স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা : পশ্চিমবঙ্গ (Self Government Of West Bengal)

অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

1. বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের পৌরসংস্থা ও মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের নির্বাচনে ভােটাধিকার লাভের বয়স কত?
উত্তর: বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের পৌরসংস্থা ও মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের নির্বাচনে ভােটাধিকার লাভের বয়স ১৮ বছর।

2. পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভােটাধিকার লাভের বয়স কত?
উত্তর: পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভােটাধিকার লাভের বয়স ১৮ বছর।

3. কত জন সদস্য নিয়ে গ্রামপঞ্চায়েত গঠিত হয়?
উত্তর: গ্রামপঞ্চায়েত গঠিত হয় ৫ থেকে ৩০ জন সদস্য নিয়ে।

4. গ্রামপঞ্চায়েতের সদস্যগণ কাদের দ্বারা নির্বাচিত হন?
উত্তর: সংশ্লিষ্ট গ্রামের বিধানসভার ভােটারগণ দ্বারা গ্রামপঞ্চায়েতের সদস্যগণ নির্বাচিত হন।

5. গ্রামপঞ্চায়েতের সদস্যদের কার্যকাল কত?
উত্তর: সাধারণত গ্রামপঞ্চায়েতের সদস্যদের কার্যকাল ৫ বছর।

6. নব গঠিত গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রথম সভা কে আহ্বান করেন?
উত্তর: নব গঠিত গ্রামপঞ্চায়েতের প্রথম সভা আহ্বান করেন ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক (B:D.O.)।

7. গ্রামপঞ্চায়েত সভায় সভাপতিত্ব করেন কে?
উত্তর: গ্রামপঞ্চায়েতের সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান এবং প্রধানের অনুপস্থিতিতে উপপ্রধান।

8. পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে কটি গ্রামপঞ্চায়েত আছে?
উত্তর: পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে (মে- ২০১৮) ৪৮,৬৫০টি গ্রামপায়েত আছে।

9. গ্রামপঞ্চায়েতের কাজকর্ম পরিদর্শন করেন কে?
উত্তর: গ্রামপঞ্চায়েতের কাজকর্ম পরিদর্শন করেন রাজ্য সরকার কর্তৃক নিযুক্ত পঞ্চায়েত অধিকর্তা।

10. পঞ্চায়েত সমিতির কার্যনির্বাহী আধিকারিক কে?
উত্তর: পদাধিকার বলে ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকই হলেন পঞ্চায়েত সমিতির কার্যনির্বাহী আধিকারিক।

11. জেলাপরিষদের সভাধিপতির পদমর্যাদা কী?
উত্তর: জেলাপরিষদের সভাধিপতির পদমর্যাদা রাষ্ট্রমন্ত্রীর মর্যাদাযুক্ত।

12. বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে পৌরসভার সংখ্যা কত?
উত্তর: বর্তমানে (২০১৯) পশ্চিমবঙ্গে পৌরসভার সংখ্যা ১১৯টি।

13. পশ্চিমবঙ্গে পৌর আইনে পৌরসভার সদস্যদের কী বলা হয়?
উত্তর: পশ্চিমবঙ্গে পৌর আইনে পৌরসভার সদস্যদের ‘কাউন্সিলার’ বলা হয়।

14. পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় কয়টি স্তর আছে?
উত্তর: পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় তিনটি স্তর আছে।

15. গ্রামসভা কীভাবে গঠিত হয়?
উত্তর: গ্রাম পঞ্চায়েতের নির্বাচনী এলাকার সমস্ত ভােটারদের নিয়ে গ্রামসভা গঠিত হয়।

16. কত জন সভ্যের উপস্থিতিতে পঞ্চায়েত সমিতির সভা বৈধ বলে গণ্য হয়?
উত্তর: ১/২ অংশ সদস্যের উপস্থিতিতে পঞ্চায়েত সমিতির সভা বৈধ বলে গণ্য হয়।

17. শহরের স্বায়ত্তশাসনমূলক প্রতিষ্ঠান কী নামে পরিচিত?
উত্তর: শহরের স্বায়ত্তশাসনমূলক প্রতিষ্ঠান পৌরসভা নামে পরিচিত।

18. কর্পোরেশনের মুখ্য কার্যনির্বাহক কী নামে পরিচিত?
উত্তর: কর্পোরেশনের মুখ্য কার্যনির্বাহক কমিশনার নামে পরিচিত।

19. পৌরসভার যে-কোনাে দুজন আধিকারিকের নাম উল্লেখ করাে।
উত্তর: পৌরসভার দুজন আধিকারিক হলেন— (ক) নির্বাহী আধিকারিক ও (খ) রাজস্ব আধিকারিক।

20. পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত ব্যবস্থার সর্বনিম্ন স্তরের নাম কী?
উত্তর: গ্রামপঞ্চায়েত হল পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত ব্যবস্থার সর্বনিম্ন স্তর।

21. কত খ্রিস্টাব্দের পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত (সংশােধন) আইন অনুযায়ী গ্রাম-পঞ্চায়েতের জনসভা কথাগুলির পরিবর্তে ‘গ্রাম সংসদের সভা’ বলা হয়?
উত্তর: ১৯৯৭ খ্রিস্টাব্দের পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত (সংশােধন) আইন অনুযায়ী গ্রাম-পঞ্চায়েতের জনসভা কথাগুলির পরিবর্তে ‘গ্রাম সংসদের সভা’ বলা হয়।

22. কতদিন অন্তর পঞ্চায়েত সমিতির বৈঠক বসে?
উত্তর: পঞ্চায়েত সমিতির বৈঠক বসে মাসে অন্তত একবার।

23. জেলাপরিষদের একটি স্থায়ী কমিটির নাম উল্লেখ করাে।
উত্তর: জনস্বাস্থ্য স্থায়ী কমিটি হল জেলাপরিষদের একটি স্থায়ী কমিটি।

24. কীভাবে মেয়র নির্বাচিত হন?
উত্তর: কর্পোরেশনের নির্বাচিত কাউন্সিলারগণ নিজেদের মধ্যে থেকে একজনকে মেয়র হিসাবে নির্বাচিত করেন।

25. কলকাতা কর্পোরেশনে কটি ওয়ার্ড আছে?
উত্তর: ১৪৪টি ওয়ার্ড নিয়ে কলকাতা কর্পোরেশন গঠিত হয়।

26. কর্পোরেশনের একটি স্বেচ্ছামূলক কাজের নাম উল্লেখ করাে।
উত্তর: শিক্ষা প্রসারের ব্যবস্থা করা হল কর্পোরেশনের এটি স্বেচ্ছামূলক কাজ।

27. পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে কয়টি জেলা আছে?
উত্তর: পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে (২০১৯) ২৩টি জেলা আছে।

28. স্থানীয় সরকার বলতে কী বােঝ?
উত্তর: স্থানীয় সরকারের অর্থ স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা অর্থাৎ স্থানীয় মানুষের দ্বারা পরিচালিত শাসনব্যবস্থা।

29. কত খ্রিস্টাব্দে ৭৩তম ও ৭৪তম সংবিধান সংশােধনী আইন পাস হয়?
উত্তর: ‘১৯৯২ খ্রিস্টাব্দে ৭৩তম ও ৭৪তম সংবিধান সংশােধনী আইন পাস হয়।

30. কীভাবে গ্রামপঞ্চায়েতের নামকরণ করা হয়?
উত্তর: গ্রামের নাম অনুসারে গ্রামপঞ্চায়েতের নামকরণ করা হয়।

31. কতদিনের নােটিশে গ্রামপঞ্চায়েতের জরুরি সভা ডাকতে হয়?
উত্তর: গ্রামপঞায়েতের জরুরি সভা ডাকা হয় তিন দিনের নােটিশে।

32. ‘ব্লক সংসদ’ বলতে কী বােঝায়?
উত্তর: পঞ্চায়েত সমিতির সকল সদস্য ও সেই ব্লকের সকল গ্রামপঞ্চায়েতের সদস্যদের নিয়ে গঠিত সংস্থাকে বলা হয় ব্লক সংসদ।

33. পঞ্চায়েত কী ধরনের স্বায়ত্তশাসনমূলক সংগঠন?
উত্তর: গ্রামীণ স্বায়ত্তশাসনমূলক সংগঠন হল পঞ্চায়েত।

34. গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান কী নামে পরিচিত?
উত্তর: গ্রামপঞ্চায়েতের প্রধান পঞ্চায়েত প্রধান নামে পরিচিত।

35. কতদিন অন্তর গ্রামপঞ্চায়েতের সভা ডাকা হয়?
উত্তর: গ্রামপঞ্চায়েতের সভা আহবান করতে হয় মাসে অন্তত একবার।

36. পঞ্চায়েত ব্যবস্থার মধ্যস্তর কী নামে পরিচিত?
উত্তর: পঞ্চায়েত ব্যবস্থার মধ্যস্তর পঞ্চায়েত সমিতি নামে পরিচিত।

37. পঞ্চায়েত সমিতির একটি স্থায়ী কমিটির নাম উল্লেখ করাে।
উত্তর: অর্থসংক্রান্ত কমিটি হল পঞ্চায়েত সমিতির একটি স্থায়ী কমিটির নাম।

38. পৌরসভায় কত রকমের কমিটি রয়েছে?
উত্তর: চার ধরনের কমিটি রয়েছে পৌরসভায়।

39. কমিশনারের কার্যকাল কত বছর?
উত্তর: কমিশনারের কার্যকাল ৬ বছর।

40. পশ্চিমবঙ্গে কোনাে গ্রামপঞ্চায়েতে সর্বোচ্চ কতজন ও সর্বনিম্ন কতজন সদস্য সংখ্যা হতে পারে?
উত্তর: পশ্চিমবঙ্গের কোনাে গ্রামপঞ্চায়েতে সর্বোচ্চ ২৫জন সদস্য ও সর্বনিম্ন ৭জন সদস্য নির্বাচিত হতে পারে।

41. বড়াে বড়াে শহরের স্বায়ত্তশাসনমূলক প্রতিষ্ঠানকে কী বলা হয়?
উত্তর: বড়াে বড়াে শহরের স্বায়ত্তশাসনমূলক প্রতিষ্ঠানকে পৌরপ্রতিষ্ঠান বলা হয়।

42. ছােটো বা মাঝারি স্বায়ত্তশাসনমূলক প্রতিষ্ঠানকে কী বলা হয়?
উত্তর: ছােটো বা মাঝারি স্বায়ত্তশাসনমূলক প্রতিষ্ঠানকে পৌরসভা বলা হয়।

43. আইন অনুযায়ী কীভাবে গ্রাম গঠিত হয়?
উত্তর: একটি মৌজা (mauja) বা মৌজার অংশ বিশেষ বা একাধিক সংলগ্ন মৌজাকে নিয়ে একটি গ্রাম গঠিত হয়।

44. কীভাবে প্রধান ও উপপ্রধান নির্বাচিত হন?
উত্তর: গ্রামপঞ্চায়েতের প্রথম সভায় নির্বাচিত সদস্যরা নিজেদের মধ্যে থেকে একজনকে প্রধান ও অপর একজনকে উপপ্রধান নির্বাচন করেন।

45. ন্যায় পঞ্চায়েতের সচিব হিসাবে কে কাজ করে থাকেন?
উত্তর: গ্রামপঞ্চায়েতের সচিব ন্যায় পঞ্চায়েতের সচিব হিসাবে কাজ করেন।

46. একটি গ্রামপঞ্চায়েতের মােট আসন সংখ্যার কত শতাংশ মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত?
উত্তর: একটি গ্রাম পঞ্চায়েতের মােট আসন সংখ্যার ২ শতাংশ মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত।

