সন্ধি বিচ্ছেদ

⏪ সন্ধি বিচ্ছেদ ⏩

✦ সন্ধি

দ্রুত উচ্চারণের কারণে কাছাকাছি থাকা দুটি পদের সন্নিহিত বর্ণদ্বয় মিলিত হয়ে শব্দদুটির মধ্যেও মিলন ঘটায় এবং একটি নতুন অর্থপূর্ণ শব্দ তৈরি হয়। একাধিক বর্ণের এই মিলনকে সন্ধি বলে। যেমন— হিম + আলয় =”হিমালয়” শব্দটির যেমন একটি অর্থ রয়েছে (পর্বত শ্রেণির নাম), আবার ‘হিম’ অর্থ—ঠান্ডা বা শীতল, ‘আলয় অর্থ’—ঘর/গৃহ অর্থাৎ দুটি আলাদা অর্থপূর্ণ শব্দ একসঙ্গে মিশে একটা নতুন অর্থপূর্ণ শব্দ তৈরি হচ্ছে। বাংলা ব্যাকরণে এই মিলনই সন্ধি (হিম + আলয় = হিমালয়)।

সন্ধির প্রকারভেদ

সন্ধি প্রধানত তিন প্রকার—স্বরসন্ধি, ব্যঞ্জনসন্ধি ও বিসর্গসন্ধি।

স্বরসন্ধি

একটি স্বরবর্ণের সঙ্গে আর-একটি স্বরবর্ণের মিলনকে বলা হয় স্বরসন্ধি। যেমন— নব + অন্ন =নবান্ন, রবি + ইন্দ্র = রবীন্দ্র, পরি + ঈক্ষা = পরীক্ষা, দেব + আলয় = দেবালয়। ⏪

উদাহরণসহ স্বরসন্ধির কিছু নিয়ম

⏩অ-কার কিংবা আ-কারের পর ‘অ’ কিংবা ‘আ’ থাকলে উভয়ে মিলে আ-কার হয়। ওই আকার পূর্ববর্ণেযুক্ত হয়।⚫ অ + অ = আ ⚫

নীল + অম্বর = নীলাম্বর

অপর + অহ্ন = অপরাহ্ন

নব + অন্ন = নবান্ন

রক্ত + অক্ত = রক্তাক্ত

চর + অচর = চরাচর

স্ব + অধীন = স্বাধীন

হিম + অদ্রি = হিমাদ্রি

পর + অধীন = পরাধীন

বেদ + অন্ত = বেদান্ত

গ্রাম + অঞ্চল = গ্রামাঞ্চল

পুষ্প + অঞ্জলি = পুস্পাঞ্জলি

উত্তর + অধিকার = উত্তরাধিকার

⚫ অ + আ = আ ⚫

গ্রন্থ + আগার = গ্রন্থাগার

পদ্ম + আসন = পদ্মাসন

হিম + আলয় = হিমালয়

চরণ + আশ্রিত = চরণাশ্রিত

দশ + আনন = দশানন

স্নেহ + আশিস = স্নেহাশিস

সিংহ + আসন = সিংহাসন

দূর + আগত = দূরাগত

দেব + আলয় = দেবালয়

শােক + আবেগ = শােকাবেগ

পদ + আনত = পদানত

বিবেক + আনন্দ = বিবেকানন্দ

⚫ আ + অ = আ ⚫

আশা + অতীত = আশাতীত

পূজা + অবকাশ = পূজাবকাশ

কথা + অন্তর = কথান্তর

ঈর্ষা + অন্বিত = ঈর্ষান্বিত

ভাষা + অন্তর = ভাষান্তর

বিদ্যা + অর্জন = বিদ্যার্জন

শিক্ষা + অনুরাগ = শিক্ষানুরাগ

বিদ্যা + অভ্যাস = বিদ্যাভ্যাস

পূজা + অর্চনা = পূজার্চনা

⚫ আ + আ = আ ⚫

মহা + আকাশ = মহাকাশ

সদা + আনন্দ = সদানন্দ

বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়

প্রতিজ্ঞা + আবদ্ধ = প্রতিজ্ঞাবদ্ধ

শিক্ষা + আয়তন = শিক্ষায়তন

সন্ধ্যা + আরতি = সন্ধ্যারতি

মহা + আশয় = মহাশয়

তন্দ্রা + আচ্ছন্ন = তন্দ্রাচ্ছন্ন

আশা + আহত = আশাহত

ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই’ কিংবা ‘ঈ’ থাকলে উভয়ে মিলে ঈ-কার হয়। ওই ঈকার পূর্ববর্ণে যুক্ত হয়।

