় এবং ২২৯ ও ২৮৬নং ধারার পরিবর্তন করা হয়।

৭ম সংবিধান সংশােধন (১৯৫৬) :
এই সংশােধনীটিকে ভারতীয় সংবিধানের প্রথম বৃহত্তম সংশােধন বলা যায়। কারণ এই সংশােধনীটির মাধ্যমে দ্বিতীয়, চতুর্থ, সপ্তম—এই তিনটি তফশিলের পরিবর্তন ঘটানো। হয় এবং নতুন কতকগুলি ধারা যুক্ত করার সাথে সাথে পুরােনাে। কতকগুলির ধারার বিলােপ বা বাতিল করা হয়। রাজ্য পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে এই সংশােধনীটি গুরুত্বপূর্ণ।

৮ম সংবিধান সংশােধন (১৯৫৯) :
এই সংশােধনী আইনটি কার্যকর হয় ১৯৬০ খ্রিস্টাব্দে। আইনসভায় তফশিলী জাতি, তফশিলী উপজাতি ও ইঙ্গ-ভারতীয় সম্প্রদায়ের জন্য আসন সংরক্ষণের মেয়াদ বৃদ্ধি করে ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত করা হয়। ৩৩০, ৩৩২, ৩৩৩ এবং ৩৩৪নং ধারাগুলির পরিবর্তন করা হয়।

৯ম সংবিধান সংশােধন (১৯৬০) :
এই সংবিধান সংশােধনীটি ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে কার্যকর হয়। সংবিধানের প্রথম তফশিলের পরিবর্তন করা হয়। বেরুবাড়ী প্রভৃতি অঞ্চল পাকিস্তানকে হস্তান্তরের জন্য সংশােধনীটি ঘটানাে হয়।

১০ম সংবিধান সংশােধন (১৯৬১) :
পর্তুগীজ অধিকৃত দাদরা ও নগরহাভেলী স্বাধীন ও ভারতের অন্তর্ভুক্ত হবার পর এই দুটি অঞ্চলকে উক্ত সংশােধনের মাধ্যমে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের (Union Territories) মর্যাদা দেওয়া হয়।

১১তম সংবিধান সংশােধন (১৯৬১) :
রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতি পদের নির্বাচনের জন্য গঠিত নির্বাচনী সংস্থার’ (Electoral College) গঠনগত পরিবর্তন করা হয়। বলা হয় যে, “নির্বাচনী সংস্থার কোনাে সদস্যপদ শূন্য থাকলেও রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতির নির্বাচন অবৈধ বিবেচিত হবে না।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

seven + 17 =