47. পঞ্চায়েত সমিতি পূর্বে কী নামে পরিচিত ছিল?
উত্তর: পঞ্চায়েত সমিতি পূর্বে আঞ্চলিক পরিষদ নামে পরিচিত ছিল।

48. পঞ্চায়েত সমিতির কর্তাকে কী বলে?
উত্তর: পঞ্চায়েত সমিতির কর্তাকে সভাপতি বলা হয়।

49. জেলাপরিষদের কার্যনির্বাহক আধিকারিক কে?
উত্তর: জেলাপরিষদের কার্যনির্বাহক আধিকারিক হলেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (D.M.)।

50. পৌরসভার প্রধান আয়ের উৎস কী?
উত্তর: শহরবাসীর গৃহ ও জমির বার্ষিক আয়ের ওপর ধার্য কর হল পৌরসভার আয়ের প্রধান উৎস।

51. কর্পোরেশনের দুটি অবশ্য করণীয় কাজ কী কী?
উত্তর: জল সরবরাহের ব্যবস্থা করা এবং ময়লা নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হল কর্পোরেশনের দুটি অবশ্য করণীয় কাজ।

52. কতজন সদস্য নিয়ে সপরিষদ মেয়র গঠিত হয়?
উত্তর: সপরিষদ মেয়র গঠিত হয় ১২ জন সদস্যকে নিয়ে।

53. গ্রামপঞ্চায়েতের সভায় কত জন সদস্যের উপস্থিতিতে ‘কোরাম’ হয়?
উত্তর: মােট নির্বাচিত সদস্যের অংশের ১/৪ উপস্থিতি অথবা কমপক্ষে ৪জন সদস্যের উপস্থিতিতে সভার ‘কোরাম’ হয়।

54. ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দের পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত (সংশােধনী) আইনের তফশিলি জাতি উপজাতির জন্য কত অংশ আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে?
উত্তর: ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দের পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত (সংশােধনী) আইনে তফশিলি জাতি উপজাতির জন্য ১/৩ অংশ আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে।

55. পৌরসভার প্রধান কার্যনির্বাহী কে?
উত্তর: চেয়ারম্যান হলেন পৌরসভার প্রধান কার্যনির্বাহী।

56. ন্যায় পঞ্চায়েতের বিচারপতিদের কার্যকাল কত বছর?
উত্তর: ন্যায় পঞয়েতের বিচারপতিদের কার্যকাল ৫ বছর।

57. ন্যায় পঞ্চায়েত কী ধরনের মামলার বিচার করতে পারে?
উত্তর: ন্যায় পঞ্চায়েত ছােটোখাটো দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলার বিচার করতে পারে।

58. ৭৩তম সংবিধান সংশােধনী আইনের মূল বক্তব্য কী?
উত্তর: ৭৩তম সংশােধনীতে ভারতের প্রতিটি রাজ্যে ত্রিস্তরবিশিষ্ট পঞ্চায়েত ব্যবস্থার প্রবর্তন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

59. তিনটি পৌর স্বায়ত্তশাসনমূলক প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করাে।
উত্তর: পৌর প্রতিষ্ঠান, পৌরসভা, বন্দর সংরক্ষক সংস্থা হল তিনটি পৌর স্বায়ত্তশাসনমূলক প্রতিষ্ঠান।

60. গ্রামপঞ্চায়েতের প্রধানদের প্রশাসনিক কাজে সহায়তা করেন কে?
উত্তর: গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানদের প্রশাসনিক কাজে সহায়তা করেন কর্মসচিব।

61. পঞ্চায়েত সমিতির প্রশাসনিক আধিকারিক কে?
উত্তর: ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক (B.D.O.) হলেন পঞ্চায়েত সমিতির প্রশাসনিক আধিকারিক।

62. পঞ্চায়েত সমিতির কর্তাকে কী বলা হয়?
উত্তর: পঞ্চায়েত সমিতির কর্তাকে সভাপতি বলা হয়।

63. ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নাম কী?
উত্তর: জেলাপরিষদ হল ত্রিস্তর পঞ্চায়েতের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নাম।

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন ১। জেলাপরিষদের দুটি কাজ উল্লেখ করাে। .
উত্তর : (১) জেলার মধ্যে অবস্থিত্ব কোনাে বিদ্যালয়, সাধারণ পাঠাগার বা জনকল্যাণমূলক কাজ পরিচালনার জন্য অনুদান প্রদান করা। (২) রাজ্য সরকার, কেন্দ্রীয় সরকার বা কোনাে কর্তৃপক্ষ কোনাে প্রকল্প সম্পাদন করার দায়িত্ব দিলে তা পালন করা।

প্রশ্ন ২। পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি কর্পোরেশনের নাম করাে।
উত্তর : পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি কর্পোরেশন হল কলকাতা, চন্দননগর, হাওড়া ও শিলিগুড়ি।

প্রশ্ন ৩। পৌরসভা কী কী কাজ সম্পাদন করে ?
উত্তর : পৌরসভা তিন রকমের কাজ সম্পাদন করে। যেমন— (i) বাধ্যতামূলক কাজ। (ii) স্বেচ্ছাধীন কাজ। (iii) অর্পিত কাজ।

প্রশ্ন ৪। পৌরসভার সপরিষদ গঠন বর্ণনা করাে।
উত্তর : পৌরসভার সভাপতি, সহ সভাপতি ও কাউন্সিলার নিয়ে একটি সপরিষদ গঠিত হয়। সপরিষদ পৌরসভার যাবতীয় প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করে। সপরিষদকে তার কাজের জন্য কাউন্সিলার পর্ষদের কাছে দায়িত্বশীল থাকতে হয়।

প্রশ্ন ৫। পঞ্চায়েত সমিতির দুটি কাজ বলাে।
উত্তর : • বিদ্যালয় এবং অন্যান্য জনহিতকর প্রতিষ্ঠানকে অনুদান দেওয়া।
              • কৃষি, শিল্প, সমবায় আন্দোলন, জলসরবরাহ, স্বাস্থ্য, প্রাথমিক বয়স্কশিক্ষা এবং অন্যান্য জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে আর্থিক সাহায্য দান করা।

প্রশ্ন ৬। ৭৩-তম সংবিধান সংশােধনী আইনের দুটি গুরুত্ব লেখ।
উত্তর : ৭৩-তম সংবিধান সংশােধনী আইনে চারস্তর পঞ্চায়েত ব্যবস্থার পরিবর্তে ত্রিস্তর পড়ায়েত ব্যবস্থা গঠনের কথা বলা হয়। স্তরগুলি হল— (i) গ্রাম পঞ্চায়েত; (ii) পঞ্চায়েত সমিতি; (i) জেলা পরিষদ। তিনটি স্তরেই সার্বজনীন ভােটাধিকারের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়।

প্রশ্ন ৭। স্বায়ত্তশাসনের মূল কথা কী ?
উত্তর : স্বায়ত্তশাসনের মূল কথা ‘ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ।’ এই বিকেন্দ্রীকরণ ব্যবস্থাকে বাস্তবে রূপ দেয় স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা।

প্রশ্ন ৮। ৭৪-তম সংবিধান সংশােধনী আইনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উল্লেখ করাে।
উত্তর : (i) এই সংবিধান সংশােধনী আইনে পৌরসভার গঠন ও তার কার্যাবলি পরিচালনার জন্য সমগ্র দেশে একই ধরনের নীতি ও পদ্ধতির ওপর গুরুত্বের কথা বলা হয়।
(ii) ভারতের প্রতি নগরে একটি করে পৌরসভা গঠনের কথা বলা হয়েছে।

প্রশ্ন ৯। গ্রামপঞ্চায়েতের দুটি কাজ লেখাে।
উত্তর : (i) সরকারি কোনাে সম্পত্তির দেখাশােনার দায়িত্ব সরকার পঞ্চায়েতের হাতে তুলে দিতে পারে।
(ii) জনকল্যাণের স্বার্থে একাধিক গ্রামপঞ্চায়েত মিলে একটি যুক্ত কমিটি গঠন করতে পারে।

প্রশ্ন ১০। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ পৌরসভা আইনে কয় রকমের কমিটির কথা বলা হয়েছে?
উত্তর : বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ পৌরসভা আইনে চার রকমের কমিটির কথা বলা হয়েছে (i) বরাে কমিটি; (ii) ওয়ার্ড কমিটি; (ii) বিশেষ কমিটি; (iv) যৌথ কমিটি।

প্রশ্ন ১১। থানীয় স্বায়ত্তশাসনব্যবস্থার দুটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করাে।
উত্তর : স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন হল স্থানীয় সরকার। এই শাসনব্যবস্থার কয়েকটি বৈশিষ্ট্য হল— (ক) স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনমূলক প্রতিষ্ঠানগুলি আকারে ছােটো এবং এই প্রতিষ্ঠানের কর্তৃত্ব ও কাজ থানীয় এলাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। (খ) স্বায়ত্তশাসনমূলক প্রতিষ্ঠানগুলি স্থানীয় অধিবাসীদের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত হয়।

প্রশ্ন ১২। গ্রামপঞ্চায়েতের কয়েকটি অবশ্য করণীয় বা বাধ্যতামূলক কর্তব্য উল্লেখ করাে।
উত্তর : গ্রামপঞ্চায়েতের অবশ্য করণীয় বা বাধ্যতামূলক কর্তব্যগুলি হল—
(ক) জনস্বাস্থ্য সংরক্ষণ, (খ) ময়লা ও জলনিকাশের ব্যবস্থা করা, (গ) মহামারি প্রতিরােধ ও নিবারণের ব্যবস্থা করা, (ঘ) পানীয় জলের ব্যবস্থা করা, (ঙ) রাস্তাঘাট তৈরি ও মেরামত করা, (চ) জলপথ রক্ষণাবেক্ষণ, (ছ) রাস্তাঘাটের বেআইনি দখল বন্ধ করা, (জ) সাধারণের ব্যবহার্য জলাশয়, গােচারণ ক্ষেত্র, শ্মশানঘাট, কবরখানা সংরক্ষণ, (ঝ) কর ধার্য ও সংগ্রহ প্রভৃতি।

প্রশ্ন ১৩। জেলা সংসদ’-এর গঠন কাঠামাে বর্ণনা করাে।
উত্তর : পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত আইন (২০০৩) অনুসারে প্রতিটি জেলাপরিষদ স্তরে একটি জেলা সংসদ থাকবে।
(ক) জেলার সব গ্রামপঞ্চায়েতের প্রধানগণ;
(খ) পঞ্চায়েত সমিতিগুলির সভাপতি, সহকারি সভাপতি ও কর্মাধ্যক্ষগণ এবং
(গ) জেলাপরিষদের সব সদস্যকে নিয়ে জেলা সংসদ গঠিত হয়। জেলা সংসদের কাছে জেলাপরিষদকে বাজেটসহ হিসাব ও রিপাের্ট পেশ করতে হয়।

প্রশ্ন ১৪। পশ্চিমবঙ্গ ‘পৌর আইন’-এ পৌরসভাসমূহকে কটি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়েছে ও কী কী ?
উত্তর : পশ্চিমবঙ্গ পৌর আইনে’ পৌরসভাসমূহকে ৫টি শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়েছে। সেগুলি হল জনসংখ্যার ভিত্তিতে ক, খ, গ, ঘ, ও বিভাগ।