⚫ ই + ই = ঈ ⚫

রবি + ইন্দ্র = রবীন্দ্র

অভি + ইষ্ট = অভীষ্ট

অতি + ইব = অতীব

অতি + ইত = অতীত

প্রতি + ইতি = প্রতীতি

অতি + ইন্দ্রিয় = অতীন্দ্রিয়

⚫ ই + ঈ = ঈ ⚫

পরি + ঈক্ষা = পরীক্ষা

গিরি + ঈশ = গিরীশ

প্রতি + ঈক্ষা = প্রতীক্ষা

ক্ষিতি + ঈশ = ক্ষিতীশ

অভি + ঈক্ষা = অভীক্ষা

অধি + ঈশ্বর = অধীশ্বর

⚫ ঈ + ই = ঈ ⚫

রথী + ইন্দ্র = রথীন্দ্রসুধী + ইন্দ্র = সুধীন্দ্র
যতী + ইন্দ্র = যতীন্দ্রশচী + ইন্দ্র = শচীন্দ্র

⚫ ঈ + ঈ = ঈ ⚫

যতী + ঈশ = যতীশমহী + ঈশ্বর = মহীশ্বর
শচী + ঈশ = শচীশপৃথ্বী + ঈশ = পৃথ্বীশ
উ-কার কিংবা ‘উ’কারের পর ‘উ’কার কিংবা ঊ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ঊ-কার হয়, ‘ঊ’-কার পূর্ববর্ণে যুক্ত হয় :

⚫ উ + উ = ঊ ⚫

কটু + উক্তি = কটুক্তিসু + উক্ত = সূক্ত
মরু + উদ্যান = মরূদ্যানমৃত্যু + উত্তীর্ণ = মৃত্যুত্তীর্ণ

⚫ উ + ঊ = ঊ ⚫

লঘু + উর্মি = লঘুর্মিঅনু + উর্ধ্ব = অনূর্ধ্ব

⚫ ঊ + উ = ঊ ⚫

বধু + উদয় = বধূদয়বধূ + উৎসব = বধূৎসব

⚫ ঊ + ঊ = ঊ ⚫

ভূ + উর্ধ্ব = ভূর্ধ্বসরযু + উর্মি = সরযূর্মি

অ-কার কিংবা আ-কারের পর ‘ই’কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে এ-কার হয়। এ-কার পূর্ববর্ণে যুক্ত হয় :

⚫ অ + ই = এ ⚫

স্ব + ইচ্ছা = স্বেচ্ছাবল + ইন্দ্র = বলেন্দ্র
পূর্ণ + ইন্দু = পূর্ণেন্দুদেব + ইন্দ্র = দেবেন্দ্র

⚫ অ + ঈ = এ ⚫

অপ + ঈক্ষা = অপেক্ষাভব + ঈশ = ভবেশহৃষীক + ঈশ = হৃষীকেশ
গণ + ঈশ = গণেশরাজ্য + ঈশ্বর = রাজ্যেশ্বরদেব + ঈশ = দেবেশ

⚫ আ + ই = এ ⚫

যথা + ইষ্ট = যথেষ্টসুধা + ইন্দু = সুধেন্দু
মহা + ইন্দ্র = মহেন্দ্ররসনা + ইন্দ্রিয় = রসনেন্দ্রিয়

⚫ আ + ঈ = এ ⚫

রমা + ঈশ = রমেশকমলা + ঈশ = কমলেশ
উমা + ঈশ = উমেশমহা + ঈশ্বর = মহেশ্বর

অ-কার কিংবা আ-কারের পর ‘উ’ কিংবা ‘ঊ’ থাকলে উভয়ে মিলে ও-কার হয়। ও-কার পূর্ববর্গে যুক্ত হয় :

⚫ অ + উ = ও ⚫

সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়স্নাতক + উত্তর = স্নাতকোত্তরপুষ্প + উদ্যান = পুষ্পোদ্যান
সময় + উপযােগী = সময়ােপযােগীসর্ব + উত্তম = সর্বোত্তমসর্ব + উচ্চ = সর্বোচ্চ