প্রশ্ন ১৫। পৌরসভার কয়েকটি স্বেচ্ছাধীন কাজ উল্লেখ করাে।
উত্তর : পৌরসভার স্বেচ্ছাধীন কাজের সংখ্যা ৪১টি। এদের মধ্যে কয়েকটি হল— (ক) জাদুঘর নির্মাণ ও সংরক্ষণ; (খ) মদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গঠন; (গ) হাসপাতাল, (ঘ) দোকানবাজার; (ঙ) কর্মশালা; (চ) পানীয় জল; (ছ) অ্যাম্বুলেন্স পরিসেবা; (জ) দুগ্ধ সরবরাহ; (ঝ) ধোঁয়া দূষণ; (ঞ) প্রসূতিসদন; (ট) পাঠাগার; (ঠ) শিক্ষাব্যবস্থা প্রভৃতি।

প্রশ্ন ১৬। “মিশ্র জেলা” কাকে বলে?
উত্তর : যেসব জেলার সীমানার মধে বেশির ভাগ গ্রামাঞ্চল এবং অল্পবিস্তর শিল্পাঞ্চল পড়ে সেই সকল জেলাকে বলা হয় “ মিশ্র জেলা’। যেমন— উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা।

প্রশ্ন ১৭। পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান গ্রামীণ পঞ্চায়েত কাঠামাে সম্পর্কে আলােচনা করাে।
উত্তর : ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে প্রণীত পঞ্চায়েত আইনে পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ব্যবস্থা চার স্তরের পরিবর্তে বর্তমানে তিনটি স্তরে বিভক্ত— (ক) গ্রাম পর্যায়ে গ্রামপঞয়েত; (খ) ব্লক পর্যায়ে পঞ্চায়েত সমিতি; এবং (গ) জেলা পর্যায়ে জেলাপরিষদ।

প্রশ্ন ১৮। নতুন পঞ্চায়েত আইন গ্রামপঞ্চায়েতের গঠনে আসন সংরক্ষণ সম্পর্কে আলােচনা করাে।
উত্তর : নতুন পঞ্চায়েত আইন অনুসারে গ্রামপঞ্চায়েতের মােট আসনের এক-তৃতীয়াংশ মহিলা সদস্যদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। এবং তফশিলি জাতি ও উপজাতিদের জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন সংরক্ষিত থাকবে। আবার তফশিলি জাতি ও উপজাতিদের জন্য সংরক্ষিত মােট আসনের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ সংশ্লিষ্ট জাতি ও উপজাতিদের মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসনসমূহ আবর্তনশীলতার নিয়ম অনুসারে পূরণ করতে হবে।

প্রশ্ন ১৯। গ্রামপঞ্চায়েতের আয়ের উৎসগুলি কী কী?
উত্তর : গ্রামপঞয়েতের আয়ের প্রধান উৎসগুলি হল : কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের অনুদান, সাহায্য ও দান, জমি ও ঘরবাড়ির ওপর কর; পেশা ও বৃত্তির ওপর ধার্য ফি; জল; আলাে সরবরাহ; ময়লা নিষ্কাশন প্রভৃতি বাবদ ফি; জরিমানা ইত্যাদি। এলাকার মধ্যে স্থায়ী সম্পত্তি হস্তান্তরের ওপর শতকরা ২ ভাগ এবং আমােদ-প্রমােদের জায়গায় প্রবেশের ওপর শতকরা ১০ ভাগ স্ট্যাম্প ডিউটি প্রভৃতি। তা ছাড়া, জেলাপরিষদ এবং পঞ্চায়েত সমিতিও গ্রামপঞ্চায়েতকে আর্থিক সাহায্য দিতে পারে।

প্রশ্ন ২০। পৌরাঞ্চলের ওয়ার্ড সম্পর্কে নতুন পশ্চিমবঙ্গ পৌর আইনে কী বলা হয়েছে?
উত্তর : কোনাে পৌরাঞ্চলে ওয়ার্ডের সংখ্যা ৯টির কম হবে না। সর্বাধিক ওয়ার্ডের সংখ্যা বিভিন্ন শ্রেণির পৌরসভার ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম। ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভার ক্ষেত্রে এই সংখ্যা ৩৫; ‘খ’ শ্রেণির ক্ষেত্রে ‘৩০’, ‘গ’ শ্রেণির ক্ষেত্রে ২৫, ‘ঘ’ শ্রেণির ক্ষেত্রে ২০ এবং ‘ঙ’ শ্রেণির ক্ষেত্রে ১৫।

প্রশ্ন ২১। পশ্চিমবঙ্গের কোনাে জেলাপরিষদে কতজন মহিলাকে রাজ্য সরকার মনােনীত করতে পারে? কখন এরূপ মনােনয়ন সম্ভব?
উত্তর : পশ্চিমবঙ্গের কোনাে জেলাপরিষদে অনধিক ২জন মহিলা সদস্য রাজ্য সরকার জেলাপরিষদে মনােনীত করতে পারেন। নির্বাচনের মাধ্যমে কোনাে মহিলা প্রতিনিধি প্রেরণ সম্ভব না হলে এরূপ মনােনয়ন করা যায়।

বর্ণনামূলক প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন ১) স্বায়ত্তশাসনের ধারণা কী? স্বায়ত্তশাসনের বৈশিষ্ট্য আলােচনা করাে।
উত্তর: “সুশাসন কখনাে স্বায়ত্তশাসনের বিকল্প হতে পারে না”—এই উপলদ্ধিই মানুষকে স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠার পথে অগ্রসর হওয়ার অনুপ্রেরণা জোগায়। স্থানীয় অধিবাসীদের দ্বারা যখন জেলা, শহর, গ্রাম প্রভৃতির মতাে ছােটো ছােটো অঞলের শাসনব্যবস্থা পরিচালিত হয়, তখন সেই ব্যবস্থাকে স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা বলে। সংসদীয় গণতন্ত্রে জনগণই স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থার মেরুদণ্ড। গণতন্ত্রে যদি জনগণ সরকারের কাজে অংশগ্রহণ না করতে পারে তাহলে গণতন্ত্র সফল হতে পারে না। আর পঞ্চায়েতের মাধ্যমে গণতন্ত্র সার্থক রূপ লাভ করে। ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দে লর্ড রিপন স্থানীয় গণতন্ত্রকে সার্থক করে তােলার জন্য একে স্বায়ত্তশাসনে পরিণত করার সিদ্ধান্ত নেন। এককথায় স্বায়ত্তশাসনের অর্থ হল—’নিজেদের সরকার’। ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে জওহরলাল নেহরু বলেন যে, ভারতের প্রকৃত গণতন্ত্রের ভিত্তি হবে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন। এবিষয়ে অধ্যাপক ল্যাস্কি বলেন— What touches all should be framed by all.
বৈশিষ্ট্য
(i) স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা আইনের দ্বারা সৃষ্ট। এটি একটি আইনগত সংস্থা। যেমন, ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গীয় পৌরসভা আইন পশ্চিমবঙ্গের পৌরসভাগুলির উৎস।
(ii) স্বায়ত্তশাসনমূলক প্রতিষ্ঠানগুলি জনসাধারণকে শাসনকার্য পরিচালনার বিষয়ে নানা রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাবার সুযােগ করে দেয়।
(iii) স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন সংস্থাগুলি আইনসম্মত যৌথ সংস্থা।
(iv) এগুলি ক্ষুদ্র সরকার হিসাবে কাজ করে।
(v) মিতব্যয়িতা ও ন্যায়পরায়ণতার দিক দিয়ে স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থার যথেষ্ট প্রয়ােজনীয়তা রয়েছে। নিজেদের উন্নতির জন্য যে অর্থ স্থানীয় জনসাধারণ ব্যয় করে, সেই অর্থের যাতে অপচয় না হয় সেদিকে তারা সদাসতর্ক দৃষ্টি রাখে।
(vi) এই সংস্থাগুলি ক্ষমতাস্বতন্ত্রীকরণের নীতি মেনে চলে না।
(vii) এই সংস্থাগুলি গণতন্ত্রের সম্প্রসারণে সাহায্য করে। এগুলিকে বলা হয় তৃণমূলে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা।
(viii) এই সংস্থাগুলি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে, অর্থ সংগ্রহ করতে এবং কর্মসূচি রূপায়ণ করতে পারে।
(ix) স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনব্যবস্থার মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে তাদের প্রতিনিধিদের সম্পর্ক অনেক বেশি ঘনিষ্ঠ হয়। জনসাধারণ নিজেরাই তাদের প্রতিনিধিদের কাজকর্ম প্রত্যক্ষ করে বলে তারা অতি সহজেই প্রতিনিধিদের যােগ্যতা বিচার করতে পারে। তাই এইরূপ শাসনব্যবস্থাকে সামাজিক অগ্রগতির হাতিয়ার হিসাবে চিহ্নিত করা হয়।

প্রশ্ন ২) পশ্চিমবঙ্গে পৌরসভার গঠন আলােচনা করাে।
উত্তর : আধুনিক ভারতে পৌরসভার সূত্রপাত ঘটেছিল ব্রিটিশ আমলে। ১৮৮২ খ্রিস্টাব্দে লর্ড রিপনের একটি ঘােষণার মধ্য দিয়ে পৌর শাসনব্যবস্থার যাত্রা শুরু। ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে প্রণীত বঙ্গীয় পৌর আইন [The Bengal Municipal Act-1932] -এর দ্বারা এতদিন পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের পৌরসভাগুলি প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত হয়েছে। কলকাতা, চন্দননগর, হাওড়া, আসানসােল এবং শিলিগুড়ি—এই কয়টি শহর ছাড়া পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য শহরে স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থা পৌরসভার দ্বারা পরিচালিত হয়।

গঠন

নতুন আইনে পৌরসভাগুলিকে পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
(ক) ২ লক্ষাধিক সংখ্যাবিশিষ্ট পৌরঅঞল।
(খ) ১ লক্ষ ৫০ হাজার ও অনধিক ২ লক্ষ জনসংখ্যাবিশিষ্ট পৌরঅঞ্চল।
(গ) অন্যূন ৭৫ হাজার অনধিক ১ লক্ষ ৫০ হাজার জনসংখ্যাবিশিষ্ট পৌরঅঞ্চল।
(ঘ) অন্যূন ২৫ হাজার অনধিক ৭৫ হাজার জনসংখ্যাবিশিষ্ট পৌরঅঞ্চল।
(ঙ) অনধিক ৭৫ হাজার জনসংখ্যাবিশিষ্ট পৌরঅঞ্চল।

কাউন্সিলারের যােগ্যতা

পৌরসভার সদস্যদের কাউন্সিলর হিসাবে অভিহিত করা হয়। তারা সার্বজনীন প্রাপ্তবয়স্কদের ভােটাধিকারের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট পৌরঅঞ্চলে বসবাসকারি ১৮ বছর বয়স্ক নাগরিকদের দ্বারা নির্বাচিত হন। কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত হতে গেলে কোনাে ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভােটদাতা হতে হবে।

তিনটি কর্তৃপক্ষ

নতুন আইন অনুসারে পৌরসভার কার্যসম্পাদন ও পরিচালনা করার জন্য ৩টি কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে—(ক) পৌরসভা, (খ) সপরিষদ, (গ) চেয়ারম্যান। প্রতিটি পৌরসভা নির্বাচিত কাউন্সিলারদের নিয়ে গঠিত কাউন্সিলার পরিষদকে পৌরসভা বলা হয়। এই পরিষদের মেয়াদ ৫ বছর।
বিভিন্ন কমিটি গঠন :
বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ পৌরসভা আইনে চার রকমের কমিটির কথা বলা হয়েছে।
(i) বরাে কমিটি; (i) ওয়ার্ড কমিটি; (ii) বিশেষ কমিটি; (iv) যৌথ কমিটি।

কর্মচারীবৃন্দ

একটি পৌরসভায় (১) একজন কার্যনির্বাহী আধিকারিক, (২) একজন চিকিৎসক, (৩) একজন বাস্তুকার, (৪) একজন সচিব, (৫) একজন প্রধান সহকারী, (৬) একজন জরিপদার ও (৭) একজন হিসাব পরীক্ষক এবং আরও অন্যান্য কর্মচারী থাকে।

প্রশ্ন ৩) পৌরসভার ক্ষমতা ও কার্যাবলি বর্ণনা করাে।
উত্তর : পশ্চিমবঙ্গ পৌর আইনের ষষ্ঠ অধ্যায়ে [৬৩–৬৬] নং ধারা পৌরসভার ক্ষমতা ও কার্যাবলি সম্বন্ধে আলােচনা করা হয়েছে। এইসব কাজকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-
(ক) বাধ্যতামূলক কাজ (খ) স্বেচ্ছাধীন কাজ (গ) অর্পিত কাজ।

বাধ্যতামূলক কাজ
বাধ্যতামূলক কার্যাবলি চার ভাগে বিভক্ত। যথা—
(১) জনসেবামূলক, (২) জনস্বাস্থ্যমূলক, (৩) নগর পরিকল্পনামূলক, (৪) প্রশাসন বিষয়ক।
পৌরসভার বাধ্যতামূলক কাজের মধ্যে কয়েকটি হল রাস্তা, সেতু তৈরি, মারাত্মক রােগ প্রতিরােধ, পরিবেশ দূষণরােধ, নগর পরিকল্পনা প্রভৃতি।

স্বেচ্ছাধীন কার্যাবলি
নতুন আইনে স্বেচ্ছাধীন কার্যাবলিকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায়—(১) জনকল্যাণ, (২) জনস্বাস্থ্য, (৩) শিক্ষা, (৪) প্রশাসন, (৫) উন্নয়ন। মােট ৪১টি বিষয়কে স্বেচ্ছাধীন কার্যাবলির তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সেগুলির মধ্যে কয়েকটি হল-বৃদ্ধ ও অনাথদের আশ্রয়দান, পাঠাগার, সংগ্রহশালা, গুদামঘর, দোকান, বাজার সংরক্ষণ প্রভৃতি।

অর্পিত কাজ
অর্পিত তালিকায় ১৭টি কাজ তালিকাভুক্ত। এইসব কাজের মধ্যে শহর ও গ্রাম পরিকল্পনা, নগরােন্নয়ন, জল সরবরাহ, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, খাদ্য ও খাদ্য সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ, ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ, তফশিলি জাতি ও উপজাতি কল্যাণ, বনসৃজন প্রভৃতি।

মূল্যায়ন
শহরাঞ্চলে পৌরসভাগুলির নানা সমস্যা আছে। এর মধ্যে প্রধান হল আর্থিক সমস্যা। আছে সাংগঠনিক সমস্যাও। পৌরসভাগুলির দিন দিন পরিকল্পনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু আয়ের উৎস সীমিত। তাই নিজস্ব আয়ে কর্মচারীদের বেতন মেটানাে সম্ভব হচ্ছে না। রাজ্য সরকারের অনুদানের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তাই স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে আয়ের উৎসকে বাড়াতে হবে। বকেয়া কর আদায় করতে হবে। পৌর প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি দূর করা দরকার। রাজনৈতিক কারণে অনেক সময় অযােগ্য ব্যক্তি জনপ্রতিনিধি হিসাবে নির্বাচিত হয়ে আসে।
   এইভাবে পৌরসভাগুলির হাতে অধিক ক্ষমতা প্রদান, উন্নয়নের স্বার্থে এগুলির প্রশাসনিক ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাস প্রভৃতির মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের সরকার পৌর প্রশাসনের ক্ষেত্রে যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে সে বিষয়ে দ্বিমত পােষণ করার কোনাে অবকাশ নেই।

প্রশ্ন ৪) রাজ্য সরকার কীভাবে কর্পোরেশনের উপর নিজের নিয়ন্ত্রণ কায়েম করেন?
উত্তর : আমাদের মনে রাখা দরকার যে-কোনাে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণরূপে স্বাধীন হতে পারে না। এরা কেউই সরকার বা সরকারের সমগােত্রীয় নয়। এছাড়া রাজ্য সরকারকে এইসব প্রতিষ্ঠানের দোষ ত্রুটির জন্য আইনসভায় দায়বদ্ধ থাকতে হয়। সুতরাং, পশ্চিমবঙ্গের পৌরসভাগুলির উপর রাজ্য সরকারের যথেষ্ট প্রশাসনিক ও আর্থিক নিয়ন্ত্রণ আছে।
   নতুন আইনে কলকাতা কর্পোরেশনকে যেমন অনেক বেশি ক্ষমতার অধিকারী করা হয়েছে তেমনি সেই ক্ষমতার উপর রাজ্য সরকারের নিয়ন্ত্রণ সুস্পষ্টভাবে কার্যকর করা হয়েছে। প্রথম, কলকাতা কর্পোরেশনের কোনাে বিভাগ, দপ্তর, কার্যাবলি, সম্পত্তি ইত্যাদি পরিদর্শন বা পরীক্ষার জন্য রাজ্য সরকার উপযুক্ত দায়িত্বশীল প্রশাসনিক কর্মচারী নিয়ােগ করতে পারে। এই কর্মচারী যখন তার দায়িত্ব পালনের প্রয়ােজনে কর্পোরেশনকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দলিল ও কাগজপত্র সরবরাহ করার জন্য নির্দেশ দিতে পারে। নতুন পুর আইনের ১১৩নং ধারা অনুসারে তিনি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে রাজ্য সরকারের কাছে রিপাের্ট পেশ করতে পারেন, ওই রিপাের্টের ভিত্তিতে যদি রাজ্য সরকারের মনে হয় যে কর্পোরেশন নিজের দায়িত্ব পালনের অক্ষমতা বা অবহেলা প্রদর্শন করেছে অথবা রাজ্য সরকারের সতর্কবার্তা অগ্রাহ্য করে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে তাহলে পৌর আইনের ১১৭ নং ধারা অনুসারে রাজ্য সরকার কর্পোরেশনের পরিচালনার দায়িত্বভার স্বহস্তে গ্রহণ করতে পারে। এছাড়া রাজ্য সরকার যদি মনে করে যে মেয়র কর্পোরেশনের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সমর্থন হারিয়েছেন তাহলে রাজ্য সরকার কর্পোরেশনকে অধিগ্রহণ করতে পারে। রাজ্য সরকার কলকাতা কর্পোরেশনকে সর্বাধিক ১৮ মাস
পর্যন্ত বাতিল করে রাখতে পারে। প্রথম পর্বে সরকার ১ বছরের জন্য কর্পোরেশনকে অধিগ্রহণ করে পরে এর মেয়াদ আরও ৬ মাস পর্যন্ত বৃদ্ধি করা যায়। কর্পোরেশনের কোনাে কাজ আইন বহির্ভূতভাবে হয়েছে একথা যদি রাজ্য সরকার মনে করে তবে প্রয়ােজনীয় সংশােধনের জন্য রাজ্য সরকার নির্দেশ দিতে পারে। এছাড়া আমরা আগেই দেখেছি যে অর্থ সাহায্য এবং ঋণ সংগ্রহের জন্য কর্পোরেশনকে রাজ্য সরকারের উপর নির্ভর করতে হয়। এই নির্ভরতার মধ্যে স্বাভাবিকভাবে নিয়ন্ত্রণের মনোভাব নিহিত থাকে।

প্রশ্ন ৫) ন্যায় পঞ্চায়েতের গঠন ও কার্যাবলি সংক্ষেপে বর্ণনা করাে।
উত্তর : ১৯৫৭ খ্রিস্টাব্দের পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত আইনে ন্যায় পঞ্চায়েতের সংস্থান ছিল। একইভাবে ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে পঞ্চায়েত আইনে ন্যায় পঞ্চায়েত প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। তবে একথাও বলা হয়েছে যে রাজ্য সরকার যদি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে কোনাে গ্রামপঞ্চায়েতকে ন্যায় পঞ্চায়েত গঠনের অনুমতি দেয় তবেই কেবলমাত্র সংশ্লিষ্ট গ্রামপঞ্চায়েত ন্যায় পঞ্চায়েত গঠন করতে পারবে। ভারতের কিছু কিছু রাজ্যে যেমন ত্রিপুরা, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, মহারাষ্ট্র ও জম্মু কাশ্মীরে
কিছু কিছু গ্রামপঞয়েতের উদ্যোগে ন্যায় পঞ্চায়েত গঠিত হয়েছে। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গে এখনও পর্যন্ত কোনাে গ্রামপঞ্চায়েতকে ন্যায় পঞ্চায়েত গঠনের জন্য রাজ্য সরকার অনুমতি প্রদান করেনি।
   ন্যায় পঞ্চায়েতকে বলা যায় গ্রামীণ বিচারব্যবস্থার প্রাথমিক একক। স্বল্প খরচে দ্রুত গতিতে গ্রামীণ মানুষদের ন্যায় বিচারের সুযােগ দেওয়ার জন্যই ন্যায় পঞ্চায়েত গঠিত হয়।
পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত আইনের ৫১ নং ধারায় ৫ জন সদস্যবিশিষ্ট ন্যায় পঞ্চায়েত গঠনের কথা বলা হয়েছে। এই পাঁচজনের মধ্যে একজনকে প্রধান বিচারকপদে নির্বাচিত করা হয়। তিনি ন্যায় পঞ্চায়েতের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। তিনি অনুপস্থিত থাকলে উপস্থিত অন্যান্যদের মধ্য থেকে একজনকে প্রধান বিচারকরূপে নির্বাচিত করা হয়। তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তিনজন বিচারককে অবশ্যই উপস্থিত থাকতে হবে। বিচারকদের কার্যকাল পাঁচ বছর। গ্রামপঞ্চায়েতের সচিবই ন্যায় পঞ্চায়েতের সচিবরূপে কাজ করেন। ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ব্যবস্থার কোনাে পর্যায়ে নির্বাচিত কোনাে পঞ্চায়েত সদস্য বা পৌরসভার সদস্য ন্যায় পঞ্চায়েতের সদস্য তথা বিচারক হতে পারবেন না। প্রয়ােজনে রাজ্য সরকার বিচারকদের পদচ্যুত করতে পারেন।
   ন্যায় পঞ্চায়েতের দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় এলাকায় বিচারকার্য করার ক্ষমতা আছে। যে-সকল দেওয়ানি বিবাদের সঙ্গে ২৫০ টাকা বা তার কম টাকার বিষয় জড়িত সেই সমস্ত বিবাদ ন্যায় পঞ্চায়েতের দেওয়ানি এলাকার অন্তর্ভুক্ত। ন্যায় পঞ্চায়েতের প্রদত্ত রায়ের বিরুদ্ধে এক্ষেত্রে মহকুমা আদালতে আবেদন করা যায়। অন্যদিকে ন্যায় পঞ্চায়েতের ফৌজদারি এলাকায় যে ক্ষমতা আছে তাতে দেখা যায় যে গবাদি পশুর অনধিকার প্রবেশ সংক্রান্ত ক্ষতিপূরণের মামলা, ভারতীয় দণ্ডবিধি অনুসারে যে সমস্ত মামলায় সর্বাধিক পঞ্চাশ টাকা জরিমানা হতে পারে এমন মামলা এবং খেয়া আইন সম্পর্কিত মামলায় ন্যায় পঞ্চায়েত বিচারকার্য সম্পন্ন করে। যথারীতি ন্যায় পঞ্চায়েতের রায়ের বিরুদ্ধে এক্ষেত্রেও মহকুমা আদালতে আবেদন করা যায়। তবে মনে রাখা দরকার যে ন্যায় পঞ্চায়েত কোনাে ব্যক্তিকে কারাদণ্ড দিতে পারে না।