⚫ অ + ঊ = ও ⚫

নব + ঊঢ়া নবােঢ়াচঞ্চল + উর্মি = চঞ্চলোর্মি
এক + ঊনবিংশতি = একোনবিংশতিপর্বত + ঊর্ধ্বে = পর্বতোের্ধ্বে

⚫ আ + উ = ও ⚫

মহা + উপকার = মহোপকারযথা + উচিত = যথােচিত
কথা + উপকথন = কথােপকথনদুর্গা + উৎসব = দুর্গোৎসব

⚫ আ + ঊ = ও ⚫

মহা + উর্মি = মহাের্মিগঙ্গা + উর্মি = গঙ্গোর্মি

অ-কার কিংবা আ-কারের পর ‘ঋ’ থাকলে উভয়ে মিলে ‘অর’ হয়। ‘অর’ এর ‘অ’ পূৰ্ববর্ণে যুক্ত হয় এবং “র’ রেফ্ হয়ে পরবর্ণের মাথায় বসে।

⚫ অ + ঋ = অর ⚫

দেব + ঋষি =  দেবর্ষিবিপ্র + ঋষি = বিপ্রর্ষি
যুগ + ঋষি = যুগর্ষিউত্তম + ঋণ = উত্তমর্ণ

⚫ আ + ঋ = অর ⚫

মহা + ঋষি = মহর্ষিরাজা + ঋষি = রাজর্ষি

কিন্তু অ-কার কিংবা আ-কারের পর ‘ঋত’ (পীড়িত বা কাতর) থাকলে উভয়ে মিলে ‘আর’ হয় ; ‘আর’-এর ‘আ’ পূৰ্ববর্ণে যুক্ত হয় এবং ‘র’ রেফ হয়ে পরবর্ণের মাথায় বসে ।

⚫ অ + ঋত = আর্ত ⚫

শীত + ঋত = শীতার্তভয় + ঋত = ভয়ার্ত
দুঃখ + ঋত = দুঃখার্তশোক + ঋত = শােকার্ত

⚫ আ + ঋত = আর্ত ⚫

পিপাসা + ঋত = পিপাসার্ততৃয়া + ঋত = তৃয়ার্ত
ক্ষুধা + ঋত = ক্ষুধার্তবেদনা + ঋত = বেদনার্ত

✦ সন্ধি

দ্রুত উচ্চারণের কারণে কাছাকাছি থাকা দুটি পদের সন্নিহিত বর্ণদ্বয় মিলিত হয়ে শব্দদুটির মধ্যেও মিলন ঘটায় এবং একটি নতুন অর্থপূর্ণ শব্দ তৈরি হয়। একাধিক বর্ণের এই মিলনকে সন্ধি বলে। যেমন— হিম + আলয় =”হিমালয়” শব্দটির যেমন একটি অর্থ রয়েছে (পর্বত শ্রেণির নাম), আবার ‘হিম’ অর্থ—ঠান্ডা বা শীতল, ‘আলয় অর্থ’—ঘর/গৃহ অর্থাৎ দুটি আলাদা অর্থপূর্ণ শব্দ একসঙ্গে মিশে একটা নতুন অর্থপূর্ণ শব্দ তৈরি হচ্ছে। বাংলা ব্যাকরণে এই মিলনই সন্ধি (হিম + আলয় = হিমালয়)।

সন্ধির প্রকারভেদ

সন্ধি প্রধানত তিন প্রকার—স্বরসন্ধি, ব্যঞ্জনসন্ধি ও বিসর্গসন্ধি।

স্বরসন্ধি

একটি স্বরবর্ণের সঙ্গে আর-একটি স্বরবর্ণের মিলনকে বলা হয় স্বরসন্ধি। যেমন— নব + অন্ন =নবান্ন, রবি + ইন্দ্র = রবীন্দ্র, পরি + ঈক্ষা = পরীক্ষা, দেব + আলয় = দেবালয়। ⏪

উদাহরণসহ স্বরসন্ধির কিছু নিয়ম

⏩অ-কার কিংবা আ-কারের পর ‘অ’ কিংবা ‘আ’ থাকলে উভয়ে মিলে আ-কার হয়। ওই আকার পূর্ববর্ণেযুক্ত হয়।⚫ অ + অ = আ ⚫