প্রশ্ন ৬) ব্লক প্রশাসনের মূল বৈশিষ্ট্যগুলি সংক্ষেপে আলােচনা করাে।
উত্তর : জেলা প্রশাসনের অঙ্গীভূত অংশ এবং সর্বনিম্ন প্রশাসনিক একক হল ব্লক। সাধারণভাবে একটি জেলার মধ্যে কমবেশি ১৫টি ব্লক দেখা যায়। ক্রমােচ্চ স্তর বিন্যস্ত ব্যবস্থায় যদিও ব্লকের অবস্থান সর্বনিম্নে বা অনেকাংশে তৃণমূল স্তরে প্রশাসনিক দৃষ্টি থেকে এর গুরুত্ব কিন্তু অপরিসীম। গ্রাম প্রধান ও কৃষি-প্রধান ভারতবর্ষের যে বিশাল উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ চলেছে সমগ্র দেশ জুড়ে তাতে ব্লকের গভীর তাৎপর্য আছে। সাধারণত একটি ব্লকের মধ্যে কমবেশি ১০০টি গ্রাম অন্তর্ভুক্ত হয়।
ব্লক প্রশাসন হল মূলত উন্নয়ন প্রশাসন। সুতরাং, ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকের অর্থাৎ B.D.O.-র প্রধান দায়িত্ব হল অঞ্চলের উন্নয়নকে সুনিশ্চিত করা। ব্লকস্তরে যে ব্লক পরিকল্পনা কমিটি আছে তার সদস্য-সচিবের দায়িত্ব B.D.O.– কে পালন করতে হয়।
   ব্যাপক জনসংযােগ বা জনগণের সঙ্গে সরাসরি যােগাযােগ (Public contact) ব্লক প্রশাসনকে একটি মৌল এবং গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী করেছে। যে-কোনাে রাজ্যের যে-কোনাে ব্লক অফিসের প্রতিদিন সাধারণ দৃশ্যটি প্রত্যক্ষ করলেই আমরা এই বৈশিষ্ট্যের বিষয়টিকে ভালােভাবে উপলব্ধি করতে পারি। দূরবর্তী ও দুর্গম গ্রামাঞ্চল থেকে কত না মানুষ প্রতিদিন তাদের নানা সমস্যার সমাধানের জন্য ব্লকে ধরনা দেয়। পঞ্চায়েতরাজ ব্যবস্থা, প্রতিষ্ঠার কল্যাণে মানুষের কাছে ব্লকের মূল্য অনেকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষি, পশুপালন, মৎস্যচাষ, কুটিরশিল্প, স্বাস্থ্য যােগাযােগ ত্রাণ, বিভিন্ন ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প, সমাজের বিভিন্ন দুর্বল অংশের জন্য নানাবিধ বৃত্তি ও অনুদান—এই সমস্ত বিষয়ের জন্য মানুষ ব্লক দপ্তরের উপর নির্ভর করে।
ব্লক প্রশাসনের একটি বৈশিষ্ট্য হল এটাই যে ব্লকের প্রধান অর্থাৎ ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক (B.D.O.) এবং অন্যান্য যেসব বিভাগীয় Extension Officer তথা সম্প্রসারণ আধিকারিক আছেন তারা সবাই রাজ্যকৃত্যক থেকে নিযুক্ত হন। অবশ্য এরা সবাই আবার জেলাশাসকের অধীনে থেকে কাজ করেন এবং এই জেলাশাসক আবার রাজ্যকৃত্যকের সদস্য নাও হতে পারেন।

রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন ১) গ্রাম পঞ্চায়েতের গঠন ক্ষমতা ও কার্যাবলি।
উত্তর : গঠন : কোনাে একটি মৌজা কিংবা তার কোনাে অংশ অথবা পরস্পর সংলগ্ন কয়েকটি মৌজার সমষ্টি বা তাদের অংশসমূহকে নিয়ে এক একটি গ্রাম গঠিত হবে বলে ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দের পঞ্চায়েত আইনে বলা হয়। রাজ্য সরকার প্রতিটি গ্রামের জন্য গ্রামের নামানুসারে গ্রামপঞ্চায়েত গঠন করে।
   প্রতিটি গ্রামপঞ্চায়েত গঠিত হবে সংশ্লিষ্ট গ্রামপঞ্চায়েত থেকে নির্বাচিত সদস্যগণ এবং পঞয়েত সমিতির সদস্যদের নিয়ে। ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক নবগঠিত গ্রাম পঞ্চায়েতের সভা আহ্বান করেন। এই সভায় পশ্চায়েতের সদস্যগণ নিজেদের মধ্য থেকে একজনকে প্রধান এবং একজনকে উপপ্রধান নিযুক্ত করেন। তাদের কার্যকাল ৫ বছর। প্রতিমাসে গ্রামপঞ্চায়েতের সভা হয়। পঞ্চায়েতে আছে একজন কর্মসচিব এবং অন্যান্য কর্মচারী। কিছু কর্মসচিবকে নিয়ােগ করে রাজ্য সরকার। কর্মসচিবকে তার কাজের জন্য প্রধানের কাছে দায়িত্বশীল থাকতে হয়। তা ছাড়া আছে অন্যান্য কর্মচারী, চৌকিদার, দফাদার প্রভৃতি।

ক্ষমতা ও কার্যাবলি
গ্রামপঞ্চায়েতের ক্ষমতা ও কার্যাবলিকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা—
(ক) অবশ্য পালনীয় কর্তব্য; (খ) অন্যান্য কর্তব্য; (গ) ইচ্ছাধীন কর্তব্য।
(ক) অবশ্য পালনীয় কর্তব্য :
(i) জনস্বাস্থ্য সংরক্ষণ, জলনিষ্কাশন, ময়লা পরিষ্কার করা। (i) ম্যালেরিয়া, গুটি বসন্ত, কলেরা অন্যান্য মহামারি নিবারক ব্যবস্থা গ্রহণ। (ii) পানীয় জল সরবরাহ, জলাধার পরিষ্কার করা। (iv) সার্বজনীন জনপথে দখল রদ ও উচ্ছেদসাধন। (v) অপরের খেতে গবাদি পশুর অনধিকার প্রবেশ প্রতিরােধ। (vi) সমাজ ও অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য স্বেচ্ছাশ্রম সংগঠিত করা। (vii) পঞ্চায়েত আইন অনুযায়ী ন্যায়পঞ্চায়েত গঠন ও পরিচালনা করা। (vii) সার্বজনীন পুষ্করিণী, সাধারণের গােচারণ ক্ষেত্র, শ্মশানঘাট ও সার্বজনীন কারখানা পরিচালনার তত্ত্বাবধান করা।
(খ) অন্যান্য কর্তব্য :
(i) খেয়াঘাট পরিচালনা করা। (ii) গ্রামীণ ঔষধালয়, স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও শিশুমঙ্গল কেন্দ্র স্থাপন করা। (ii) মহিলা ও শিশুদের উন্নতি সাধন। (iv) রাজ্য সরকার কর্তৃক গৃহীত উন্নয়নমূলক জনহিতকর কার্যাদির পক্ষে ব্যাপক প্রচারকার্য চালানাে। (v) গ্রামীণ গৃহ নির্মাণ কর্মসূচি গ্রহণ করা। (vi) বিদ্যুৎ বণ্টনসহ গ্রামীণ এলাকা বৈদ্যুতিকীকরণের ব্যবস্থা করা। (vii) জমির উন্নতিসাধন, মৃত্তিকা সংরক্ষণ।(vii) ভূমিসংস্কার আইনকে বাস্তবে রূপদানের কাজে সাহায্য করা।
(গ) ইচ্ছাধীন কর্তব্য :
(i) জনসাধারণ কর্তৃক ব্যবহৃত রাস্তায় আলাের ব্যবস্থা গ্রহণ। (i) জলপথের ধারে এবং অন্যান্য সার্বজনীন স্থানে বৃক্ষাদি রােপণ করা। (i) বেওয়ারিশ শব ও জীবজন্তুর সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ। (iv) সাংস্কৃতিক কার্যাবলির বিকাশ। (v) গণবণ্টন ব্যবস্থার উন্নতিসাধন। (vi) গ্রন্থাগার ও পাঠাগার স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণ। (vii) নির্ধারিত নিয়মে খাদ্যদ্রব্য এবং অন্যান্য সামগ্রীর উৎপাদন ও বণ্টন ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ। (viii) দারিদ্র্য দূরীকরণ কর্মসূচি গ্রহণ।

কার্যাবলি
ন্যায় পঞ্চায়েত দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলার বিচার করতে পারে। ২৫০ টাকা কিংবা তার কম পরিমাণ অর্থ জড়িত আছে এমন সব মামলা ন্যায় পঞ্চায়েতের দেওয়ানি মামলার অন্তর্ভুক্ত। দেওয়ানি মামলার ক্ষতিপূরণের জন্য মামলা ন্যায় পঞ্চায়েতের দেওয়ানি এলাকার অন্তর্ভুক্ত।

মূল্যায়ন
অনেকে পঞ্চায়েত ব্যবস্থার ত্রুটিবিচ্যুতি উল্লেখ করেছেন। পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরাতে পঞ্চায়েত ব্যবস্থা পরিচ্ছন্ন হলেও অনেক জায়গায় প্রশাসনিক দুর্নীতি আছে। তার বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে। তাহলেও আত্মতুষ্টির কারণ নেই। আরও গণমুখী পয়েত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। গ্রাম অঞ্চলের গরিব মানুষ যাতে আরও বেশি করে পায়েতের কাজে অংশগ্রহণ করতে পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রশাসনকে আরও বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। অশােক মেহতা কমিটির অন্যতম সদস্য প্রয়াত ইম.এম.এস. নাম্বুদিরিপাদ বলেছেন—“মেহনতি ও শ্রমজীবী মানুষ কেবল গণতান্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরণের মাধ্যমে তাদের ওপর অত্যাচার ও শােষণের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে পারে। অধ্যাপক মরিস জোনস এর মতে— “পঞ্চায়েতের ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রামীণ রাজনীতিতে এক নতুন প্রাণের সঞ্চার হয়েছে।” তবে একথা অস্বীকার করা যাবে না যে, সর্বভারতীয় অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ব্যবস্থার সাফল্যের পাল্লা অনেক ভারী। 

প্রশ্ন ২) পঞ্চায়েত সমিতির ক্ষমতা ও কার্যাবলি বর্ণনা করাে।
উত্তর : ১৯৪২ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত আইনে যে-সকল সংশােধন করা হয় তার ভিত্তিতে পঞ্চায়েত সমিতিকে ব্যাপক ক্ষমতার অধিকারী করা হয়েছে। বর্তমানে পঞ্চায়েত সমিতিকে বিভিন্ন ধরনের দায়িত্ব পালন করতে হয়। পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যদের পাঁচ বছরের সময় সীমার জন্য একটি সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং প্রতিটি বছরের জন্য আলাদা করে একটি বার্ষিক পরিকল্পনা প্রস্তুত করতে হয়।
   সমষ্টি উন্নয়ন ও সমাজের প্রত্যেক ব্যক্তির আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যকে বাস্তবায়িত করার জন্য সমিতিকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হয়। এই উদ্দেশ্যে বর্তমান পঞ্চায়েত সমিতির হাতে যে ক্ষমতাগুলি ন্যস্ত করা হয়েছে তা আমরা নিম্নলিখিতভাবে বিন্যস্ত করতে পারি—
(i) কৃষি, পশুপালন, কুটিরশিল্প, সমবায় আন্দোলন, গ্রামীণ ঋণ, জল সরবরাহ, সেচ ও জল পরিচালন ও জলসেচ উন্নয়নসহ ক্ষুদ্র সেচ, জনস্বাস্থ্য ও নিরাময় ব্যবস্থাসহ ঔষধালয়, হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা, বয়স্ক ও বিধিবহির্ভূত শিক্ষা,ছাত্র কল্যাণ, সামাজিক বনসৃজন, জ্বালানি ও পশুখাদ্য, যােগাযােগ, গ্রামীণ বৈদ্যুতিকীকরণসহ বিদ্যুতের বণ্টন, অচিরাচরিত শক্তির উৎসসমূহ, নারী ও শিশুর উন্নয়ন, সমাজকল্যাণ এবং অন্যান্য সাধারণ লােকহিতকর প্রকল্পের উন্নয়নে আর্থিক সাহায্য প্রদানসহ বিভিন্ন প্রকল্প পঞ্চায়েত সমিতিকে গ্রহণ করতে হয়।
(ii) রাজ্য সরকার অথবা অপর কোনাে কর্তৃপক্ষের দ্বারা আরােপিত কোনাে প্রকল্পের বাস্তবায়ন এবং কোনাে কার্যক্রম বা প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব সমিতিকে গ্রহণ করতে হয়।
(iii) পঞ্চায়েত সমিতিতে অর্পিত অথবা সমিতির নিয়ন্ত্রণ তথা পরিচালনাধীনে কোনাে জনকল্যাণকর প্রকল্প থাকলে তাঁর পরিচালনা পঞ্চায়েত সমিতিকে করতে হবে।
(iv) পায়েত এলাকায় স্থাপিত যে-কোনাে বিদ্যালয়, জনপ্রতিষ্ঠান বা জনকল্যাণ সংস্থাকে সাহায্যার্থে পঞ্চায়েত সমিতি অনুদান প্রদান করতে পারবে।
(v) পঞ্চায়েত সমিতি গ্রামপঞ্চায়েতগুলিকে অনুদান দিতে পারবে।
(vi) রাজ্য সরকারের অনুমােদনক্রমে পঞ্চায়েত সমিতি অর্থাৎ ব্লকের অন্তর্গত কোনাে পৌরসভাকে জল সরবরাহ এবং মহামারি প্রতিষেধক ব্যবস্থার জন্য ব্যয় মঞ্জুর করতে পারবে।
(vii) আর্তদের ত্রাণের জন্য সমিতি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।
(viii) পঞ্চায়েত সমিতিকে তার এলাকার অন্তর্গত গ্রামপঞ্চায়েতসমূহের দ্বারা রচিত উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলির মধ্যে সমন্বয়সাধন করে।
(ix) পঞ্চায়েত সমিতির আরও একটি কাজ হল গ্রামপঞ্চায়েতগুলির বাজেট পরীক্ষা ও অনুমােদন করা।
   এই প্রসঙ্গে আমরা আরও লক্ষ করি যে রাজ্য সরকার ব্লকের অভ্যন্তরে স্থাপিত বা অবস্থিত কোনাে সড়ক, সেতু, ফেরি, খাল, দালান বা অন্যান্য সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা দায়িত্ব পঞ্চায়েত সমিতির ওপর ন্যস্ত করতে পারে। অন্য দিকে সমিতি ও তার নিজস্ব নিয়ন্ত্রণাধীন কোনাে সড়ক বা সম্পত্তি রাজ্য সরকার বা জেলাপরিষদের হাতে হস্তান্তর করতে পারে। আমরা আরও লক্ষ করি যে সাধারণতভাবে পঞ্চায়েত সমিতি কখনও তার এলাকাধীন কোনাে গ্রামপঞ্চায়েতের পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে না। কিন্তু পরিস্থিতির বিপাকে যদি কোনাে গ্রামপঞ্চায়েত একেবারে অক্ষম হয়ে যায় তখন পঞ্চায়েত সমিতি সেই গ্রামপঞয়েতের দায়িত্ব গ্রহণ করে। 

প্রশ্ন ৩) জেলাপরিষদের ক্ষমতা ও কার্যাবলি বর্ণনা করাে।
উত্তর : ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ব্যবস্থার সর্বোচ্চ স্তরে আছে জেলাপরিষদ। ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দের পঞ্চায়েত আইনে কলকাতা ছাড়া পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের প্রত্যেকটি জেলার জন্য একটি করে পরিষদ গঠনের ব্যবস্থা আছে। এক্ষেত্রে আমাদের মনে রাখতে হবে যে পৌরসভা বিজ্ঞাপিত এলাকা এবংসৈন্যাবাস এলাকাকে জেলাপরিষদের বাইরে রাখা হয়।পশ্চিমবঙ্গে ১৮টি জেলার মধ্যে বর্তমানে ১৬টি জেলায় জেলাপরিষদ আছে।

ক্ষমতা ও কার্যাবলি
জেলা পরিষদের ক্ষমতা ও কার্যাবলির মধ্যে বিশেষ উল্লেখযােগ্য হল-
(i) কৃষি, পশুপালন, কুটিরশিল্প, সমবায় আন্দোলন, গ্রামীণ ঋণ, জলসরবরাহ, সেচ, ঔষধালয়, হাসপাতাল, যােগাযােগ, ছাত্রকল্যাণসহ প্রাথমিক ও বয়স্ক শিক্ষা, জনকল্যাণ এবং অন্যান্য জনহিতকর কাজের উদ্দেশ্য প্রকল্প গ্রহণ।
(ii) রাজ্য সরকার বা অন্য যে-কোনাে কর্তৃপক্ষ যে-কোনাে প্রকল্প নির্বাহ কিংবা যে কোনাে কর্তব্য সম্পাদন অথবা যে-কোনাে প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করলে তা পালন করা।
(iii) কোনাে প্রকল্প সুসম্পন্ন করার জন্য কোনাে পঞ্চায়েত সমিতি আর্থিক সংকটে পড়লে সেই প্রকল্প সম্পাদনের দায়িত্ব নিজে হাতে গ্রহণ করা।
(iv) জেলার মধ্যে অবস্থিত যে-কোনাে বিদ্যালয়, সাধারণ পাঠাগার, জনপ্রতিষ্ঠান বা জনকল্যাণকর সংগঠন পরিচালনার জন্য অনুদান প্রদান।
(v) জেলার অধিবাসীদের পক্ষে জনকল্যাণকর অথচ জেলার বাইরে অবস্থিত যে কোনাে প্রতিষ্ঠানের সংক্রান্ত কার্যনির্বাহের জন্য অর্থ প্রদান করা।
(vi) রাজ্যের মধ্যে প্রযুক্তিগত ও অন্যান্য যে-কোনাে বিশেষ ধরনের শিক্ষার উন্নতির জন্য বৃত্তি প্রদান করা।
(vii) জেলাথিত পঞ্চায়েত সমিতিগুলির বাজেট পরীক্ষা ও অনুমােদন করা।
(viii) পঞ্চায়েত সমিতি গ্রামপঞ্চায়েত সমূহ কর্তৃক পরিচালিত উন্নয়ন কার্যাবলি সম্পর্কে রাজ্য সরকারকে পরামর্শ দেওয়া।
(ix) জেলার অধিবাসীদের অর্থ প্রদান করা।(x) গ্রাম্য হাটবাজারের মালিকানা অধিগ্রহণ ও রক্ষণাবেক্ষণ করা।
(xi) আর্তদের ত্রাণের ব্যবস্থা করা।
(xii) কোনাে প্রকল্প একাধিক ব্লকে বিস্তৃত থাকলে সেই প্রকল্পের দায়িত্ব গ্রহণ করা।
(xiii) ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গীয় টিকা আইনের ২৫ নং ধারায় বর্ণিত ক্ষমতা ব্যবহার করা।
(xiv) জেলার অন্তর্গত রাজ্য সরকারের মালিকানাধীন কিংবা রাজ্য সরকার কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত যেসব রাস্তা, সেতু, খাল, ঘরবাড়ির সম্পত্তির নিয়ন্ত্রণ পরিচালনার দায়িত্ব জেলাপরিষদের হাতে অর্পণ করলে সেই দায়িত্ব পালন করা।
(xv) পঞ্চায়েত সমিতির কোনাে প্রকল্প কর্মসূচিকে রূপায়িত করার জন্য রাজ্য সরকার কর্তৃক প্রদত্ত অর্থের সদ্ব্যবহার হল কি না তার পরীক্ষা করা।
(xvi) যে-কোনাে আনন্দ অনুষ্ঠানের জন্য অনুমতি দেওয়া এবং অর্থ আদায় করা।

আয়ের উৎস
(ক) রাজ্য সরকার কর্তৃক প্রদত্ত ভূমি রাজস্বের অংশ।(খ) কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান।(গ) পৃথকর ও পূর্তকর থেকে সংগৃহীত আয়।(ঘ) অভিকর, ফি প্রভৃতি থেকে সংগৃহীত অর্থ।(ঙ) জরিমানা, অর্থদণ্ড প্রভৃতি থেকে সংগৃহীত আয়।

মূল্যায়ন
গ্রামীণ স্বায়ত্তশাসনব্যবস্থার উন্নতির জন্য পঞ্চায়েতকে রাজ্য সরকারের ওপর নির্ভর করে থাকতে হয়। এর আয়ের উৎস সীমিত। তবে ১৯৯২ খ্রিস্টাব্দে পঞ্চায়েত আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। তা হল বিশিষ্ট আইনবিদ ও অর্থনীতিবিদদেরনিয়ে রাজ্য সরকার গ্রামীণ ব্যবস্থার উন্নতির জন্য একটি অর্থ কমিশন গঠন করতে পারবে। আশা করা যায় এই কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে জেলাপরিষদের আয়ের উৎস বৃদ্ধি পাবে।
অন্যান্য সামাজিক প্রতিষ্ঠানের মতাে পঞ্চায়েত ব্যবস্থার মধ্যেও দুর্নীতি আছে। তা সত্ত্বেও ড. অসিত কুমার বসুর মতে, “পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ব্যবস্থা গ্রামীণ জীবনের বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে”। শ্রীসুরেন্দ্র কুমার দে বলেছেন—পশ্চিমবঙ্গের গ্রামাঞ্চলে বসবাসকারী জনগণের জন্য পঞ্চায়েত যে সমস্ত কাজ করেছে তা সত্যই প্রশংসনীয়। গ্রামীণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য যে পরিকল্পনা দীর্ঘদিন আগে গ্রহণ করা উচিত ছিল, তা বর্তমান রাজ্য সরকার গ্রহণ করে এক আদর্শ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