নীল + অম্বর = নীলাম্বর

অপর + অহ্ন = অপরাহ্ন

নব + অন্ন = নবান্ন

রক্ত + অক্ত = রক্তাক্ত

চর + অচর = চরাচর

স্ব + অধীন = স্বাধীন

হিম + অদ্রি = হিমাদ্রি

পর + অধীন = পরাধীন

বেদ + অন্ত = বেদান্ত

গ্রাম + অঞ্চল = গ্রামাঞ্চল

পুষ্প + অঞ্জলি = পুস্পাঞ্জলি

উত্তর + অধিকার = উত্তরাধিকার

⚫ অ + আ = আ ⚫

গ্রন্থ + আগার = গ্রন্থাগার

পদ্ম + আসন = পদ্মাসন

হিম + আলয় = হিমালয়

চরণ + আশ্রিত = চরণাশ্রিত

দশ + আনন = দশানন

স্নেহ + আশিস = স্নেহাশিস

সিংহ + আসন = সিংহাসন

দূর + আগত = দূরাগত

দেব + আলয় = দেবালয়

শােক + আবেগ = শােকাবেগ

পদ + আনত = পদানত

বিবেক + আনন্দ = বিবেকানন্দ

⚫ আ + অ = আ ⚫

আশা + অতীত = আশাতীত

পূজা + অবকাশ = পূজাবকাশ

কথা + অন্তর = কথান্তর

ঈর্ষা + অন্বিত = ঈর্ষান্বিত

ভাষা + অন্তর = ভাষান্তর

বিদ্যা + অর্জন = বিদ্যার্জন

শিক্ষা + অনুরাগ = শিক্ষানুরাগ

বিদ্যা + অভ্যাস = বিদ্যাভ্যাস

পূজা + অর্চনা = পূজার্চনা

⚫ আ + আ = আ ⚫

মহা + আকাশ = মহাকাশ

সদা + আনন্দ = সদানন্দ

বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়

প্রতিজ্ঞা + আবদ্ধ = প্রতিজ্ঞাবদ্ধ

শিক্ষা + আয়তন = শিক্ষায়তন

সন্ধ্যা + আরতি = সন্ধ্যারতি

মহা + আশয় = মহাশয়

তন্দ্রা + আচ্ছন্ন = তন্দ্রাচ্ছন্ন

আশা + আহত = আশাহত

ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই’ কিংবা ‘ঈ’ থাকলে উভয়ে মিলে ঈ-কার হয়। ওই ঈকার পূর্ববর্ণে যুক্ত হয়।

⚫ ই + ই = ঈ ⚫

রবি + ইন্দ্র = রবীন্দ্র

অভি + ইষ্ট = অভীষ্ট

অতি + ইব = অতীব

অতি + ইত = অতীত

প্রতি + ইতি = প্রতীতি

অতি + ইন্দ্রিয় = অতীন্দ্রিয়

⚫ ই + ঈ = ঈ ⚫

পরি + ঈক্ষা = পরীক্ষা

গিরি + ঈশ = গিরীশ

প্রতি + ঈক্ষা = প্রতীক্ষা

ক্ষিতি + ঈশ = ক্ষিতীশ

অভি + ঈক্ষা = অভীক্ষা

অধি + ঈশ্বর = অধীশ্বর

⚫ ঈ + ই = ঈ ⚫

রথী + ইন্দ্র = রথীন্দ্রসুধী + ইন্দ্র = সুধীন্দ্র
যতী + ইন্দ্র = যতীন্দ্রশচী + ইন্দ্র = শচীন্দ্র

⚫ ঈ + ঈ = ঈ ⚫

যতী + ঈশ = যতীশমহী + ঈশ্বর = মহীশ্বর
শচী + ঈশ = শচীশপৃথ্বী + ঈশ = পৃথ্বীশ
উ-কার কিংবা ‘উ’কারের পর ‘উ’কার কিংবা ঊ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ঊ-কার হয়, ‘ঊ’-কার পূর্ববর্ণে যুক্ত হয় :

⚫ উ + উ = ঊ ⚫

কটু + উক্তি = কটুক্তিসু + উক্ত = সূক্ত
মরু + উদ্যান = মরূদ্যানমৃত্যু + উত্তীর্ণ = মৃত্যুত্তীর্ণ