প্রশ্ন ৪) গ্রামীণ স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থার মূল একক হিসাবে পঞ্চায়েত ব্যবস্থার একটি মূল্যায়ন রচনা করাে।
উত্তর : রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এবং সাধারণ চিন্তাশীল সকল মানুষের মধ্যে গণতন্ত্রে রাষ্ট্র শাসন করা যায় কিন্তু সমস্যা হল গণতন্ত্রে নানাবিধ রূপ ও প্রকারভেদ আছে তাই স্বভাবতই গণতন্ত্রের বিশুদ্ধ এবং আদর্শরূপটি সম্পর্কে মতপার্থক্য যথেষ্ট পরিমাণে লক্ষ করা যায়। গণতন্ত্রে বিশ্বাসীসকলেই দৃঢ়ভাবে বলেন যে গণসার্বভৌমিকতাই হল গণতন্ত্রের ভিত্তি। এখন প্রশ্ন হল কোন স্তর পর্যন্ত এই নীতিকে কার্যকর করা যেতে পারে। আমাদের দেশে স্বাধীনতা সংগ্রামের যুগেই জাতীয় নেতৃবৃন্দ মহাত্মা গান্ধির আদর্শকে অর্থাৎ ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের আদর্শকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। স্থানীয় স্বায়ত্তশাসনের যে ব্যবস্থা আমাদের দেশে স্থাপিত হয়েছে তা আসলে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের আদর্শের বাস্তবায়ন মাত্র।   
   এই ব্যবস্থার মাধ্যমে তৃণমূল স্তরে গণতন্ত্র সক্রিয় ও সজীব হয়ে উঠেছে।   ১৯৭৭ খ্রিস্টাব্দে বামফ্রন্ট সরকার প্রথম বার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় কার্যকরভাবে প্রাণ সঞ্জরে প্রয়াসী হয়। ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দে পঞ্চায়েত নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়। এরপর নিয়মিতভাবে ১৯৮৩, ১৯৮৮, ১৯৯৩, ১৯৯৮, ২০০৩, ২০০৮, ২০১৩, ২০১৮ খ্রিস্টাব্দে পঞ্চায়েত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। পঞ্চায়েত নির্বাচনগুলিতে যে বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনা গ্রামের সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিলক্ষিত হয়েছে তা নিরন্তরভাবে পঞ্চায়েতের কাজকর্ম যথারীতি সঞ্চারিত হয়েছে। ত্রিস্তর পঞায়েত ব্যবস্থাকে বলা যায় অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রের (Participatory democracy) এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এগুলি যেমন একদিক থেকে গ্রামীণ জনগণের নিজস্ব সরকার তেমনি আবার অন্যদিক থেকে এগুলি হল রাজ্যসরকারের এজেন্সি। পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত ব্যবস্থার মাধ্যমে একদিকে যেমন সামাজিক ও আর্থিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়েছে আবার অন্যদিকে রাজনৈতিক আধুনিকীকরণ (Political modernisation) অনেকাংশে সম্ভব হয়েছে।   
   ব্রিটিশ আমলে লৌহ কাঠামাে দিয়ে নির্মিত প্রশাসন ছিল বাস্তবে আমলাতান্ত্রিক প্রভুত্বের প্রতীক। তখন গ্রামীণ স্তরে যেসব তথাকথিত স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ছিল যেগুলি শুধুমাত্র ব্রিটিশ সরকারের জন্য রাজস্ব সংগ্রহ ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কাজকর্মের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ তাে দূরের কথা, তাদের মতামতের কোনাে মূল্যই ছিল না। বর্তমানে গ্রামীণ জীবনে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কাঠামাের পরিচালনার ক্ষেত্রে স্থানীয় মানুষের ভূমিকাই প্রধান। উন্নয়নের সমস্যাগুলিকে চিহ্নিত করা এবং অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে যেগুলির সমাধানের উদ্যোগী হওয়া ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ব্যবস্থার প্রধান দায়িত্ব। এর ফলে গ্রামীণ মানুষের আত্মবিশ্বাস ও সচেতনতা অনেকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।   
   পঞ্চায়েতের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের হাতে ক্ষমতা যেভাবে হস্তান্তরিত হয়েছে তার তাৎপর্য অপরিসীম। হায়দরাবাদের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ রুরাল ডেভেলপমেন্টের দ্বারা সম্পাদিত একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত প্রতিনিধিদের আশি শতাংশ দরিদ্র মানুষের মধ্যে থেকে এসেছে। পঞ্চায়েতের মাধ্যমে এই রাজ্যের অধিকাংশ খাস বা উদ্বৃত্ত জমি বণ্টনের কাজটি খুবই সাফল্যের সঙ্গে সম্পূর্ণ হয়েছে।
   আমরা বিশেষভাবে স্মরণ করতে পারি যে অপারেশন বর্গার ন্যায় একটি জনপ্রিয় এবং উল্লেখযােগ্য কর্মসূচিকে বাস্তবায়িত করার ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের পঞ্চায়েত সংস্থাগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দের ঐতিহাসিক বিধ্বংসী বন্যা এবং ১৯৮২ খ্রিস্টাব্দের অভূতপূর্ব খরাজনিত পরিস্থিতির মােকাবিলায় পঞ্চায়েত যেভাবে কাজ করেছিল তা অবশ্যই এক ঐতিহাসিক সাফল্যরূপে চিহ্নিত হয়ে আছে।
   পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অর্থনৈতিক সমীক্ষায় দেখা যায় যে ১৯৭৬-৭৭ খ্রিস্টাব্দে পশ্চিমবঙ্গে কৃষি শ্রমিকের গড় মজুরি ছিল ৫৬০ টাকা। কিন্তু পঞ্চায়েত গ্রামীণ কর্মযজ্ঞে বেতন ব্যবস্থা চালু করা পর ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে সেই মজুরি ৪১-৫০ টাকা এমনকি তখনই দক্ষিণবঙ্গের কোনাে জেলায় কৃষিশ্রমিকের মজুরি ৫০ টাকা হয়। বর্তমানে এই মজুরি বেড়ে ৬০ টাকা হয়েছে।   ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বনসৃজন কেবলমাত্র নথিভুক্ত সরকারি বনাঞ্চলের মধ্যে সীমিত ছিল। কিন্তু পরে বনসৃজন কর্মসূচিকে পঞ্চায়েতের কর্মকাণ্ডে ব্যাপকভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে মেদিনীপুর, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ার ন্যায় জেলাগুলিতে সামগ্রিকভাবে অরণ্যাঞ্চলের আয়তন বৃদ্ধি পেয়েছে। বনসৃজন ও বনরক্ষার কাজে পঞ্চায়েত বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।   
   আমরা যদি নিরাসক্তভাবে সাম্প্রতিককালে গ্রামীণ জনজীবনের দিকে দৃষ্টিপাত করি তাহলে যে বিষয়টি সকলের এবং বিশেষভাবে সমাজবিজ্ঞানীদের নজরে পড়েছে তা হল সাধারণ দরিদ্র জনগণের ক্রয়ক্ষমতার বৃদ্ধি। এর জন্য যে ইতিবাচক বিষয়গুলিকে চিহ্নিত করা যায় সেগুলি হল ভূমিসংস্কার, কৃষি উৎপাদন, বনসৃজন এবং কুটিরশিল্পের বিকাশ। নথিভুক্ত কুটিরশিল্পের সংখ্যা ১৯৭৬-৭৭ খ্রিস্টাব্দের তুলনায় বর্তমানে প্রায় চারগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থায় নানাবিধ আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার, মৎস্য চাষের বিকাশ, বিভিন্ন সামাজিক, কল্যাণকর কর্মসূচি এবং গ্রামীণ বৈদ্যুতিকীকরণ ইত্যাদির ক্ষেত্রে পঞ্চায়েত সংস্থাগুলির পশ্চিমবঙ্গে যে বিপুল সাফল্য অর্জন করেছে তা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশেষজ্ঞের প্রশংসা অর্জন করেছে।
ত্রুটি : পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েত ব্যবস্থার সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে গেলে স্বভাবতই তার ত্রুটিবিচ্যুতিগুলিকে আমরা উপেক্ষা করতে পারি না। এইসব ত্রুটিবিচ্যুতির মধ্যে অবশ্যই এমন কিছু বিষয় আছে যেগুলি আমাদের বর্তমান সমাজের অবক্ষয়ের সঙ্গে জড়িত। কিছু অজ্ঞতার কারণে এবং কিছুটা অসততার কারণে উন্নয়নের জন্য নির্ধারিত অর্থে যথাযথ ব্যবহার না হওয়াকে একটি সাধারণ সমস্যারূপে অভিহিত করতে পারি। এরই সঙ্গে স্বজনপােষণ, সামাজিক সংঘাত এবং নানাপ্রকার সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকে অনেক জায়গায় ব্যাহত করেছে।   
   সাধারণ প্রশাসনিক বিষয়গুলির যথাযথ পরিচালনা এবং অর্থনৈতিক বিষয়গুলির পরিচালনা উভয় ক্ষেত্রে প্রয়ােজনীয় পরিমাণে জ্ঞানের অভাবের জন্য পঞ্চায়েতের বিভিন্ন স্তরে কাজকর্মে ব্যাপক অসুবিধার সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প এবং বাজেট সঠিকভাবে প্রস্তুত করা, এবং হিসাবপত্র যথাযথভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করার ন্যায় কাজগুলির ক্ষেত্রে পঞ্চায়েতের সদস্যগণ ঠিকমতাে দক্ষতা প্রদর্শন করতে পারেননি। এই কারণে ঔদাসীন্য, অবহেলার অভিযােগে অনেক প্রধান, উপপ্রধান, পঞ্চায়েতের সভাপতি, সহ-সভাপতি এবং আরও অনেককে তাদের দায়িত্ব থেকে অপসৃত করা হয়েছে।

প্রশ্ন ৫) জেলা প্রশাসনের মূল্য বৈশিষ্ট্য আলােচনা করাে।
উত্তর : আধুনিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানীগণ মনে করেন যে রাষ্ট্রের অধিকার-ক্ষেত্রগত বিভাজন (Juris dictional partitioning of the state) যে মূল বিষয়টির উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে তা হল এটাই যে সাম্প্রতিককালের রাষ্ট্রগুলিকে বিশেষত উদারনৈতিক গণতন্ত্রে বিশ্বাসী রাষ্ট্রগুলিতে শাসনযন্ত্রের স্থানীয় কর্মকর্তাদের জনকল্যাণের নানাবিধ উপাদানের ব্যবস্থা করতে হয় এবং বিভিন্ন প্রাকৃতিক, ঐতিহ্যগত, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কারণে স্থানীয় মানুষদের যাদের একটি স্বতন্ত্র সত্তা গড়ে ওঠে বিশেষ আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতি প্রশাসনকে সুবিচার করতে হয়। আমরা সহজেই উপলব্ধি করতে পারি যে, সমগ্র রাষ্ট্রের প্রশাসনিক ক্রিয়াকলাপের চরিত্র ও রূপ একরকম হতে পারে না। স্থানীয় এবং আঞ্চলিক ভিত্তিতে বিচার করলে অনেক ধরনের বৈচিত্র্য আমাদের চোখে পড়ে। ড. সুকুমার দাম তার District Administration in West Bengal গ্রন্থে জেলাগুলিকে বৈচিত্র্য অনুসারে ৫টি ভাগে বিভক্ত করেছেন।
1. গ্রামীণ জেলা (Rural Districts)
2. শিল্পোন্নত জেলা (Industrial Districts)
3. face (Gel (Mixed Districts)
4. নগর জেলা (City Districts)
5. বিশেষ জেলা (Special Districts)   বলা বাহুল্য এই রাজ্যের অধিকাংশ জেলাই হল গ্রামীণ জেলা। উত্তর চব্বিশ পরগনা ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা ও বর্ধমান মিশ্র জেলা, কারণ এগুলিতে কিছু অংশে শিল্প ও কিছু অংশে কৃষির প্রাধান্য প্রত্যক্ষ করা যায়। কতকগুলি জেলা যেমন হাওড়া ও হুগলি শিল্পপ্রধান। আবার কিছু জেলার জনসংখ্যাগত বিন্যাস (Demographic pattern) লক্ষ করলে আমরা দেখি যে তফশিলি জাতি, আদিবাসী ও পাহাড়ি উপজাতির আধিক্য জেলাগুলিকে বিশেষ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী করেছে। উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও কোচবিহার ও দক্ষিণবঙ্গের পুরুলিয়াকে বিশেষ জেলা বলা যায়। অনেকে আবার পার্বত্য জেলা ও অনুন্নত জেলার কথাও বলেন। মূলত ভৌগােলিক কারণে পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং এবং উত্তরাঞ্চলের গাড়ােয়াল ও কুমায়ুন পার্বত্য জেলারূপে স্বতন্ত্র চরিত্রের অধিকারী। আবার প্রতিটি রাজ্যে কিছু জেলা অবশ্যই অনুন্নত ও সেই কারণে বিশেষ সুবিধা দাবি করতে পারে। সমস্যার দিক থেকেও যে ব্যাপক বৈচিত্র্য থাকবে তা সহজেই অনুমান করা যায়। বাঁকুড়ায় যদি জেলা প্রশাসনের মূল চিন্তা হয় দলমার হাতির দলকে উৎখাত করা বা তাদের প্রতিহত করা। জলপাইগুড়ির প্রশাসনের প্রধান সমস্যা হল বন্ধ চা বাগানগুলিকে কীভাবে খােলা যায়। মালদহে যখন গঙ্গা নদীর ভাঙন প্রশাসনকে নিয়ত ব্যতিব্যস্ত করছে তখন হয়তাে বাঁকুড়ায় খরা চলছে।   
জেলা প্রশাসনের একটি মৌল বৈশিষ্ট্য হল যে এটি ক্ষেত্রগত প্রশাসনের (Area Administration) প্রাথমিক প্রশাসনের দৃষ্টান্ত।   
   সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ এককরূপে জেলার বিশেষ মর্যাদা ও স্থান ব্রিটিশ শাসনের প্রারম্ভিক পর্বেই নির্ধারিত হয়। বস্তুতপক্ষে দুশাে বছরের দীর্ঘ প্রশাসনিক ক্রমবিকাশের পরিমাণে জেলাপ্রশাসনের গুরুত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। মূলত প্রথম পর্বে রাজস্ব সংগ্রহের সুবিধার জন্য এই ক্ষেত্রগত বিভাজন ব্যবস্থার প্রবর্তন হয়েছিল। পরে তা সার্বিক প্রশাসনের ক্ষেত্রে সম্প্রসারিত হল।   
   আমাদের লক্ষ্য করা দরকার যে, ভূখণ্ডের আয়তন ও জনসংখ্যার ভিত্তিতে প্রশাসনকে কার্যকর ও সুবিধাজনক করতে হলে জেলাই হল সবচাইতে আকাঙ্ক্ষিত একক (Optimum Unit) প্রশাসনিক ক্ষেত্র হিসাবে জেলার আয়তন খুব বেশি নয়। আবার তা খুব ছােটোও নয়।
   ক্ষেত্রগত প্রশাসন (Area Administration) বলতে বােঝায় রাজ্য সরকার বা কেন্দ্রীয় সরকারের দ্বারা সুনির্দিষ্ট ভৌগােলিক সীমানায় আবদ্ধ স্থানীয় ও আঞ্চলিক সংস্থাগুলিকে দায়িত্ব ও কর্তৃত্বের অর্পণ। মনে রাখা প্রয়ােজন যে এই অর্পণের অর্থ দায়িত্ব ও কর্তৃত্বের ত্যাগ বা হস্তান্তর নয়। এটি নিছক প্রশাসনিক ব্যবস্থা মাত্র।

আই. এ. এস. অফিসারদের প্রশিক্ষণ ক্ষেত্ররূপে জেলা প্রশাসন 
জেলা প্রশাসনের আর একটি বৈশিষ্ট্য হল যে এটি হল ভারতীয় জনপালন কৃত্যক (Indian Administrative Service)-এর প্রবেশপ্রাপ্ত নবীন সদস্যদের training ground অর্থাৎ প্রশিক্ষণ ক্ষেত্র। এক সময় দেখা যেত I.A.S.-এর নবীন সদস্যদের জন্য জেলা প্রশাসনের প্রধান অর্থাৎ জেলাশাসকের পদটি একচেটিয়াভাবে ব্যবহৃত হত। আমরা বলতে চাই যে স্বাধীনতার পরে বেশ কিছু কাল পর্যন্ত আই.এ.এস, থেকেই জেলাশাসকদের নিয়ােগ করার রেওয়াজ বা রীতি ছিল। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন রাজ্যে রাজ্য জনপালন কৃত্যকের সদস্যদের মধ্য থেকে এই পদে ব্যাপকভাবে নিয়ােগ করা হয়। এদের মধ্যে কিছু কিছু ক্ষেত্রে যারা প্রবীণ ও অভিজ্ঞ তাদের LA.S.-মনােনীত করা হয়। এর অর্থ তাদের পদোন্নতি ঘটে।   
   জেলা প্রশাসনের আর একটি বৈশিষ্ট্য হল এটি হল জাতি গঠন (Nation building) সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর মাধ্যম। জেলার অধিবাসীগণ জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে নিজেদের সমগ্র রাষ্ট্রের সঙ্গে একাত্ম হওয়ার ভাবনাকে কার্যকর করতে পারে। তারা অনুভব করে যে সমগ্র রাষ্ট্রের প্রশাসন ব্যবস্থা জেলার শাসক এবং অন্যান্য বিভাগীয় আধিকারিকদের মাধ্যমে তাদের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে উপস্থিত রয়েছে।

কাঠামােগত বৈশিষ্ট্য   
জেলা আধিকারিককে তার নানাবিধ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সাধারণভাবে বেশ কয়েকজন ডেপুটি কালেক্টর (Deputy Collector) সাহায্য করেন। এদের সংখ্যা সচরাচর ছয় বা সাতের বেশি হয় না। এরা বিভিন্ন বিষয় বা বিভাগের নিয়ন্ত্রণ করেন। অস্ত্র, আইন, ত্রাণ, সার্টিফিকেট প্রদান ইত্যাদি বিভাগগুলির প্রধানরূপে ডেপুটি কালেক্টরগণ তাদের দায়িত্ব পালন করেন।   
   জেলা প্রশাসনের কাঠামােগত বৈশিষ্ট্য প্রসঙ্গে আমরা আরও লক্ষ করি যে বেশ কয়েকটি বিভাগের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে জেলা স্তরের বিভাগীয় আধিকারিকগণ জেলাশাসকের তত্ত্বাবধানে থেকে তাদের কার্য সম্পাদন করেন। উদাহরণস্বরূপ আমরা কয়েকটি বিভাগের উল্লেখ করতে পারি। খাদ্য ও সরবরাহ (Food and Supply) সমাজকল্যাণ (Social Welfare) পঞ্চায়েত (Panchayet) পরিসংখ্যান (Statistic) ইত্যাদি বিভাগের জেলা আধিকারিকগণ জেলাশাসকের নিয়ন্ত্রণে থেকে কাজ করেন। বিখ্যাত প্রশাসন-বিশারদ ড. পি.সি. মাথুর বলেছেন জেলা প্রশাসনের উন্নয়নমুখী চরিত্রের কারণে এবং জেলাশাসককে প্রধান জেলা উন্নয়ন আধিকারিকরূপে গণ্য করার জন্য এটাই স্বাভাবিক হয়েগেছে যে অন্যান্য নানা বিভাগের প্রধান আধিকারিকগণ সবাই শেষ অবধি জেলাশাসকের অধীনে থেকেই কাজ করবেন। জেলাশাসক হলেন “Captain of the team of the officials stationed at the district-level’.   
   কিছু কিছু বিভাগের ক্ষেত্রে আমরা প্রত্যক্ষ করি যে জেলা আধিকারিকগণ তাদের নিজ নিজ বিভাগস্থ ক্ষেত্রীয় কর্মীদের প্রধানরূপে দায়িত্ব পালনের ক্ষমতার অধিকারী কিন্তু কয়েকটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে তারা নিজেরা সংশ্লিষ্ট জেলার জেলাশাসকের অধীনে অবস্থান করেন। এই শ্রেণির মধ্যে আছেন পুলিশ প্রধান (Superintendent of Police) পূর্ত বিভাগের কার্যনির্বাহ বাস্তুকার (Executive Engineer) সমবায় সমিতির সহকারী রেজিস্টর (Assistant Registrar of Co-operative Societies) ইত্যাদি।   
   আবার এমন কিছু আধিকারিক জেলা স্তরে আছেন যারা কোনােভাবে জেলাশাসকের নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। শ্রম আধিকারিক (Labour Conunissioner) বিক্রয় কর আধিকারিক (Sales Tax Officer) ইত্যাদি।   
   তবে সামগ্রিকভাবে আমাদের মনে রাখতে হবে যে জেলার প্রধান শাসক হিসাবে জেলাশাসক (District Magistrate of District Collector) জেলার অন্যান্য বিভাগীয় প্রশাসকদের সঙ্গে একটি আন্তঃসম্পর্কের ঠাস-বুনন (Net-work) প্রতিষ্ঠা করেন।

কুইজ সেট

1. পশ্চিমবঙ্গে ন্যায় পঞ্চায়েতের অস্তিত্ব
(A) রয়েছে
(B) নেই


2. পশ্চিমবঙ্গের পৌরসভাগুলিকে __________ টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়।
(A) ৩
(B) ৫
(C) ৬

3. __________ স্বায়ত্তশাসনের লক্ষ্য।
(A) কেন্দ্রীকরণ
(B) বিকেন্দ্রীকরণ

4. সুশাসন স্বায়ত্তশাসনের বিকল্প হতে
(A) পারে
(B) পারে না

5. পৌরসভা সর্বাধিক __________ জন সদস্য নিয়ে গঠিত।
(A) ২০
(B) ৩০
(C) ৪০

6. পঞ্চায়েত সমিতির কার্যনির্বাহী অফিসার হলেন
(A) বি.ডি.ও.
(B) এস.ডি.ও.

7. মন্ত্রীরা পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য হতে
(A) পারেন
(B) পারেন না

8. পঞ্চায়েত সমিতির কার্যকালের মেয়াদ হল __________ বছর।
(A) ৫
(B) ৬
(C) ৭

9. পঞ্চায়েত ব্যবস্থার ___________ স্তরে জেলাপরিষদের অবস্থান।
(A) প্রথম
(B) দ্বিতীয়
(C) তৃতীয়

10. __________ জন সদস্য নিয়ে ন্যায় পঞ্চায়েত গঠিত হতে পারে।
(A) ৫
(B) ৭
(C) ১০

11. বর্তমানে __________ বছর বয়স্ক নাগরিক পৌরসভার নির্বাচনে ভােট দিতে পারেন।
(A) ১৮
(B) ২১
(C) ২৫

12. বর্তমানে __________ বছর বয়স্ক নাগরিক পৌরসভার নির্বাচনে ভােট দিতে পারেন।
(A) কমিশনার
(B) কাউন্সিলার

13. পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে __________ বিশিষ্ট পঞ্চায়েত রয়েছে।
(A) ত্রিস্তর
(B) চার-স্তর

14. গ্রামপঞ্চায়েতের সভায় সভাপতিত্ব করেন __________
(A) প্রধান
(B) সভাপতি
(C) সভাধিপতি

15. পঞ্চায়েত ব্যবস্থার দ্বিতীয় স্তরে __________ অবস্থান।
(A) গ্রামপঞ্চায়েত
(B) পঞ্চায়েত সমিতির

16. জনস্বাস্থ্য সংরক্ষণ করা গ্রাম পঞ্চায়েতের __________ কর্তব্য।
(A) অবশ্য পালনীয়
(B) অন্যান্য
(C) ইচ্ছাধীন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

12 + 16 =