⚫ উ + ঊ = ঊ ⚫

লঘু + উর্মি = লঘুর্মিঅনু + উর্ধ্ব = অনূর্ধ্ব

⚫ ঊ + উ = ঊ ⚫

বধু + উদয় = বধূদয়বধূ + উৎসব = বধূৎসব

⚫ ঊ + ঊ = ঊ ⚫

ভূ + উর্ধ্ব = ভূর্ধ্বসরযু + উর্মি = সরযূর্মি

অ-কার কিংবা আ-কারের পর ‘ই’কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে এ-কার হয়। এ-কার পূর্ববর্ণে যুক্ত হয় :

⚫ অ + ই = এ ⚫

স্ব + ইচ্ছা = স্বেচ্ছাবল + ইন্দ্র = বলেন্দ্র
পূর্ণ + ইন্দু = পূর্ণেন্দুদেব + ইন্দ্র = দেবেন্দ্র

⚫ অ + ঈ = এ ⚫

অপ + ঈক্ষা = অপেক্ষাভব + ঈশ = ভবেশহৃষীক + ঈশ = হৃষীকেশ
গণ + ঈশ = গণেশরাজ্য + ঈশ্বর = রাজ্যেশ্বরদেব + ঈশ = দেবেশ

⚫ আ + ই = এ ⚫

যথা + ইষ্ট = যথেষ্টসুধা + ইন্দু = সুধেন্দু
মহা + ইন্দ্র = মহেন্দ্ররসনা + ইন্দ্রিয় = রসনেন্দ্রিয়

⚫ আ + ঈ = এ ⚫

রমা + ঈশ = রমেশকমলা + ঈশ = কমলেশ
উমা + ঈশ = উমেশমহা + ঈশ্বর = মহেশ্বর

অ-কার কিংবা আ-কারের পর ‘উ’ কিংবা ‘ঊ’ থাকলে উভয়ে মিলে ও-কার হয়। ও-কার পূর্ববর্গে যুক্ত হয় :

⚫ অ + উ = ও ⚫

সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়স্নাতক + উত্তর = স্নাতকোত্তরপুষ্প + উদ্যান = পুষ্পোদ্যান
সময় + উপযােগী = সময়ােপযােগীসর্ব + উত্তম = সর্বোত্তমসর্ব + উচ্চ = সর্বোচ্চ

⚫ অ + ঊ = ও ⚫

নব + ঊঢ়া নবােঢ়াচঞ্চল + উর্মি = চঞ্চলোর্মি
এক + ঊনবিংশতি = একোনবিংশতিপর্বত + ঊর্ধ্বে = পর্বতোের্ধ্বে

⚫ আ + উ = ও ⚫

মহা + উপকার = মহোপকারযথা + উচিত = যথােচিত
কথা + উপকথন = কথােপকথনদুর্গা + উৎসব = দুর্গোৎসব

⚫ আ + ঊ = ও ⚫

মহা + উর্মি = মহাের্মিগঙ্গা + উর্মি = গঙ্গোর্মি

অ-কার কিংবা আ-কারের পর ‘ঋ’ থাকলে উভয়ে মিলে ‘অর’ হয়। ‘অর’ এর ‘অ’ পূৰ্ববর্ণে যুক্ত হয় এবং “র’ রেফ্ হয়ে পরবর্ণের মাথায় বসে।

⚫ অ + ঋ = অর ⚫

দেব + ঋষি =  দেবর্ষিবিপ্র + ঋষি = বিপ্রর্ষি
যুগ + ঋষি = যুগর্ষিউত্তম + ঋণ = উত্তমর্ণ

⚫ আ + ঋ = অর ⚫

মহা + ঋষি = মহর্ষিরাজা + ঋষি = রাজর্ষি

কিন্তু অ-কার কিংবা আ-কারের পর ‘ঋত’ (পীড়িত বা কাতর) থাকলে উভয়ে মিলে ‘আর’ হয় ; ‘আর’-এর ‘আ’ পূৰ্ববর্ণে যুক্ত হয় এবং ‘র’ রেফ হয়ে পরবর্ণের মাথায় বসে ।

⚫ অ + ঋত = আর্ত ⚫

শীত + ঋত = শীতার্তভয় + ঋত = ভয়ার্ত
দুঃখ + ঋত = দুঃখার্তশোক + ঋত = শােকার্ত

⚫ আ + ঋত = আর্ত ⚫

পিপাসা + ঋত = পিপাসার্ততৃয়া + ঋত = তৃয়ার্ত
ক্ষুধা + ঋত = ক্ষুধার্তবেদনা + ঋত = বেদনার্ত

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

10 − two =